অশান্তি বা মানসিক চাপ আর ব্যাথা – এ দুটোগভীরভাবে একে অপরের সাথে জড়িত। মানসিক চাপের কারনে
ব্যাথা বা ব্যাথার কারনে মানসিক চাপ কমাতে কিছুকিছুসাইকোলজিকেল থেরাপি যেমন হিপনোসিস বা সম্মোহন,
মেডিটেশন, রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন খুবই কার্যকর।
পেইন থেরাপিস্টদের কাছে এধরনের চিকিৎসায় দেহ এবং মনের সম্পর্কটাই মূখ্য বিষয়। কিন্তুঅন্যান্য হেলথ
থেরাপিস্টদের কাছে এগুলো বিকল্প চিকিৎসা কিংবা পরিপূরক চিকিৎসা হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যেভাবে যেনামেই
ডাকা হোক না কেন, ব্যাথা নিরাময়ে সম্মোহন, মেডিটেশন আর শিথিলায়ন যে কার্যকরি তার ভুরি ভুরি প্রমান
আপনি যদি ব্যাথা নিরাময়ে যে কোন একটি পরখ করে দেখতে চান, তাহলে আসুন এগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাকঃ
প্রথমে আমরা জানব হিপনোসিস বা সম্মোহন সম্পর্কে
অনেকের কাছেই হিপনোসিস মনে হতে পারে একধরনের পারলার গেইম বা ভিতর বাড়িতে খেলা যায় এমন সব খেলা।
যেখানে কোন ব্যক্তি সম্মোহিত হয়ে ছন্দময় চোখে নিজে থেকেই হয়তো কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে ডাকে কিংবা
মুরগীর ছানার মত হাঁটে বা কোন অদ্ভুত আচরন করতে থাকে। কিন্তুক্লিনিক্যাল হিপনোসিস কৌতুক কিংবা
খেলার চাইতে বেশি কিছু। এটা এমন একটি পরিবর্তিত অবস্থার সৃষ্টি করে যা শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী থেরাপিস্টদের
মাধ্যমে করানো হয়ে থাকে।
হিপনোসিস চলাকালীন সময়ে মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ঐ ব্যক্তির বিক্ষিপ্ত
চিন্তাগুলোকে কেন্দ্রিভূত করা হয় এবং তাকে রিলাক্স করার দিকে মনোনিবেশ করা হয়। যখন আমাদের মন কোন
একটি দিকে নিবিষ্ট হয়, কেন্দ্রিভূত হয়, তখনই আমরা শক্তি অনুভব করি। যখন কোন ব্যক্তি সম্মোহিত হয়ে
যায় তখন তার কিছুকিছুশারীরিক পরিবর্তনও লক্ষনীয় হয়। যেমন তার নাড়ীর স্পন্দন কমে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসও
কমে যায়। সেই সাথে তার মস্তিষ্কে আলফা স্তরের ঢেউ খেলতে থাকে। এই সময়ে ঐ ব্যক্তিকে কোন একটি নির্দিষ্ট
লক্ষ্যে বা বিশেষ কোন নির্দেশনা প্রদান করা হয়। যেমন ‘ব্যাথা কমে যাও বা গেছে’।
উপকারিতা
গবেষকরা দেখেছেন যে, মেডিকেল হিপনোসিস তীব্র এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যাথা নিরাময়ে দারুনভাবে কার্যকর। ১৯৯৬
সালের দিকে আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর একটি প্যানেল দেখেছেন যে হিপনোসিস ক্যানসারের
ব্যাথা লাঘব করতেও বেশ কার্যকর। হাল আমলের বেশ কিছুগবেষনায়ও এর প্রমান পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুড়ে
যাওয়ার ব্যাথা, ক্যানসারের ব্যাথা, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা ইত্যাদি। এছাড়া সার্জারী থেকে সৃষ্ট
দুশ্চিন্তা দূর করতেও হিপনোসিস খুবই কার্যকর।
যদি আপনি নিজে নিজে এটি করতে চান, তবে অশ্যই আপনাকে প্রথমে একজন দক্ষ চিকিৎসক কিংবা প্রাকটিশনারের
কাছে এক ঘন্টা কংবা আধা ঘন্টার একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কেউ কেউ হয়তো আরো একটুবেশি সময়
ধরে করাতে পারেন। এরপর আস্তে আস্তে ১০-১৫ মিনিট করে কোর্স সম্পন্ন করুন। আপনার থেরাপিস্ট এরপর
আপনাকে সাজেশন দিবেন কিভাবে নিজে নিজে করা যায়।
(এর পরের পর্বে দেখুন মেডিটেশন এবং শিথিলায়ন)
ওয়েবএমডি অবলম্বনে হেলথ প্রায়র ২১।

