‘যা আয় করি, তার অর্ধেকটা ব্যয় করি একমাত্র ছেলে রিয়াজ উদ্দিনের (১০) পেছনে। আমার ইচ্ছা, লেখাপড়া শিখে ছেলেটা মানুষ হবে। কিন্তু তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাচ্ছিল। প্রথম আলোর চিকিৎসাক্যাম্প ছেলের ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিয়েছে।’
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় কক্সবাজার সদরের সমুদ্র উপকূলের গ্রাম কুতুবদিয়াপাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িয়ে স্থানীয় গৃহবধূ রশিদা বেগম (২৫) এ কথা বলেন।
রশিদা বেগমের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রিয়াজের চোখ পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন চিকিৎসকেরা। প্রথম আলোর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভা দুর্গম এই চরে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চোখ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। কর্মসূচির স্লোগান ছিল, ‘পথ হারাবে না বাংলাদেশ’। বিনা মূল্যে চিকিৎসাক্যাম্পে কক্সবাজার বায়তুশশরফ চক্ষু হাসপাতালের শল্যচিকিৎসক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি দল রোগীদের সেবা দেয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য উপকূলীয় এলাকার কয়েক শ নারী, পুরুষ ও শিশু বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। বেলা একটা পর্যন্ত ২৪২ জনের চোখ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬৫ জনকে চশমা ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। ১৮ জনের চোখে ছানি শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয় কুতুবদিয়াপাড়ার হালিমা খাতুন (৫২) তিন বছর ধরে ডান চোখে দেখেন না। চিকিৎসকেরা চোখ পরীক্ষা করে তাঁর চোখে ছানি শনাক্ত করেন। শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে তাঁর এক চোখে কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই সময় দরিদ্র বৃদ্ধা হালিমা খাতুনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় প্রতিনিধিদল। কেবল হালিমা নন, জোহরা খাতুন (৫৫), জায়তুন্নাহার (৫৬), জরিনা খাতুন (৫১), সিরাজুল ইসলামসহ (৫৭) ১৮ জন ছানিরোগীকে বায়তুশশরফ হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে শল্যচিকিৎসার আশ্বাস দেন ক্যাম্পের চিকিৎসক ও সদস্যরা।
বায়তুশশরফ হাসপাতালের চক্ষুবিশেষজ্ঞ (সার্জন) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্গম উপকূলের মানুষকে এই সেবা পৌঁছে দিতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। এ জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।’
বিকেলে শহরের একটি হোটেলে কেক কেটে প্রথম আলোর ১৫তম জন্মদিন পালন করা হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রিয়তোষ পাল, আবু মোর্শেদ চৌধুরী, সরোয়ার আজম প্রমুখ। এরপর বন্ধুসভার সদস্যরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
সূত্র - প্রথম আলো

