বাংলাদেশের প্রায় তিন লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন। ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ডিমেনশিয়াবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সম্মেলনটির আয়োজন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশন।
সম্মেলনে বলা হয়, ডিমেনশিয়া মূলত বার্ধক্যজনিত রোগ। ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণ স্মৃতি হারিয়ে ফেলা। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না। বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারেন না, বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোগটির একপর্যায়ে রোগী পরিবারের ও বন্ধুদের নাম ভুলে যান, আপনজনদের চিনতে পারেন না, নিজের ঘর চিনতে পারেন না, হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং আর পথ চিনে বাড়ি ফিরতে পারেন না।
সম্মেলনের একটি অধিবেশনে কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ভিজিটিং ফেলো ও ডিমেনশিয়া বিশেষজ্ঞ ফ্র্যাংক জে শেপার বলেন, গোটা বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এ রোগটি সারে না। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো এর ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ডিমেনশিয়ার রোগীর একমাত্র চিকিৎসা সমর্থন ও সহানুভূতি।’
আয়োজক সংগঠনের দেশীয় পরিচালক জীবন কানাই দাস বলেন, ডিমেনশিয়া সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম। ঢাকা ও সিলেটে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে বলা যায়, দেশে প্রায় তিন লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ এস এম আতিকুর রহমান বলেন, ডিমেনশিয়া রোগটি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বাংলাদেশকে সতর্ক হতে হবে। তিনি বৃদ্ধদের ভাতা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আরও সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সম্মেলনে জানানো হয়, স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশন ঢাকা ও সিলেটে প্রশিক্ষিত সেবিকাদের মাধ্যমে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

