ভাল দিকসমূহ
১. জবাবদিহিতা করতে হয় না
একক ভাবে সন্তান পালনকারীর অন্যতম একটি ভাল দিক হল সে এবং তার সন্তান কি করছে তা সম্পর্কে অন্য কাউকে কোনরূপ জবাবদিহিতা করতে হয় না। তারা যেখানে খুশি যেতে পারে এবং যা চায় তা করতে পারে কারণ কৈফিয়ত চাওয়ার মত অন্য কেউ সেখানে থাকেনা।
২. নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে
একক সন্তান লালনকারী কারও প্রতি কোন প্রকার দায়বদ্ধ না থেকেই স্বাধীনভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত অন্যদের থেকে দ্রুত নিতে পারে। যখন একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার সময় হয় তখন সাধারনত পিতা মাতা উভয়ের পরামর্শের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে দেখা যায়। এককভাবে সন্তান লালনকারী একা নিজেই এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৩. তার নিজের এবং সন্তানের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসতে মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ থাকে না
দৈনন্দিন সাংসারিক জীবনের খুঁটিনাটি ব্যাপারে পিতা মাতার মধ্যে প্রায় সময়েই দ্বন্দ্ব সংঘাত চলতে দেখা যায় যা শিশুর মানসিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। এ ধরনের আশংকা থেকে এককভাবে সন্তান লালনকারী একেবারে মুক্ত।
৪. যখন অন্যেরা মন্তব্য করে শিশুটি কত সুন্দর/ভদ্র, তখন আপনি জানেন এটা কেবল আপনারই কৃতিত্ব
আপনি নিশিন্ত মনে থাকতে পারেন যে আপনার শিশুর সকল ভদ্র আচরণই আপনার কৃতিত্ব।
৫. আমার সকল স্নেহ এবং ভালবাসা কেবল সন্তানের জন্য
একক লালনকারী হিসাবে শিশুর নিকট আপনিই সবকিছু। আপনার শিশুর সকল স্নেহ এবং ভালবাসা কেবল আপনার জন্যই, অন্যথায় তা হয়ত আপনি এবং আপনার সঙ্গীর মধ্যে ভাগ হয়ে যেত।
মন্দ দিকসমূহঃ
১. কাঁধের উপর বিশাল দায়িত্ব
একজন একক লালনকারী হওয়াটা এক ব্যাপক দায়িত্বশীলতার ব্যাপার, যা সিদ্ধান্ত আপনি নেন, ভাল বা মন্দ, তা কেবলমাত্র আপনার নিজেরই। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সতর্ক হতে হয় কারণ একটি ভুল সিদ্ধান্ত বেশ বিপদজনক হতে পারে।
২. পিতা বা মাতার সমস্যা হলে তা সন্তানেরও সমস্যা
একক লালনকারী বিশিষ্ট পরিবারে শিশু কেবল পিতা বা মাতা যেকোনো একজনের উপর নির্ভরশীল। যদি একজন একক লালনকারী কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হয়, তখন সে যেভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে শিশুকেও তার সাথে সাথে ঐ পরিস্থিতির সামনে পরতে হয়। এতে শিশুর জন্য ভীতিপ্রদ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং এর সাথে তার জীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব পরতে পারে।
৩. প্রয়োজনের সময় শিশু পিতা বা মাতার বিকল্প কাউকে পায় না
অনেক সময় একক লালনকারী পিতা বা মাতা কোন কারনে ব্যাস্ত থাকে কিন্তু হয়তো তখন শিশুর পিতা বা মাতাকে প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর জন্য এটা একটা বড় ধরণের সমস্যা।
৪. সম্পর্কের অগভীরতার গুরুত্ব সাধারণত একক লালনকারী কর্তৃক স্বীকৃত হয় না
দরিদ্র একক লালনকারী পরিবারে শিশু সম্পর্কের অগভীরতাকে বড় করে দেখতে পারে। এছাড়াও একক লালনকারীর মধ্যে এ বিষয়টি অবহেলা করার প্রবনতা দেখা যায়। এ ধরণের দৃশ্যপটে শিশুরা সহজেই কষ্ট পেতে পারে।
৫. পিতামাতা উভয় সম্বলিত পরিবারের শিশুর অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়ে থাকে।
পিতামাতা উভয়ের উপস্থিতি শিশুর মধ্যে আরও বেশী নিরাপত্তার অনুভুতি এনে দেয়। অনেক সময় তারা এটা বোধ করে একজনের চেয়ে পিতামাতা উভয় থাকলে বেশী ভাল হয়।

