মানসিক চাপ আর ব্যাথা – এ দুটোগভীরভাবে একে অপরের সাথে জড়িত। মানসিক চাপের কারনে ব্যাথা বা
ব্যাথার কারনে মানসিক চাপ কমাতে কিছুকিছুসাইকোলজিকেল থেরাপি যেমন হিপনোসিস বা সম্মোহন,
মেডিটেশন, রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন খুবই কার্যকর।
আজ আমাদের আলোচনায় থাকছে মেডিটেশন
কিছুসচেতনতামূলক কৌশল অবলম্বন করে মনকে শান্ত আর দেহকে শিথিল করাকে আমরা বলি
মেডিটেশন। তবে প্রধান ২টি কৌশল হচ্ছেঃ অলৌকিক মেডিটেশন আর মনযোগ মেডিটেশন।
অলৌকিক মেডিটেশনঃ
এক্ষেত্রে রোগীকে একই শব্দ বা শব্দমালা বা মন্ত্র বার বার জপ করানো হয়। সেই সাথে তাকে তার
অন্যসব চিন্তা কিংবা অনুভূতি দূরে সরিয়ে দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।
মনযোগ মেডিটেশনঃ
এধরনের মেডিটেশনে ব্যক্তির সকল চিন্তা-চেতনা, অনুভূতিকে এক বিন্দুতে কেন্দ্রিভূত করার নির্দেশনা
প্রদান করা হয়। সাধারনত মানসিক চাপ কমানোর কর্মসূচীসমূহে এধরনের মেডিটেশন করানো হয়ে
মেডিটেশনের উপকারীতা
গবেষনায় প্রমানিত যে মেডিটেশনের ফলে ব্যাথার প্রতি সহনশীলতা বাড়ে বা ব্যাথা সহ্য করার ক্ষমতা
বাড়ে। সেই সাথে বাড়ে কর্ম-ক্ষমতা বা দক্ষতার উন্নতি হয়। নিজের সম্পর্কে উচ্চ ধারনা জন্মে। আর
দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, হতাশা, পেইন কিলার বা ব্যাথানাশকের প্রতি নির্ভরতা কমে।
মাইন্ডফুলনেস বা মনযোগ মেডিটেশনের মাধ্যমে সফলভাবে ব্যাথা কমানো সম্ভব এবং সেই সাথে এর
দ্বারা মেজাজ হবে ফুরফুরে। এধরনের মেডিটেশনের দ্বারা তীব্র-অসহনীয় মাথা ব্যাথা, কোমরের ব্যাথা,
বুকের ব্যাথা কিংবা ক্রনিক পেটের ব্যাথা নিরাময় করা সম্ভব।
মেডিটেশন প্রক্রিয়া
যেহেতুমেডিটেশনের নির্দিষ্ট কোন ফরম্যাট বা কাঠামো নেই, প্রশিক্ষণ পদ্ধতিরও নেই কোন
নির্দিষ্ট অনুসিদ্ধান্ত, তাই প্রশিক্ষক কিংবা ইন্সট্রাক্টরদের কোন আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট বা
লাইসেন্স নেই। একেক প্রশিক্ষক একেকভাবে সুবিধামত করে নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে মেডিটেশন
কোর্স করিয়ে থাকেন। তবে প্রশিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষতা যাচাই করে নেয়া উচিত।
নিয়মিত মেডিটেশনের বেলায় বা প্রতিদিন প্রাকটিসের ক্ষেত্রে প্রতিবার বা প্রতিদিন প্রশিক্ষকের
কাছে যাবার দরকার নেই। কয়েকবার কোর্স করার পর আপনি সেই অনুযায়ী ঘরে বসে নিজেই প্রাকটিস
করতে পারেন। সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গেছে যে তুলনামূলক স্বল্প ও খুব সাধারন কৌশলের মনযোগ
মেডিটেশন ব্যাথা মুক্ত থাকতে ভীষনরকম কার্যকর।
(পরের পর্বে পড়ুন শিথিলায়ন)
ওয়েবএমডি অবলম্বনে হেলথ প্রায়র ২১।

