আমাদের শরীর সব সময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে
রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ প্রচেষ্টাকে রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলে। কখনও কখনও
আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা
করে। শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুগুলোকে
অ্যালার্জি উ পাদক বা অ্যালার্জেন বলা হয়।
অ্যালার্জিজনিত প্রধান সমস্যা : অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস- অনবরত হাঁচি, নাক
চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও কারও চোখ দিয়েও পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে
যায়।
অ্যাজমা বা হাঁপানি : ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে চাপ চাপ লাগা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মাঝে
মাঝে ঠাণ্ডা লাগা।
আর্টিকেরিয়া : আর্টিকেরিয়ার ফলে ত্বক লালচে ফোলা ফোলা হয় এবং ভীষণ চুলকায়। ত্বকের গভীর স্তরে হলে
হাত-পা ফুলে যেতে পারে। আর্টিকেরিয়ার ফলে সৃষ্ট ফোলা অংশ মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী থাকে কিন্তু কখনও
কখনও বারবার হয়।
সংস্পর্শজনিত অ্যালার্জিক ত্বক প্রদাহ : চামড়ার কোথাও কোথাও শুকনো, খসখসে, ছোট ছোট দানার মতো
ওঠে।
অ্যাকজিমা : অ্যাকজিমা বংশগত চর্মরোগ যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়, চুলকায়, আঁশটে এবং লালচে হয়। খোঁচানোর
ফলে ত্বক পুরু হয় ও কখনও কখনও উঠে যায়।
অ্যালার্জিক কনজাংটাইভাইটিস : চোখে চুলকানি ও চোখ লাল হয়ে যায়।
খাওয়ার অ্যালার্জি : পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং ডায়রিয়া।
সাধারণ অ্যালার্জি উ পাদকগুলো
* মাইট* মোল্ড* ফুলের রেণু বা পরাগ* ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়া* খাদ্যদ্রব্য* ঘরের ধুলো-ময়লা* প্রাণীর পশম
এবং চুল* পোকামাকড়ের কামড়
* ওষুধসহ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য* প্রসাধন সামগ্রী
* উগ্র সুগন্ধি বা তীব্র দুর্গন্ধ
সমন্বিতভাবে অ্যালার্জির চিকি সা
* অ্যালার্জেন পরিহার* ওষুধ প্রয়োগ।
অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও
অ্যালার্জিজনিত রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকি সা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের
ব্যবহারে অনেক কমে যায়। ফলে কর্টিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বর্তমানে
চিকি সা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা
সম্ভব। যে কোন অ্যাকজিমা ও অ্যালার্জি প্রতিরোধে শরীর সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরি।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

