হামের বিরুদ্ধে লড়াই, প্রতিরোধে টিকা
হাম হলে দেখা যায় বাদামি ও গোলাপি রং-এর ফুসকুড়ি৷ তার ওপর প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি-কাশিও
হয়৷ সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো হামের ভাইরাস, যা শরীরের প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল করে
দেয়৷ তাই আক্রান্তরা সহজেই অন্য অসুখের কবলেও পড়তে পারে৷
জার্মানিতে হাম নির্মূল হয়নি
অ্যামেরিকায় হাম নির্মূল হয়ে গেলেও জার্মানিতে এখনো রয়ে গেছে অসুখটি৷ জার্মানিতে বছরে গড়ে
১২২ থেকে ২৩০৮-এর মতো মানুষ আক্রান্ত হন হামে৷ কয়েক জন মারাও যান৷
এখন বার্লিন ও বাভারিয়ায় হামের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে৷ জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
থেকে জানানো হয়েছে যে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৯০০ জনেরও বেশি হামে আক্রান্ত
হয়েছেন৷
এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে হাম প্রতিরোধে টিকার ব্যবস্থা থাকলেও এত মানুষ কীভাবে রোগটিতে
আক্রান্ত হচ্ছে? দেখা গেছে সবাই এই টিকা নিচ্ছে না৷ বিশেষ করে ৯০-এর দশকে টিকা
নেওয়ার হারটা কম ছিল৷ তাই আজকের ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের হামে আক্রান্ত
হওয়ার ঝুঁকিও বেশি৷
চিকিৎসকদের মতে দু'বার এই টিকা নেওয়া উচিত৷ একবার জন্মের পর ১১ থেকে ১৪ মাসের
মধ্যে৷ আর দ্বিতীয়বার প্রথম টিকার নেয়ার চার সপ্তাহ পর৷ দ্বিতীয় টিকাটি নিলে হামকে
প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়৷
টিকাকে বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা
ভবিষ্যতে হামের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে টিকাকে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে বলে মনে করেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডানিয়েল বার৷ বসন্ত রোগের ব্যাপারে এই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল
একবার৷
অ্যামেরিকায় স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় বাচ্চারা দু'বার হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী,
এমএমআর টিকা নিয়েছে কিনা – তা দেখা হয়৷ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলিতে স্বেচ্ছায় টিকা
নিতে প্রণোদিত করা হয়৷ দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে বাচ্চাদের
টিকা দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেন৷ ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য পেডিয়েট্রিয়ান
বা কেন্দ্রীয় শিশু চিকিত্সক অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান ভলফ্রাম হার্টমান অবশ্য
বাধ্যতামূলক টিকা দানের ব্যাপারে তার মত ব্যক্ত করেছেন৷
বর্তমানে যে ভাবে হামের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে, তাতে মা-বাবার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে
থাকা যায় না৷ এক্ষেত্রে আইন-কানুনও রয়েছে৷ অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসের বেলায়
বাচ্চাদের বাধ্যতামূলক টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারে রাষ্ট্র ৷
ভিন্নমত অনেকের।
অন্যদিকে ‘অলটারনেটিভ প্র্যাকটিশনার' মিশাইল ফ্রিডল মনে করেন, টিকা নেয়ার ব্যাপারে জোর
করা ঠিক নয়৷ এছাড়া শৈশবে টিকা দেয়াটা সবসময় নিরাপদও নয়৷ তার মতে বাচ্চাকালে প্রচণ্ড
জ্বর হলে শরীরে একটা প্রতিক্রিয়াও হয়৷ প্রথমত, এই ধরনের অসুখ হলে শিশুর নিজের শরীর
সম্পর্কে একটা অভিজ্ঞতা হয় ৷ দ্বিতীয়ত, এর ফলে ইমিউন সিস্টেমও শক্তিশালী হয়৷ সাত বছর
পর্যন্ত বাচ্চারা জ্বরকে সহজেই সামলাতে পারে৷ ‘‘বয়স্করা যেসব রোগে হিমশিম খেয়ে যান,
সঠিক চিকিত্সা হলে সে সব অসুখ বিসুখ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারে বাচ্চারা৷ এর মধ্যে হামও
রয়েছে'', বলেন ফ্রিডল৷
তবে রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের আনেটে মানকের্টৎস মনে করেন, শরীরের প্রতিরোধ শক্তি
বাড়াতে হলে হামের প্রয়োজন নেই৷ আসল কথা হলো টিকা হাজার হাজার মানুষের জীবন
বাঁচাতে পারে৷ টিকা নিলে শুধু নিজে নয় অন্যদেরও সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচানো যায়৷
টিকায় কিছুটা ঝুঁকিও রয়েছে
‘‘টিকায় কিছুটা ঝুঁকিও থাকে৷ যেমন মস্তিষ্কের সংক্রমণ হতে পারে এতে'', বলেন আনেটে
মানকের্ট স৷ অবশ্য এমনটি হতে পারে ১০ লাখে একটি৷ তার মানে হাম হলে যে ঝুঁকি হয়, তার
চেয়ে হাজার গুণ কম৷ হাম অত্যন্ত সংক্রামক এক ব্যাধি৷ হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় এই
রোগ সংক্রমিত হয়৷ এই ভাইরাস অনেক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে৷ বিশেষ করে এক বছরের
কম বয়সি শিশুদের বেলায় এই রোগ অত্যন্ত মারাত্মক৷ ‘‘এই বয়সি শিশুদের হাম হলে প্রতি পাঁচ
হাজারে একজন মস্তিষ্কের এক ধরনের কঠিন অসুখে আক্রান্ত হয়৷ যার ফলে মৃত্যু অবধারিত'',
বলেন আনেটে মানকের্ট স৷
সূত্র – নতুন বার্তা

