লাঞ্চ বা ডিনার সেরে বিশ্রাম নিচ্ছেন কিংবা অন্য কোন কাজ করছেন; হঠাৎ পেট মোচর
দিয়ে শুরুহয়ে গেল তীব্র ব্যাথা। দুই হাতে পেট আঁকড়ে ধরে ব্যাথা সহ্য করার চেষ্টা
করছেন। এই ব্যাথার কারনটা হয়তো আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন। গলদটা হয়তো আপনার
লাঞ্চ কিংবা ডিনারের খাবারে। কিন্তুঅন্য সময়ে যদি সুনির্দিষ্ট কোন কারন ছাড়া
এ্যাবডোমেন এরিয়াতে ব্যথা শুরুহয়, তবে নিশ্চিত সেটা অন্য কোন গন্ডগোলের জানান
দিচ্ছে। যা থেকে সতর্ক হওয়া যেমন জরুরী তেমনি যথাযথ চেক আপ করানোটাও একান্ত
প্রয়োজন। মনে রাখবেন, আপনার পেট বিশেষ করে মুখ-গহবর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত এলাকা
সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা। এখানকার কোন অনাকাংখিত ব্যাথা অবহেলা করা মোটেই উচিত
নয়।
এধরনের হঠাৎ তীব্র, কারন জানান ছাড়া পেটের ব্যাথা হতে পারে কাছের কোন অঙ্গের
যেমন কিডনি, ফুসফুস, কিংবা জরায়ুর কোন অসুবিধার কারনে। এ্যাবডোমেন এর ঠিক
ডান দিক বরাবর নিচের দিকে যদি ব্যাথা অনুভূত হয়, তবে সে ব্যাথা এপেন্ডিক্স এর
প্রদাহের বা অন্য কোন সমস্যার কারনে হতে পারে।
আবার এ্যাবডোমেন এর ঠিক ডান দিক বরাবর উপরে যদি ব্যাথা শুরুহয়, তবে
সেটা গল ব্লাডার বা পিত্ত থলির কোন সমস্যার লক্ষণ বলে বিবেচিত হতে পারে।
এ্যাবডোমেন এর উপরের দিকের ব্যাথা, সাথে যদি পিঠের উপরিভাগের ব্যাথা থাকে, তবে
তা প্যানক্রিয়াটাইটিস বা প্যানক্রিয়াসের প্রদাহের কারনে হতে পারে। এসব ব্যাথা সারাতে
বিশ্রাম, ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড কিংবা এন্টি-বায়োটিক এর প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক সময় ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন ব্লক এর কারনেও এ্যাবডোমিনাল পেইন হতে পারে। এটি
ভয়ানক রুপ ধারণ করতে পারে যদি যথাসময়ে এর সঠিক চিকিৎসা না হয়। কারন বেশি দেরী
হলে ক্ষুদ্রান্ত্রের কোষ-কলার মৃত্যুহতে পারে সাথে অন্যান্য জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
এ্যাবডোমিনাল পেইন এর আরো একটি অন্যতম কারন হেপাটাইটিস এবং এর কারনে
যদি লিভার ফুলে যায়। ভাইরাস জনিত এ রোগের অনেকগুলো ধরণ আছে। যার মধ্যে
হেপাটাইটিস ‘সি’ লিভার ফেইলিওর এর কারণ।
যে কারনেই হোক এ্যাবডোমিনাল পেইন কোন সুসংবাদ নয়। সময়মত সু-চিকিৎসা না
করালে আজ হোক কাল হোক আপনার জন্য দুঃসংবাদই বয়ে আনবে।
(পরের পর্বে দেখুন কাফ পেইন )
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১।

