চুলকে দেখতে যতটা সাধারণ মনে হয়, ঠিক ততটা সাধারণ কিন্তু নয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুল থাকলেও মাথার চুল নিয়েই আমাদের যত চিন্তা। চুলের দুটি অংশ।বাইরের অংশ যা দৃশ্যমান তাকে shaft এবং ত্বকের ভেতরের গোড়া যাকে follicle বলা হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথায় লক্ষাধিক চুল থাকে।জীবনচক্র বিচারে এসব চুল তিনটি ধাপে অবস্থান করে। ৮৫% বর্ধনশীল (anagen), ৫% রূপান্তর (catagen) এবং ১৫% বিশ্রামরত ধাপে অবস্থান করে। মাথার চুলেরজীবনচক্র শেষ হতে ৩-৪ বছর সময় লাগে আবার চোখের ভ্রুতে ৪-৫ মাসেই শেষ হয়ে যায়। মনে রাখবেন প্রতিদিন ৫০-১০০টি চুল পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক দৈহিক প্রক্রিয়ার অংশ। যেহেতু চুলের গোড়া ত্বকের ভেতরে থাকে, তাই ত্বকের রোগের কারণে ওই স্থানের চুল আক্রান্ত হয়ে থাকে। চুল পড়ে যাওয়া বা চুলের নিচে চুলকানি, ফুসকুড়ি, চুল রুক্ষ, আঠালো বা ফেটে যাওয়া ইত্যাদি রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে থাকে।
ত্বকের প্রদাহ যেমন লাইকেন প্লানাস, সরিয়াসিস, লুপাস ইত্যাদি কারণে আক্রান্ত স্থানে চুলকানি, ফুসকুড়ি এবং চুল পড়ে জেতে পারে। লাইকেন প্লানাস একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, আক্রান্ত স্থানে চুলকানিএবং ক্ষত দেখা দেয়। সরিয়াসিসে এক ধরনের আস্তরণ থাকে যা খুসকির মতো ঝরে যায়, তবে খুব একটা চুলকানি বা ক্ষত প্রকাশ পায় না। আলপেসিয়া নামে এক ধরনের রোগে আক্রান্ত স্থানের চুল পড়ে এবং অন্য কোনো লক্ষণ থাকে না। নানা কারণে আলপেসিয়া হয়। এছাড়া চুলের গোড়ায় ব্রণ দ্বারা আক্রান্তও হতে পারে।
চিকিৎসা : আক্রান্ত স্থানের ত্বকের রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে চুল আক্রান্ত হয় না। এ কারণে লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

