সঙ্গমকালীন পেলভিক অঞ্চলে ব্যাথা
নিতম্ব বা শ্রোনী অঞ্চলে (ইংরেজিতে যাকে পেলভিক অঞ্চল বলে) প্রদাহের কারনে সঙ্গমকালীন ব্যাথা হতে পারে। পেলভিক অঞ্চলের প্রদাহ বা পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ সংক্ষেপে পিআইডি সাধারনত মাসিকের সময় অপরিচ্ছন্ন কাপড় বা তুলা ব্যবহার করার ফলে কিংবা খুব বেশি সময় ধরে ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে হয়ে থাকে।
পিআইডি’র প্রধান লক্ষনগুলোর অন্যতম হল সঙ্গমের সময় পেলভিক অঞ্চলে ব্যাথা। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন শুধু জরায়ুতেই নয় ফ্যালোপিয়ান টিউবেও হতে পারে। যার ফলে যোনীদ্বার থেকে শুরু করে ফ্যালোপিয়ান টিউব ও এর আশেপাশের এলাকা ব্যাথাসহ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এরকম ব্যাথায় ভুগলে এক পর্যায়ে বন্ধ্যাত্ব বা ইনফার্টিলিটি দেখা দিতে পারে। পিআইডি’র কারনে পুঁজযুক্ত ফোঁড়া হতে পারে, ব্যাথা রুপ লাভ করতে পারে দীর্ঘমেয়াদি।
পিআইডি’ হওয়ার অন্য কারনগুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন যৌনরোগ যেমন ক্লামাইডিয়া, গনরিয়া ইত্যাদি। এছাড়া যে কোন উপায়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে সেই ব্যাকটেরিয়া যৌনাঙ্গের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমিত করে।
যথাযথ চিকিৎসা না করালে কিংবা লজ্জা-সংকোচে রোগ পুষে রাখলে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। যেমন রক্ত পড়া, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া ইত্যাদি। ফ্যালোপিয়ান টিউব আক্রান্ত হলে এবং সময়মত চিকিৎসা না করালে তা ফেটে যেতে পারে।
সিডিসি’র রিপোর্ট মতে পিআইডি’র কারনে প্রতি বছর প্রতি ১০ জনে এক জন বন্ধ্যাত্বের শিকার হন। আক্রান্ত হন লক্ষ লক্ষ মহিলা। কখনো কখনো ব্যাথা তেমন তীব্র হয় না, তবে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা পেট ব্যাথা হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত হলে এবং যথাযথ এন্টি-বায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করালে জটিলতার ভয় থাকে না। তা না হলে কখনো কখনো সার্জারি করা লাগতে পারে।
ওভারিয়ান সিস্ট হলেও পেলভিক পেইন হতে পারে। আর সিস্ট বড় হয়ে গেলে শল্য চিকিৎসা জরুরী হয়ে পড়ে।
(শেষ পর্বে দেখুন অবিরাম গিঁটে ব্যাথা)
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১

