পেঁপের বীচি যা খাওয়ার উপযোগী নয় বলে মনে করা হয় যা মানুষ ছুঁড়ে ফেলে দেয়, সেই পেঁপের বীচি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আশ্চর্য ফল দেবে। আধা চামচ পেঁপের বীচি খাওয়া আর পেঁপে খাওয়া এক নয়। বীচিতে একধরনের গন্ধ আছে যা সরিষা আর কাল গোল মরিচের গুঁড়ার মাঝামাঝি মনে হবে। এটা যদি আপনি মানিয়ে নিয়ে অল্প পরিমানে আপনার খাবার তালিকায় রাখেন তাহলেই আপনি পেতে পারেন বিস্ময়কর ফল।
কৃমি ও অন্যান্য পরজীবী নিয়ন্ত্রণে পেঁপের বীচি
কাঁচা পেঁপের মতই পেঁপের বীচিতে আছে উচ্চ মাত্রার ‘প্যাপিন’ এর মত পদার্থ ‘প্রোটিওলাইটিক এনজাইম’ – যা কি না পরজীবী থেকে দেহকে মুক্ত রাখে। ঠিক একইভাবে ‘প্যাপিন’ খাদ্যের আমিষ বর্জ্য ভেংগে দেয় সেই সাথে পরজীবী ও তাদের ডিমকেও ভেংগে দেয়। মানসম্মত মাত্রার পরিপাক এনজাইম অন্ত্রনালীকে স্বাভাবিক রাখে এবং অন্ত্রনালীতে কৃমি ও অন্যান্য পরজীবীর বাসকে কঠিন করে তোলে। পেঁপের বীচিতে আরো আছে কৃমিনাশক এলকালয়েড ‘কারপেইন’ যা পরজীবী কৃমি ও এমিবা নাশে খুবই কার্যকর।
লিভার সিরোসিস বা যকৃতের পঁচন চিকিৎসায় পেঁপের বীচি
লিভার সিরোসিস এক ধরনের রোগ যা সাধারনত অনেক বছর ধরে যকৃতের কোন জটিল রোগ বা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হতে পারে। এতে লিভার বা যকৃত সংকুচিত হয়ে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে নানাবিধ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।
পেঁপের বীচি এই লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় কার্যকরী বলে প্রমানিত। খাওয়ার পদ্ধতিগুলোর একটি হচ্ছেঃ প্রতিদিন পাঁচটি শুকনো পেঁপের বীচি পিষে গুঁড়ো করে তার সাথে এক চামচ টাটকা লেবুর রস মিশান। এরপর দিনে দু’বার করে অন্ততঃ একমাস খেতে হবে। বহু লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগী এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির চিকিৎসায় আশ্চর্য ফল লাভ করেছেন।
তবে তার আগে অতি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষত যখন ‘প্যাপিন’ অন্যান্য ঔষধ শোষনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। লিভার সিরোসিসের রোগী ছাড়াও সুস্থ লোকেরাও লিভারকে বিষমুক্ত রাখতে পেঁপের বীচি খেতে পারেন। আর লিভার সুস্থ থাকা মানে শরীর সুস্থ থাকা।
ব্যাকটেরিয়া বিরোধী উপাদান
মনে করা হয় পেঁপের বীচিতে এন্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিইনফ্লামেটরি উপাদান আছে যা পরিপাক ক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। গবেষনায় দেখা গেছে পেঁপে বীচির নির্যাস ই-কোলাই, সালমোনেল্লা, স্ট্যাফাইলোসহ অন্যান্য মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ধংস করে। অন্যদিকে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কোন ক্ষতি করে না।
সতর্কতা
গর্ভবতি মায়েদের জন্য পেঁপের বীচি খাওয়া যাবে না। এমনকি এনজাইম সম্মৃদ্ধ কাঁচা পেঁপেও না। অন্যান্য প্রানিদেহের উপর প্রয়োগকৃত পরীক্ষায় দেখা যায় যে এটি বেশি মাত্রায় খেলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই এটি একনাগাড়ে কয়েক মাস না খেয়ে নিয়মিত বিরতিতে খেলে কাংখিত মাত্রায় উপকার পাওয়া যাবে।
পেঁপের বীচিতে যেহেতু উচ্চ মাত্রার কারপেইন, ‘প্যাপিন’ সহ অন্যান্য পরিপাকীয় এনজাইম থাকে তাই একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমানে খাওয়ার দরকার নেই। বরং পেঁপে খাওয়ার পর বীচিগুলো পরিস্কার করে শুকিয়ে কৌটায় ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন যাতে প্রয়োজনমত বের করে খেতে পারেন।

