বছরের সব ঋতুতে, সব মাসেই কম-বেশি কোনো না কোনো ফল থাকেই। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বা ত্বকচর্চায় ফলের জুড়ি নেই। ফল শুধু যে শরীরের পুষ্টি জোগায় তা নয়, এগুলো ব্যবহার ত্বকের জন্যও বেশ উপকারী। তাই সৌন্দর্য রক্ষায় ফলের ভূমিকা সর্বজন বিদিত। প্রতিদিন ফল খাওয়ার পাশাপাশি তা ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন। অর্থাত্ মুখে লাগাতে পারেন।
কোন কোন ফল কোন কোন ত্বকে কেন ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে জেনে নেই। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করতে শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করতে পারেন—
কমলা - লেবুর খোসা গুঁড়ো ও কাঁচা দুধ, পানিফল বাটা অথবা পাকা পেঁপে ও গুঁড়ো দুধের প্যাক।
তৈলাক্ত ত্বকে টমেটো ও ওটমিল, গ্রেট করা শসা, লেবু, মধু এবং ময়দা ও আনারসের রস। আরও নিতে হবে আপেল কুচি ও মধু। স্বাভাবিক ত্বকে ফেসিয়াল করতে : আপেলের রস ও দুধের মাঠা অথবা ডিমের সাদা অংশ, নারকেল বাটা, পাকা কলা, পাকা পেঁপে ও ওটমিল। তরমুজ ও ফ্রেশক্রিমের যে কোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন। শসা খুব সহজে এবং সারা বছরই প্রায় পাওয়া যায়।
শুষ্ক ত্বকের প্যাকে শসা ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। শসা একটি ভালো টোনারও বটে। এতে উপস্থিত সিলিকন ত্বক উজ্জ্বল ও নরম রাখে। শুষ্ক ত্বকের জন্য টমেটো খুব উপকারী। এতে আছে অ্যাসকরবিক, ম্যালিক এসিড, পটাশ, আয়রন, ফসফেট, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, বি, সি যা ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এছাড়া টমেটোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্লিচ হিসেবে কাজ করে এবং রোদে পোড়া দাগ দূর করে। তবে শুধু টমেটো প্যাক হিসেবে ব্যবহার না করে অন্য কোনো উপকরণের সঙ্গে যেমন—মধু, দই ইত্যাদির সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।
বাতাবি লেবু সব ত্বকে ব্যবহার করা যায়, তবে অবশ্যই অন্য কোনো উপকরণ যেমন শসা, দই, মধু, চন্দন, মুলতানি মাটি ইত্যাদির সঙ্গে। এটি একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করতে পারেন আপেল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরিন, সালফার, কপার ও আরও কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান আছে, যা ত্বকের ভেতরে ও বাইরে পুষ্টি জোগায়। পাকা পেঁপেতে আছে নানা এনজাইম, যা ত্বক মসৃণ ও কমনীয় রাখে। ত্বক নরম ও চকচকে রাখতে খেজুর ও দুধের তৈরি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। খেজুরে থাকা প্রোটিন ও মিনারেল ক্যারোটিন ত্বক তাজা রাখে। তৈলাক্ত ও শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন নাশপাতি, কাঁচা হলুদ, মুলতানি মাটি অথবা নাশপাতি, রুটি ও নারকেল তেলের প্যাক।
নাশপাতিতে আছে অরগানিক এসিড, প্রোটিন, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন এ, বি, সি, বোরন, কপার ও নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। ত্বকের খসখসে ভাব দূর এবং শ্রীবৃদ্ধি করতে আম ও দুধের প্যাক অনবদ্য। ব্রণের কালচে দাগ কিংবা ঘাড়ের কালো দাগ দূর করতে ব্যবহার করুন তরমুজ। তরমুজ আদর্শ টোনার। রস পাকা কাঁঠাল ব্রণের ফলে সৃষ্ট গর্ত বা দাগ দূর করতে ব্যবহার করুন। জামরুলের রস ও চালের গুঁড়ো ব্যবহার করুন রোদে বেরুনোর আগে। ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে জামরুলের রসের সঙ্গে শসার রস ও গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। ব্রণের সমস্যায় আঙ্গুরের রস, শসা, লেবু, চন্দন, কমলার খোসা-বাটা ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পেয়ারার রস, কাঁচা দুধ, লাউয়ের রস ও চালের গুঁড়ো ব্যবহার করুন। রোদে পোড়া ভাব কাটাতে জাম, জামরুল ও তরমুজের রস ব্যবহার করতে পারেন। যারা হিট র্যাশে ভোগেন তারা এ থেকে মুক্তি পেতে ৫০ গ্রাম স্ট্রবেরি পাতাসহ এক লিটার পানিতে ফোটান। ১০ মিনিট ফুটিয়ে বরফ ঠাণ্ডা করে র্যাশ বের হওয়া অংশে লাগান। ত্বকের পিগমেন্টেশন দূর করতে কালোজাম, আনারসের শাঁস, গাঁদা ফুল ও সফেদার রস মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করুন।
প্রকৃতির অকৃত্রিম দান ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করেন। এতে ঘরে বসেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন আরও বেশি সুন্দর, আকর্ষণীয় ত্বকের অধিকারী। তাছাড়া প্রাকৃতিক জিনিসে ভেজালও থাকে না।
সূত্র – আমারদেশঅনলাইন.কম

