গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে কম ওজনের নারীদের হার কমে আসছে। অন্যদিকে একই বয়সী নারীদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা বাড়ছে। সার্বিকভাবে নারীদের পুষ্টির সমস্যা প্রায় একই আছে। এ বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমিন্যান্সের দুই গবেষকের একটি প্রবন্ধ ইউরোপের ওবেস রিভিউস-এ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ‘নিউট্রিশন ট্রানজিশন ইন বাংলাদেশ: ইজ দ্য কান্ট্রি রেডি ফর দিস ডাবল বার্ডেন’ (বাংলাদেশে পুষ্টির ক্রান্তিকাল: দেশ কি দ্বিগুণ বোঝার জন্য তৈরি) শিরোনামের এই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অপুষ্টির দ্বিগুণ বোঝা মোকাবিলার জন্য সমন্বিত জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ দরকার।
গত এক যুগের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশে ক্ষীণকায় (দীর্ঘদিন শক্তির স্বল্পতায় আক্রান্ত) নারীদের সংখ্যা কমে আসছে। ২০০০ সালে অপুষ্টির শিকার এ ধরনের নারী ছিল ৪৫ শতাংশ। ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ছিল যথাক্রমে ৩৮ ও ৩০ শতাংশ। আর ২০১১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৪ শতাংশে।
অন্যদিকে ২০০০ সালে অতি ওজন বা স্থূল নারী (১৫ থেকে ৪৯ বছর) ছিল ৯ শতাংশ। এক যুগে তা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১১ সালে অতি ওজন বা স্থূল নারী বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ শতাংশে। অপুষ্টি ও অতিপুষ্টির এই ধারা বিশ্লেষণ করে গবেষকদের অনুমান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অপুষ্টির তুলনায় অতিপুষ্টি বাংলাদেশের নারীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে।
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান শামস-এল-আরেফিন বলেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পুষ্টি গ্রহণ করলে মানুষ অতি ওজন ও স্থূলতার শিকার হয়। শারীরিক কাজকর্ম কম করলেও একই অবস্থা হয়। সমাজের উচ্চবিত্তের মধ্যে অতি ওজন ও স্থূলতার প্রকোপ বেশি।
গবেষকদের একজন সুস্মিতা হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নারীদের অতি ওজন ও স্থূলতার সমস্যা দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসংশ্লিষ্ট নীতি ও কৌশলপত্রে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বর্তমানে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতেও বিষয়টি অবহেলিত। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের পর স্থূল নারীর সংখ্যা অপুষ্টির শিকার নারীর চেয়ে বেশি হবে। এবং স্থূল নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসংক্রামক ব্যাধিবিষয়ক কর্মসূচির মাধ্যমে অতি ওজন ও স্থূলতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়। কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এ কে এম জাফরউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা উঠান বৈঠকে এ বিষয়ে কথা বলি। মানুষকে শারীরিক পরিশ্রম করতে ও তেলজাতীয় খাবার কম খেতে বলি।’ জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়। এ ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ নেই।
শামস-এল-আরেফিন বলেন, এখনো অপুষ্টির সমস্যাই দেশে মূল সমস্যা। তবে অতিপুষ্টির সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই এই বিষয়ে নীতি-নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিও হাতে নেওয়া দরকার।
সূত্র - প্রথম আলো

