
অতিরিক্ত ওজন বা মুটিয়ে যাওয়া (obesity) এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে জটিলতা তৈরি করে এবং আয়ু কমিয়ে দেয়। বর্তমানে উন্নত দেশে এটি জনস্বাস্থের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। সারা দুনিয়ায় যুবাদের ৫০ কোটিরও অধিক এ সমস্যায় আক্রান্ত।আমাদের দেশেও নেহাতই কম নয়। বিশেষ করে শিশু-যুবাদের এক বিরাট অংশ ইতোমধ্যে স্থূলতায় আক্রান্ত হয়েছে।
আপনি কি স্থূল : ওজন কেজিতে নিয়ে, মিটারে আপনার উচ্চতার বর্গকে দিয়ে ভাগ দিন। যদি ফলাফল ৩০ কিংবা ততোধিক হয়, তাহলে আপনি স্থূল বা মোটা। সাধারণত এ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই স্থূলতার শ্রেণী বিন্যাসও করা হয়ে থাকে। বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে হলে আপনার অজন বেশি, কিন্তু স্থূল না। ১৮.৫-২৫ এর মধ্যে স্বাভাবিক ওজন। ১৮ এর নিচে হলে শীর্ণকায়, ধরা হয়।
কারণ : শারীরিক কাজ কম করা, হরমোন জনিত, বংশগত, মানসিক সমস্যা এবং কিছু ওষুধ সেবন চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কারণেই হোক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ বা কোনো কারণে ক্যালরি কম খরচ হলে বাড়তি অংশ শরীরে জমা হয়। এটাই স্থূলতার মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তরা অতিরিক্ত খাওয়া স্বীকার করতে চান না; কিংবা বেশি খাচ্ছেন তা কখনও উপলব্ধি করেন না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অবস্থাপন্নরা আক্রান্ত হয় বিধায়, এটি সামাজিক রোগ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।
জটিলতা : স্থূলতায় আক্রান্তরা উচ্চ রক্তচাপ সহ নানা ধরনের হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, অস্থির প্রদাহ, পিত্তথলিতে পাথর, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, ঘুমে ব্যাঘাত, নানা ধরনের ত্বকের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
চিকিৎসা : সাধারণত খাদ্যা-ভ্যাস, জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু স্থূলতায় আক্রান্তরা খুব অল্প সময়ে চিকিৎসায় বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকের কাছ থেকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের রুটিন তৈরি করে নিন এবং উপদেশ মেনে চলুন।
এসবের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া গেলে মুখে খাবার ওষুধ দেওয়া হয়। কিছুতেই কাজ না হলে সার্জারির মাধ্যমে পাকস্থলীতে অপারেশন করা হয়ে থাকে। হরমোন জনিত বা অন্য কোনো কারণ থাকলে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। মনে রাখবেন সার্জারি বা লেজারের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশের চর্বি অপসারণ কোনো স্থায়ী সমাধান বা চিকিৎসা নয়। এগুলো ক্ষণিকের সমাধান। অনেকটা সেলুনে দাড়ি শেভ করার মতো।কাজেই এগুলোর শরণাপন্ন হওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করে নেয়া উচিত।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

