ফিলিপাইনের কোনো হাসপাতালে আপনারা যদি একসঙ্গে অনেকের হাসি শোনেন, তাহলেঅবাক হবেন না। কারণ সেখানে একদল ক্যান্সার রোগী এক ধরনের 'হাস্যযোগব্যায়াম' অনুশীলন করছেন। রোগীরা বলছেন, অনুশীলনের এক পর্যায়ে অধিকাংশেররোগ কিছুটা উপশম হয়, তাদের জীবন খানিকটা সহজ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি গণচিকিৎসাকেন্দ্রের ক্যান্সাররোগীরা এক ধরনের 'হাস্য যোগব্যায়াম' চর্চা করছেন, যেটা রোগীদের মানসিক চাপও মনঃকষ্ট কমায়, জীবনযাপন সুশৃঙ্খল করে এবং জীবনের প্রতি আশা বাড়ায়। এধরনের চর্চা আসলে হাসি ও যোগব্যায়ামের সমন্বয়। ফলে রোগীর মানসিক ও শারীরিকস্বাস্থ্যের জন্য সেটা উপকারী।
ম্যানিলার ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীরা হাস্য যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষণ নেন।তারা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে হাসির চর্চা করেন। এছাড়া তারা কিছু মজারক্রিয়াকলাপ করার পাশাপাশি আশেপাশের অংশগ্রহণকারীদের জন্য আনন্দ বয়ে আনেন।
হাস্য যোগব্যায়ামের প্রতিষ্ঠাতা পল ট্রিনিদাদ মনে করেন, রোগ নিরাময়ে ১০ মিনিটের হাস্য সবচেয়ে ভাল ওষুধের সমান কার্যকর।
তিনি বলেন, "হাসি হচ্ছে চাপ প্রশমিত করার প্রাকৃতিক অমোঘ অস্ত্র। শুধুহাস্যের মাধ্যমে আপনি নিজের মানসিক চাপ কমাতে পারেন। আমরা জানি যে, মানুষেরপ্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত রোগ মানসিক চাপ থেকে সৃষ্টি হয়। সুতরাংআমরা শুধু রোগীদের হাসি চাই। এর মাধ্যমে তাদেরকে চাপ ও ক্যান্সারের কষ্টউপশমে সাহায্য করা যায়।"
ডাক্তারদের মতে, হাস্য যোগব্যায়াম ওষুধের বিকল্প নয়, কিন্তু এ ধরনের চর্চাসত্যিই ক্যান্সার রোগীদেরকে মানসিক চাপ কমাতে এবং হতাশা থেকে মুক্তি দিতেসাহায্য করে।
এ সম্পর্কে অঙ্কলোজিস্ট আওয়ানা জাভিয়ের বলেন, "হাস্য যোগব্যায়াম ওষুধেরবিকল্প হতে পারে - এ ধরনের স্পষ্ট উপাত্ত যদিও নেই, তবে ক্যান্সার রোগীদেরজন্য হাসি নিশ্চয়ই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়হচ্ছে হাসির আবেদন। আপনার হাসি অন্য কারোর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কোনো মাধ্যমেরদরকার নেই। হাসির নিজের গভীর আবেদন আছে এবং কোনো পারস্পরিক যোগাযোগ দরকারহয় না। হাসির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আমার মনে হয়, এসব সাধারণইতিবাচক উপাদানের কারণেই পশ্চিমা দেশগুলোতে হাসি বিনা খরচার প্রতিকারহিসেবে দেখা হয়।"
ক্যান্সার রোগী অ্যানিটা ফেইলার হচ্ছেন সে চিকিত্সাকেন্দ্রের একজন রোগী।তিনি 'হাস্য যোগব্যায়ামের' কার্যকারিতায় সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "এটা খুবই আরোপিত। হাস্য যোগব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা নিষ্ক্রিয় ধাঁধা থেকেমুক্তি পেয়েছি। এটা আমার অনুভূতি।"
সবেমাত্র শল্যচিকিৎসা নেয়ার কারণে আরেকজন ক্যান্সার রোগী, টেরেসিটাপেলাটা, কেবল দূর থেকে এ ধরনের চর্চা দেখতে পারেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, তার পরিবারের সদস্যের জন্য এ ধরনের মজাদার চর্চা সত্যিই প্রয়োজনীয়। তিনিবলেন, "আমার মনে হয় হাস্য যোগব্যায়াম আমাদের জন্য খুবই দরকারি। আসলে আমারস্বামীর জন্য এটা সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। মাঝেমাঝে তিনি খুব বিষণ্ণ হয়ে যান।হাসপাতালটির আগামী প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হওয়ার সময় আমি নিশ্চয়ই আমারস্বামীর সঙ্গে আসবো এখানে।"
হাস্য যোগব্যায়াম এই চিকিৎসাকেন্দ্রের ক্যান্সার রোগীদের জন্য আয়োজিতপ্রথম পর্যায়ের ক্রিয়াকলাপ। ডাক্তাররা এখন চিন্তা করছেন ক্রিয়াকলাপ আরোবেশি বাড়িয়ে রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করা মানুষদের জন্য আশার আলো সঞ্চার করবেন।সূত্র: সিআরআই।
সূত্র - natunbarta.com

