home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ডায়াবেটিসের জটিলতাকে চিনুন
১৫ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  about diabetes  manage diabetes  diabetes  diabetes complications  
  Viewed#:   219

diabetes-complication

এটি একটি নীরব ঘাতক। নীরব এ জন্য যে প্রাথমিক তেমনকোনো উপসর্গ না থাকলেও রক্তের উচ্চমাত্রার শর্করা দেহের প্রতিটিঅঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে নিভৃতে। একসময় তা মারাত্মক জটিল আকারধারণ করে জীবন বিপন্ন করে দেয়। এ রোগের নাম ডায়বেটিস।

একজনডায়াবেটিক রোগীর অন্যদের চেয়ে হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি, স্ট্রোক বা পক্ষাঘাত হওয়ার ঝুঁকি ছয় গুণ , কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি পাঁচগুণ, অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ২৫ গুণ এবং পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে পা হারানোরআশঙ্কা ২০ গুণ বেশি। এসব ঝুঁকি, আশঙ্কা ও সম্ভাবনা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়একজন ডায়াবেটিক রোগীকে। তবে এসব ঝুঁকির অনেক কিছুই তিনি প্রতিরোধ করতেপারেন, যদি রোগ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকে। ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিসদিবস। এ বছর এই দিবসের স্লোগান হচ্ছে: ডায়াবেটিসের জটিলতাকে চিনুন, ভবিষ্যৎপ্রজন্মকে রক্ষা করুন।

ডায়াবেটিস কি নিয়ন্ত্রণে আছে?
ডায়াবেটিস-জনিতজটিলতা ঠেকানোর প্রধান উপায় হলো রক্তে শর্করা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এনিয়ে রোগীদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে। কেননা, রক্তে শর্করা অনেক বেশি বেড়েনা গেলে সাধারণত বেশি পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন হ্রাসের মতো উপসর্গদেখা দেয় না। কোনো উপসর্গ না দেখা দেওয়ার মানে এই না যে শর্করা নিয়ন্ত্রণেআছে। নিয়ন্ত্রণ মানে হলো অব্যাহতভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ খালি পেটে ৬মিলিমোল বা তার কম, খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ৮ মিলিমোলের কম এবং তিন মাসের গড়শর্করা এইচবিএওয়ান সি ৭ শতাংশের কম থাকা। এর ব্যতিক্রম হলেই শুরু হবে নানাজটিলতা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রিত আছে কি না এবং কোনো রকমের সম্ভাব্য জটিলতাদেখা দিচ্ছে কি না—এ দুটি বিষয়ে সচেতন থাকতে হলে নিয়মিত রোগীর নিজেকেপর্যবেক্ষণ করতে হবে। বাড়িতে সপ্তাহে এক বা দুই দিন গ্লুকোমিটার যন্ত্রেরসাহায্যে নিজের রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা, তিন মাস পর পর গড় শর্করারপরিমাণ পরিমাপ করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়াও অন্তত বছরে একবার বা দুবারপ্রস্রাবে আমিষ ও মাইক্রোঅ্যালবুমিনের পরিমাণ, রক্তে চর্বির পরিমাণ ও কিডনিকার্যকারিতার মাপক ক্রিয়েটিনিন নির্ণয় করা, চোখের চিকিৎসকের কাছে রেটিনাপরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের কাছে পা দুটি পরীক্ষা করানো জরুরি। এসব অঙ্গেকোনো রকম জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরও ঘন ঘনপরীক্ষাগুলো করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা উচিত। এর সঙ্গে অবশ্যই রক্তচাপ ওরক্তে চর্বি নিয়ন্ত্রণ করার কথাও মনে রাখতে হবে। তা ছাড়া রোগীকে শিখে নিতেহবে কীভাবে পায়ের যত্ন নিতে হয় এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে দেরি না করেচিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এভাবে প্রতিনিয়ত সচেতন ও সজাগ থাকলে তবেইজটিলতা এড়ানো সম্ভব।

প্রতিরোধ করা কি সত্যি সম্ভব
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বলছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ৭০ শতাংশপ্রতিরোধ করা সম্ভব। অথচ এ রোগ এখন মহামারীর মতো বেড়ে চলেছে। এখনই প্রতিরোধনা করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ৫৫কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এই বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাবেউন্নয়নশীল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। এই মহামারীর হাত থেকেভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে তাই দরকার জীবন যাপনে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন, পুষ্টিকর পরিমিত খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরকে ঠিকরাখা, যথাযথ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ। ওজন বেড়ে যাওয়া ওস্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস, কায়িক শ্রমের অভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মাতৃগর্ভে শিশুর অপুষ্টিসহ নানা কারণ ডায়াবেটিস হওয়ারজন্য দায়ী। সবকিছুর পরেও একমাত্র সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণই পারেএই রোগকে প্রতিরোধ করতে।


সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: হঠাৎ খিঁচুনিতে আতঙ্ক নয়
Previous Health Tips: প্রশ্ন:লেজার চিকিত্সার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বা চশমার প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি দূর করা কি সম্ভব?

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')