home top banner

Health Tip

মুখের কালো দাগের চিকিৎসা
08 October,13
Tagged In:  skin care  
  Viewed#:   645

মুখের কালো দাগ বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে দাগ বলতে আমরা কেবল মেছতাকেই বুঝি। মেছতা ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের কালো দাগ মুখে হতে দেখা যায় নানা রোগের কারণে। প্রথমেই মেছতার কথায় আসা যাক_ মেছতা সাধারণ কালো বা বাদামি রঙের দাগ, যা মুখম-লের যে কোনো স্থানেই হতে পারে। মেছতা সাধারণত মেয়েদেরই বেশি হয়ে থাকে। মেছতা হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হরমোনের তারতম্য জনিত কিছু রোগ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্থা এবং সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ইত্যাদি কারণে মেছতা হতে ও যাদের সামান্য মেছতা আছে তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। মেছতার ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব ও বিদ্যমান।

যাদের পূর্ব সূরিদের মধ্যে মেছতা থাকে তাদের উত্তর সূরিদের মধ্যে এর প্রভাব ঝুঁকিথাকে খুবই বেশি। সূর্যরশ্মির প্রভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো মেছতার গাঢ়ত্ব সূর্যরশ্মির প্রভাবে বেড়ে যায়। তাই সূর্যরশ্মির আলো সব সময় এড়িয়ে চলতে হবে। আর যদি সূর্যের আলোতে যেতেই হয় তাহলে মুখ ঢেকে যেতে হবে। সেটা হতে পারে একটি ছোট্ট ছাতা, কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা কিংবা সানস্ক্রিন লোশনবা ক্রিম ব্যবহার করলেও সূর্যের অতি বেগুনি প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায়।অনেকে আবার ভাবেন সূর্যরশ্মির মতো চুলার আগুনে এর ক্ষতি হয়। ধারণাটি সম্পূর্ণই ভুল। চুলার আগুনের তাপে মেছতার কোনো ক্ষতি হয় না। মনে রাখতে হবে, মুখের সব কালো দাগই মেছতা নয়। মেছতার ক্ষেত্রে কোনো রকম উপসর্গ থাকে না এবং চুলকাও না। শুধু দেখতে যা অসুন্দর লাগে।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য ভীষণ মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। মুখের ত্বক খুবই নাজুক, তাই মেছতার চিকিৎসার ব্যাপারে চর্মরোগ বিশেষভাবে পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা করা উচিত। যাদের মেছতা আছে তারা রোদে যাওয়ার আগে সূর্যের রশ্মিকে এড়াতে সানস্ক্রিন বা লোশন লাগাবেন। এছাড়া ইতোমধ্যেই যারা মেছতাই ভুগছেন তারা ২ শতাংশ হাইড্রোকুইনন ক্রিম ব্যবহার করে দাগ দূর করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, যে কারণে এ দাগ হয়েছে তার কারণ দূর করা না হলে মেছতা সেরে গিয়ে আবার হতে পারে। তবে এ কথাও ঠিক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেছতার কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

মুখের কালো দাগ আবার কিছুসংখ্যক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমেও হতে পারে।যেমন_ সোরালিন, আর্সেনিক, এন্টিএপিলেপ্টিক, ফেনোথায়াজিন ইত্যাদি। কিছু কিছু হরমোন গ্রন্থির রোগ যেমন-এডিসনস ডিজিস, হাইপারথাইরয়েডিজম ইত্যাদি রোগের কারণেও দাগ তৈরি হতে পারে। ফ্রিকলস নামে একটি রোগ প্রায় দেখা যায়। সাধারণত এটি কম বয়সেই শুরু হয়ে শরীরের যেসব খোলা অংশে সূর্যের আলো পড়ে যেমন-মুখ ও হাত ইত্যাদি স্থানে ১ থেকে ৬ মিলিমিটার সাইজের অসংখ্য সংখ্যায় ছোট ছোট কালো দাগ বা বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। ফ্রিকেল নিয়ে রোগে চলাচল করলে এ দাগ আরো কালো হতে থাকে। তাই মুখে যাদের ফ্রিকেলযুক্ত দাগ আছে তারা রোদে গেলেই অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করে নেবেন রোদে যাওয়ার আগে।

লেন্টিগো নামে আরো একটি রোগ আছে, যার কারণে মুখে কালচে ও বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। এ দাগ ফ্রিকেলের মতো পরিমাপে অসংখ্য হয় না এবং এ দাগ রোদে গেলে বাড়েও না।যদিও ফ্রিকেল নিয়ে রোদে গেলে দাগের গাঢ়ত্ব বাড়তে থাকে। আয়তনের দিক দিয়েও দাগগুলো একটু বড় হতে পারে। অর্থাৎ কয়েক মিলিমিটার থেকে সেন্টিমিটার পর্যন্ত সাইজের হতে পারে। ফ্রিকেল যেমন শুধুই শরীরের অনাবৃত অংশে হয়, লেন্টিগোকিন্তু তেমন নয়। আবৃত-অনাবৃত অংশেই হতে পারে। ন্যাভাস ও ম্যালনোমা নামে আরো দুটি রোগ আছে, যার কারণে মুখ বা শরীরে কালো বা বাদামি রঙের দাগ হতে পারে।কয়েক ধরনের ন্যাভাস আছে- যার মধ্যে জাংসানাল, ন্যাভাস দেখতে ফ্রিকেল আরলেন্টিগোরই অনুরূপ। সাধারণ ন্যাভাস ক্ষতিকারক হয় না, তবে ডেসপ্লাস্টিকন্যাভাস হলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।


ম্যালানোমা কখনো কখনো কালো দাগ নিয়ে মুখে উঠতে পারে, যা সব সময় নির্ণয় ওচিকিৎসা গ্রহণে ব্যর্থ হলে জীবনের ওপর ঝুঁকি চলে আসতে পারে। সেবোরিকক্যারাটোসিস নামে আরো একটি চর্মরোগ আছে, যা মুখে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেওমুখে কালো বা বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। হঠাৎ করে দেখা দেয়া এবংক্রমান্বয়ে বড় হওয়ার কারণে অনেকেই আবার এটাকে ত্বকের ক্যান্সার বলে ধারণাকরেন। এছাড়া আরো কিছু কিছু রোগ আছে, যার কারণে মুখের ত্বকের গায়ে কালো রঙদেখা দেয়। তাই সব ক্ষেত্রে এটাকে হালকাভাবে না নিয়ে উপযুক্ত ডাক্তারেরশরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।


সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ফিলিপাইনে ‘হাস্য যোগব্যায়াম’ মনঃকষ্ট কমায় ক্যান্সার রোগীদের
Previous Health Tips: প্রশ্ন:নবজাতকের জন্ডিস হলে রোদে দেওয়া কি উপকারী?

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')