বাড়ির সদস্য তালিকায় যদি শিশুদের উপস্থিতি থাকে তবে তার বেড়ে ওঠা নিয়ে চিন্তা করতেই হবে। কিন্তুশুধুমাত্র
তাদের খাওয়া দাওয়া চলা ফেরার উপর নজর রাখলেই চলবে না। সেইসাথে নিশ্চিত করতে হবে তাদের মানসিক বিকাশ ও
সুস্থতা। আর এই বিষয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
সৃজনে বেড়ে উঠুক শিশু
:: জীবনযাত্রা ডেস্ক ::
শিশুর বেড়ে উঠা নিয়ে কতই না চিন্তায় থাকেন বাবা-মা। ছোটবেলা থেকেই তাদের মানসিকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন
পরিবারের সবাই। আর সেটি লাঘব করতে কিছুটিপস জানা থাকলে কাজটি সহজ হয়ে পড়ে অনেকটা।
সহচর্য : কোনো বাসায় অথবা পার্টিতে গেলে আপনি ও আপনার স্ত্রী বিভিন্ন কথায় মগ্ন হয়ে পড়লেন। সে ফাঁকে
সঙ্গহীন হয়ে পড়ে আপনার সন্তান। বড়রা যেমন বড়দের সঙ্গ পছন্দ করেন তেমনি শিশুরাও সমবয়সীদের সঙ্গটাই
পছন্দ করে। তাই আপনি সাথে থাকলেও একাকীত্বে ভুগতে পারে আপনার শিশু। সেদিকটা নজরে রাখুন।
আবিষ্কারের নেশা : একটুবড় হলেই স্কুল, কোচিংয়ে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় শিশুরা। কিন্তুতখন হয়ত তার ছবি
আঁকতে ভাল লাগে। ভাল লাগে গান, পাখি আর খোলা মাঠে দৌঁড়ে বেড়ানো। তারা সবচেয়ে পছন্দ করে ঘুরে বেড়াতে।
তাই পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলা ও সৃজনশীলতার চর্চা শিশুর মানসিক চাহিদা পূরণ করে। কারণ এই বয়সটাই
আবিষ্কারের। আর এমন আবিষ্কারের নেশাতেই মানসিক বিকাশ ঘটবে।
নয় কোনো শাস্তি : শিশুরা অন্যায়বা ভুল করবেই, তা না হলে আর শিশুকেন তাই না? তাই শিশুরা ভুল করলে তাদের
বুঝিয়ে বলুন। সে কি ভুল করেছে, কেন এটা করা ঠিক না, এটা করার ফলে কি কি হয়েছে। অনেক সময়বুঝিয়ে বলার
পরও শিশুরা একই কাজ বার বার করতে থাকে। এক্ষেত্রে মনে রাখা উচিত যে, আমাদের নিজেদের দ্বারাও কি অনেক
সময়একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়না? সেক্ষেত্রে শিশুদের জন্য তো এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই ধৈর্য্য ধরে
বোঝানোর চেষ্টা জারি রাখতে হবে। তাছাড়া সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে পারলে শিশুরা বেশিরভাগ সময়ই সেটা
মেনে চলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে।
সবসময় শিশুদের অহেতুক দোষারোপ করবেন না। তাহলে ছোটবেলা থেকেই একটা হীনমন্যতায় ভুগতে শুরুকরবে
আপনার সন্তান।
প্রশংসা করুন, নিজের মূল্যায়ন পেলে শিশুরাও অন্যকে মূল্যায়ন করা শেখে। কিন্তুকখনই কারো সাথে তুলনা করবেন
না। কারণ তুলনা প্রতিযোগিতা বাড়ায়।
শেখান রীতিনীতি : সময়মত শিশুদের সৌজন্যতাসহ অন্যান্য আদব-কায়দা না শেখালে পরবর্তীতে পড়তে হতে পারে
বিব্রতকর পরিস্থতিতে। কথা বলার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা, অহেতুক তর্ক ও কথার মধ্যখানে কথা বলাকে এড়িয়ে যেতে
হবে। তার কথাও আপনাকে মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
অন্যকে সম্মান করা, প্রথমে দেখা হলে সালাম দেয়া, কিছুচাওয়ার সময়প্লিজ বলা, নেওয়ার সময়ধন্যবাদ বা থ্যাঙ্ক
ইউ বলা এসব আপনাকেই শেখাতে হবে। সে সাথ আরো শেখাতে হবে টেবিলে বা অন্য কোথাও সাজিয়ে রাখা জিনিসপত্র
নষ্ট না করা, হোক সেটা নিজের বাসায়অথবা অন্যের বাসায়বেড়াতে গিয়ে।
নম্র এবং ভদ্র স্বরে প্রথমে আপনি দেখিয়ে দিন, তারপর তাকে কথা বলতে দিন। মনে রাখবেন, শিশুরা অনুকরণ
প্রিয়। তাই তাদেরকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগুলো ছোটবেলা থেকেই দিন।
সূত্র - poriborton.com

