home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শীতে শরীরের যত্ন
১০ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  winter skin care  
  Viewed#:   225

দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। রাজধানীর বাইরে গ্রামাঞ্চলে এখনই পাওয়া যাচ্ছে শীতের ঠাণ্ডা আমেজ। শীতে সাধারণত রোগবালাই কম দেখা দিলেও অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে কিছু শারীরিক সমস্যার দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত শীত ও শীতকে অবহেলার কারণে এসব রোগব্যাধির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের এ ঋতুতে বিশেষ সাবধানে থাকা উচিত।যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের শীতকালে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া নাকে ঢুকে গেলে নাকে অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এতে নাকে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ প্রভৃতি উপসর্গের সৃষ্টি হয়।দীর্ঘদিন নাকে অ্যালার্জি থাকলে পলিপ হতে পারে। নাকের পলিপ হলে নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে।অপারেশনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অপারেশনের পর আবারও এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আধুনিক এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে চিরতরে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে আমাদের দেশে বড় বড় হাসপাতালে নিয়মিতভাবে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি হচ্ছে।

শীতকালে শিশুদের কানে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতকালে নানা উপসর্গের কারণে হঠাৎ করেই মধ্যকর্ণে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। এ রোগের কারণে কানে ব্যথা হয়, কান বন্ধ হয়ে যায়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিৎসা না করলে এমনকি কানের পর্দাও ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। এ রোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শীতকালের আরেকটি সমস্যা নাকের ইনফেকশন। নাকের দুই পাশের সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়, যাকে সাইনোসাইটিস বলা হয়। সাইনোসাইটিসের কারণে নাকের দুই পাশে ব্যথা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সাইনাসের ব্যথা তীব্র হলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সাইনাস প্রদাহে প্রথমে ওয়াশ এবং পরবর্তীতে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

শীতে অনেক সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। বিভিন্ন কারণেই নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। শিশুদের বেলায় সাধারণত আঙুল দিয়ে নাক খোঁচানোর কারণে রক্তপাত হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেঅনেক সময় হাই-ব্লাডপ্রেসারের কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

নাকের ভেতরের রক্তনালী শুকিয়ে গেলেও রক্তপাত হতে পারে। তাই নাক দিয়ে রক্তপাত হলে দেরি না করে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।শীতকালে যেসব রোগ দেখা দিতে পারে তাদের মধ্যে টনসিলের প্রদাহ বা গলাব্যথা অন্যতম। শীতকালে গলাব্যথা হয়ে টনসিলে তীব্র প্রদাহ দেখা দিতে পারে। তীব্র প্রদাহের জন্য গলাব্যথা, জ্বর এবং ঢোঁক গিলতে অসুবিধা হয়। জ্বর যদি ভাইরাসজনিত হয়, তাহলে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করলে এবং প্যারাসিটামল খেলে ভালো হয়ে যাবে। আর টনসিল প্রদাহ যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণমতো, সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে।ঠাণ্ডা লেগে কণ্ঠনালীতে ইনফেকশনের কারণে গলার স্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিহিস্টামিন খাওয়া যেতে পারে। তবে মেন্থলের গরম ভাপও এক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনে।

এছাড়া শিশুদের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ এতে শিশুদের শ্বাসনালীতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে এমনকি নিউমোনিয়াও হয়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লেগে গেলে শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

শীতকালে শিশু ও প্রবীণদের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন। এছাড়া শীতকালে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদেরও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ ও ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। কারণ হাঁপানির সঙ্গে সর্দি ও অ্যালার্জির যোগসূত্র আছে।


সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: নানান রঙের নখ
Previous Health Tips: শসার যত গুণ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')