থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক

মাথাব্যাথার ধরাবাধা নিয়ম না থাকলেও কিছু কিছু মাথাব্যাথা হঠাৎ হঠাৎ শুরু হয়। কখনো কখনো অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে, মনে হয় যেন বজ্রাঘাত হচ্ছে বা কোন বিস্ফোরনের শব্দের মত মনে হয়। অন্যান্য মাথাব্যাথার মত এ ব্যাথাও আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ধরনের দুর্বোধ্য ও রহস্যময় ব্যাথা আসলে ভয়ংকর কিছুর নির্দেশ করে যা থেকে সতর্ক হওয়া জরুরী।
যদি এ ধরনের ব্যাথা খুবই অসহ্য হয়ে ওঠে, তাহলে এটা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ যা সাধারনভাবে ট্রাঞ্জিয়েন্ট ইশকেমিক এ্যাটাক বা টিআইএ নামে পরিচিত।
শরীরে কোথাও যদি রক্ত জমে গিয়ে টুকরায় পরিনত হয় অথবা ধমনীর গাত্রে জমা প্লাক টুকরা টুকরা হয়ে রক্ত্রের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয়ে এক পর্যায় কিছু টুকরা মস্তিষ্কে গিয়ে জমা হয়, তখন মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহে সাময়িক ও আংশিক বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে ট্রাঞ্জিয়েন্ট ইশকেমিক এ্যাটাক বা টিআইএ দেখা দেয়। আর ধমনী যদি সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে স্ট্রোক করে।
হঠাৎ মাথাব্যাথায় টিআইএ কিংবা স্ট্রোক ছাড়াও নিউরোলজিক্যাল ডিফিকাল্টিজ দেখা দিতে পারে, দেখা দিতে পারে কোগনিটিভ ডিফিকাল্টিজ যাতে চলাফেরা, কথা বলায় অসুবিধা হওয়াসহ শরীরের কোন অংশ বা এক পার্শ্ব অবশ হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ দাঁড়ানো বা হাটারত অবস্থা থেকে পড়ে যেতে পারে।
টিআইএ – যাকে কি না অনেক সময় মিনি স্ট্রোক হিসাবে ধরা হয় - এতে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাঁপসা দেখা বা সাময়িক অন্ধ হয়ে যাওয়া, হাত দিয়ে কোন কিছু ধরতে না পারা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
এরকম অবস্থা হলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। রক্ত জমাট ভাঙ্গার ঔষধ দিতে হবে যাতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ দ্রুত শুরু হতে পারে।
টিআইএ – আসলে পূর্ন স্ট্রোকের আগের পর্ব বা লক্ষণ। আর থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছে যে কোন একটা গন্ডগোল হয়ে গেছে বা হতে যাচ্ছে যা এখুনি সমাধান করা জরুরী। সুতরাং দেরী না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
(পরের পর্বে দেখুন ‘সঙ্গমের সময় পেলভিক পেইন’)
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১।

