home top banner

Health Tip

জেনে নিন গর্ভধারণ ও এর খুঁটিনাটি – পর্ব ১
11 April,13
View in English
Tagged In:  pregnancy care  pregnancy  pregnancy step  

pregnancy-detailsমহিলাদের জন্য গর্ভধারণ একটি শিহরণ জাগানো ঘটনা। যদিও কারো কারো সাথে কথা বললে মনে হবে এটি একটি সাধারন ব্যাপার। আবার কারো মতে গর্ভধারণ ধৈর্য ও ভাগ্যের ব্যাপারও বটে।

পরিপূর্ণ বয়োঃপ্রাপ্তি হলেই গর্ভধারণ সহজ হয় তবে কিছু কিছু বিষয় অবশ্য মাথায় রাখা দরকার যেমন স্বাভাবিক ওজন, স্বাস্থ্যসম্মত বা সূষম খাবার আর মাসিকের পর উপযুক্ত সময়টুকুতে নিয়মিত যৌনমিলন। এর সাথে কারো যদি ধুমপান বা মদপানের অভ্যাস থাকে তা অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আর পুরুষের ক্ষেত্রে অতি অবশ্যই সুস্থ, সবল এবং যথেষ্ট পরিমান শুক্রানু থাকতে হবে।

বেশিরভাগ সুস্থ ও সক্ষম দম্পতি বিয়ের এক বছরের মধ্যেই সন্তান নিতে পারেন। যদি ইচ্ছা থাকা সত্বেও কোন দম্পতির সমস্যা দেখা দেয় তবে একা নয় উভয়কেই একসাথে কোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অক্ষমতা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। আজকাল চিকিৎসা অবশ্য সহজ ও হাতের নাগালেই পাওয়া যায়।

সুস্থ ও স্বাভাবিক গর্ভধারণের জন্য দম্পতির স্বাস্থ্যও সুস্থ হওয়া আবশ্যক। কারন সুস্থ দম্পতি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারেন। গর্ভধারণের শুরু থেকেই সুস্থ থাকার নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। যেমন যথাসময়ে টীকা নেয়া, ভাল খাবার অর্থাৎ সূষম খাবার খাওয়া, প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহন আর নিয়মিত ও যথাযথ ব্যায়াম তো আছেই।

যদি গুরুতর কিংবা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সেটা গর্ভধারণের পূর্বে ও গর্ভধারণকালিন উভয় সময়েই। এখানে বয়সও একটা বিষয়। সাধারনতঃ ৩৫ বছরের বেশি হলে কিছু কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার যত্ন নেয়া মানেই আপনার বাচ্চার যত্ন নেয়া।

জেনে নিন গর্ভধারণ লক্ষণসমূহঃ

যারা প্রথমবারের মত গর্ভধারণ করেছেন তাদের জন্য একটু চমক লাগবে বৈ কি। তবে মাসের পর মাস যারা অপেক্ষায় ছিলেন তাদের জন্য এটা হতে পারে একটা বিস্ময়।

গর্ভাবস্থার প্রথমে ক্লান্তি বা অবসাদ, স্তন ব্যথা, অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করা আর মাসিক বন্ধ হওয়া তো আছেই। তবে সব চেয়ে সহজ উপায় হল ঘরে বসেই Pregnancy Test করিয়ে নেয়া।

Pregnancy Test যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে অতিসত্বর আপনার নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যান। যথাযথ পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে স্বাস্থ্যসেবা চার্ট অনুসরন করুন আর জেনে নিন প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ।

পর্যায়ক্রমিক করনীয়

যখন আপনি নিশ্চিত হলেন আপনি গর্ভধারণ করেছেন, তখন থেকেই পুরো গর্ভধারণকালিন সময়টাকে সপ্তাহ ভিত্তিতে ভাগ করে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিদিনই আপনার কাছে নতুন মনে হবে। কি করতে হবে না করতে হবে, কি করা উচিত-এ প্রশ্নগুলো আসবে। যেমন কি খাওয়া উচিত, ব্যায়াম করা যাবে কি না, কি কি ধরনের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাতে হবে ইত্যাদি। আরো আছে যেমন শরীরের ওজন কতটুকু বাড়বে, প্রসবপূর্ব বেদনা কিভাবে লাঘব করা যায়, সম্পূর্ন বিশ্রাম করতে হবে কি না আরো কত কি।

যত প্রশ্নই মনে আসুক না কেন আপনি যদি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পরিকল্পনা করে এগোতে থাকেন তাহলে আপনার গর্ভধারণকালিন সময়টা সহজে আর আরামে পার করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে জানতে হবে কি করতে হবে না করতে হবে, অন্যান্য গর্ভধারণকালিন জটিলতা ও ছোট-খাট দৈনন্দিন করনীয়সমূহ। যেমন ব্যায়াম থেকে শুরু করে ব্যাক পেইন, যৌনমিলন ইত্যাদি।

গর্ভধারণকালিন সময়টাকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে পরিকল্পনা করতে হবে। গর্ভধারণের প্রথম পর্যায়ে যেমন খুব দ্রুত ভ্রুন বাড়তে থাকে তেমনি গর্ভবতী মায়ের শরীরেও ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। শরীরের পরিবর্তনগুলোর মধ্যে আছে স্তনের আকার পরিবর্তন ও অস্বস্তি, দূর্বলতা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি। উদবেগ-উৎকন্ঠা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এই সময়ে বাচ্চার মস্তিষ্ক, মেরুদন্ড এবং অন্যান্য অংগ-প্রত্যাংগের গঠন শুরু হয়, হৃদপিন্ডের কার্যক্রম শুরু হয় আর বাচ্চার হাত-পায়ের আংগুলেরও আকার নিতে থাকে।

গর্ভের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাস – দ্বিতীয় পর্যায়। এই সময়টাতে আপনি প্রথম পর্যায়ের চাইতে অনেক ইজি বোধ করবেন। এ পর্যায়ে বাচ্চা মোটামুটি একটা পরিপূর্ন বাচ্চার মত মনে হবে। আর গর্ভবতি মায়ের শরীরের পরিবর্তনের মধ্যে আছে ত্বকের পরিবর্তন, পেট অনেক বড় হয়ে ওঠা, স্তনের আকার আরো বড় হওয়া ইত্যাদি। আর বাচ্চার ক্ষেত্রে নড়াচড়া করা, বাইরের শব্দ শুনতে পাওয়া ইত্যাদি সক্ষমতা তৈরী হয়। এই সময় আপনাকে নিয়মিত আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আপনার মনের যে কোন প্রশ্নের উত্তর তার কাছ থেকে জেনে নিন।

শেষের তিন মাস তৃতীয় পর্যায় যা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যান্ত চ্যালেঞ্জিং। পৃষ্ঠদেশ, এঙ্কেল এর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে, দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। আর বাচ্চা তার চোখ খুলতে পারে, নড়াচড়া অনেক বেড়ে যায়। ৩৭ সপ্তাহ শেষে মানব শিশু পরিপূর্ন রুপ নেয়। এই সময়ে ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে যাওয়া, বাচ্চার অবস্থান জেনে নেয়া বেশ জরুরী।

গর্ভধারণকালিন জটিলতাসমূহ

গর্ভধারণকালিন সময়ে বাচ্চার স্বাস্থ্য প্রাধান্য পায় তুলনামূলক একটু বেশি। সেক্ষেত্রে মায়ের যদি কোন জটিল রোগ বা ইন্যান্য জটিলতা থাকে যেমন ডায়াবেটিস, এপিলেপসি বা কোন মানসিক রোগ বা হতাশা, গ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা, তাহলে জেনে নিন এসব ক্ষেত্রে কি করণীয়। কারন সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শমত কাজ না করলে বা মেনে না চললে গর্ভপাত হতে পারে বা বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখবেন সুস্থ শিশুর জন্ম সুস্থ মায়ের উপর নির্ভরশীল।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Getting Pregnant Part - 2
Previous Health Tips: INFORMATIVE TIPS TO HANDLE HEADACHE~

More in Health Tip

সাদা সবজি বেশি করে খান

রং দেখে ফল ও সবজি খাওয়ার কথা বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরেই বলছেন। ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফল ও সবজিতে প্রয়োজনীয় ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। আসলে উদ্ভিদের পাতা থেকে শুরু করে ফল ও নানা জাতের শাক-সবজির রং ভিন্ন হয়ে থাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে। আর এসব জৈব রাসায়নিকের একেকটি আমাদের... See details

লম্বা ও কোঁকড়া চুলের যত্ন -

* মেথি বাটা, পেঁয়াজ, নিমপাতা, লেবুর রস, টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। * ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও চুল উজ্জ্বল হয়। * টকদই ও বাটা মেহেদি একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মাথার চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিট। এরপর... See details

চুল পড়া যখন সমস্যা

মাথার চুল পড়ে যাওয়া এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ও বিড়ম্বনা। দিন দিন মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ঝরে যাচ্ছে বা টাক পড়ে যাচ্ছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক।   চুল ঝরে যাওয়া বা টাক পড়া দুভাবে হয়ে থাকে- এক. পুরো মাথার চুল পড়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে মাথার তালু বা চামড়া দেখা যায়। দুই. মাথার কিছু... See details

শিশুর জন্মদাগ নিয়ে চিন্তিত?

জন্মের পর শিশুদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লালচে, নীলচে, এমনকি কালো বা বিভিন্ন রঙের দাগ দেখা যায়। এগুলো জন্মদাগ নামে পরিচিত। জন্মদাগ ঠিক কেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায়নি। জন্মদাগ সাধারণত দুই ধরনের। ভাসকুলার মার্ক বা রক্তনালিজনিত জন্মদাগ। এটি সাধারণত ত্বকের নিচের অস্বাভাবিক রক্তনালি বা জমাট রক্তের... See details

মুখে দুর্গন্ধ?

সুন্দর চেহারা, মিষ্টি হাসি… অথচ তারপরও অনেকে কাছে আসতে চায় না৷ তার ওপর এই না আসার কারণটাও কেউ বলে না সরাসরি৷ মুখে গন্ধ! চলুন, এর কারণ ও দূর করার কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক৷ সবসময় শুধু সুন্দর মুখই যথেষ্ট নয় মিষ্টি মুখ আর সুন্দর হাসি থাকলে এই ছবিটির মতোই হওয়ার কথা তাই নয় কি? তবে... See details

গরমে চুল সুস্থ রাখতে যা করবেন

বইছে গ্রীষ্মের বৈরি হাওয়া। বাইরে বের হলে রেহাই নেই রোদের প্রখরতা থেকে। আর সূর্যের উত্তাপটা যেন ছড়ায় একেবারে শিরোদেশকে উদ্দেশ করেই। ঘেমে-নেয়ে চুলের চিটচিটে অবস্থা। এ থেকে মাথায় খুশকি, চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়া, চুল পড়ার মতো সমস্যার সঙ্গে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। এ সমস্যার সমাধান কী? উত্তর জানতে... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')