গত বাংলাদেশ গেমসে জিমন্যাস্টিকসে সোনা জিতেছিলেন বিকেএসপির মুশফিকা শামস বীথি। টেনিসের মহিলা এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ঈশিতা আফরোজ। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের কেউ-ই সেভাবে অনুশীলন করতে পারছেন না। শুধু মুশফিকা-ঈশিতারাই নন, বিকেএসপির প্রায় ৬০ জন খেলোয়াড় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা সবাই জন্ডিসে ভুগছেন।
খেলোয়াড়েরা ছাড়াও বিকেএসপির অনেক কর্মকর্তা, কোচ ও কর্মচারী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বিকেএসপির জিমন্যাস্টিকস কোচ আকরাম আলী জানালেন, ‘আমার ২০ জন ছাত্র জন্ডিসে ভুগছে। ওদের সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ বিকেএসপির মতো আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের এভাবে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়াটাকে ভালোভাবে নেননি অভিভাবকেরা। শিক্ষক-ছাত্র সবাই এখন আতঙ্কে ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কাল বললেন, ‘বিকেএসপিতে ছাত্রদের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ। অথচ এদের চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। এসব দরিদ্র ছাত্রের অনেকেরই বাড়ি যাওয়ার গাড়িভাড়া পর্যন্ত নেই। গ্রামে গিয়ে এরা কবিরাজ দেখাবে। পুষ্টিকর কোনো খাবারও হয়তো জোটাতে পারবে না। এই ছেলেমেয়েরা অন্তত সাত মাস পিছিয়ে গেল।’
জন্ডিসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিকেএসপিতে চলছে সেমিনার, সভা। ছাত্রদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। বিকেএসপির আবাসিক চিকিৎসক এমাদুল হক বললেন, ‘জন্ডিসের যেসব সোর্স থাকার কথা সেগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। পানির পাইপের চাকতির যে ছিদ্রগুলো আছে সেগুলো পরীক্ষা করছি। এ কার্যক্রম এখনো চলছে। পানির ট্যাংকগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধোয়ার কাজ চলছে। এরই মধ্যে যাদের জন্ডিস ধরা পড়েছে তাদের আইসোলনে রাখা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া স্টাফ-কর্মচারী, ছাত্রছাত্রীদের আলাদা করা হচ্ছে।’ তাঁর দাবি আশপাশের গ্রাম থেকে এই জীবাণু বিকেএসপিতে এসেছে, ‘শুধু বিকেএসপিতে নয়, আশপাশের দু-তিনটি গ্রামেও জন্ডিস ছড়িয়ে পড়েছে। ওখানকার কিছু স্টাফ বিকেএসপিতে চাকরি করেন, আশপাশের অনেক ঠিকাদার এখানকার ক্যাফেটেরিয়ায় এসে খাওয়া-দাওয়া করেন। সেখান থেকেও এটা ছড়াতে পারে।’
তবে জন্ডিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি বলেই দাবি করছেন বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমাদুল হক, ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নিচ্ছি। ছাত্রদের চিকিৎসক দেখিয়েছি। পানি ও ট্যাংক পরীক্ষা করেছি।’ বিকেএসপিতে না রেখে ছাত্রদের কেন বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এখানে তো একই সঙ্গে এক ডাইনিং টেবিলে খেতে হবে সবার। রোগটা সংক্রামক। তা ছাড়া আমাদের হাসপাতালও অত বড় নয়। মাত্র একজন চিকিৎসক থাকেন। বেড দু-তিনটা। যে কারণে ছোট ছেলেমেয়েদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’
সূত্র - প্রথম আলো

