মাশরুমের (ব্যাঙের ছাতা) উৎপাদন, ব্যবহার এবং গ্রহণযোগ্যতা কোনোটাই আমাদের দেশে বৃদ্ধি না পেলেও উন্নত বিশ্বে এর চাহিদা বেড়ে চলেছে ক্রমাগত এবং একই সাথে বাড়ছে এর উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা। মাশরুম আমাদের কাছে খাদ্যবস্তুর চেয়ে ‘ব্যাঙের ছাতা’ হিসেবে বেশি পরিচিত হয়ে থাকলেও এর রয়েছে বহুবিধ পুষ্টিমান এবং পুষ্টিগুণ। মাশরুমকে সাধারণত প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের উৎস হিসেবে গণ্য করা হলেও এতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু মিনারেল বা খনিজ।
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যে খনিজগুলো এতে আছে তা হলো Ñ পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ। অবশ্য মাশরুমের জাতভেদে উপরোক্ত খনিজের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তনীয়। মূলত প্রোটিন ও খনিজ মাশরুমের মূল উপাদান হলেও এর রয়েছে বহুবিধ উপকারী ভূমিকা। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাশরুম গ্রহণের ফলে আমাদের রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল LDL (লো ডেনসিটি লাইপো-প্রোটিন) কমে যায় এবং এবং উপকারী কোলেস্টেরল HDL (হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন)-এর পরিমাণ বেড়ে যায়, পাশাপাশি যকৃৎ, হৃৎপিণ্ড এবং মাংসপেশির কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতেও মাশরুম অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
আরো দেখা গেছে, ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে এবং আমাদের রক্তনালীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী প্লাক (plaque)-এর সংখ্যা কমাতে মাশরুম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আজকাল রক্তের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলকে উচ্চরক্তচাপ এবং নানাবিধ হৃদরোগের প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। সুতরাং নিয়মিত মাশরুম গ্রহণের ফলে আমরা হৃদরোগের মতো জটিল রোগকে প্রতিরোধ করতে পারি সহজেই। কিন্তু সে জন্য দরকার আমাদের দেশীয় বাজারে মাশরুমের সহজলভ্যতা, একই সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি।
তা ছাড়া মাশরুম উৎপাদন শুধু লাভজনকই নয়, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরও বটে। অতি সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, জাপানে মাশরুম চাষিরা যারা মাশরুম চাষ করে না তাদের তুলনায় ক্যান্সারে কম আক্রান্ত হয় এবং কম মারা যায়। আরো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাশরুম গ্রহণের ফলে পাকস্থলীর ক্যান্সার সৃষ্টির প্রবণতা বহুলাংশে কমে যায়।
সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

