
ছারপোকা – এমন অস্বস্তিকর, রক্তচোষা কীট থেকে সবাই চায় রক্ষা পেতে। মানুষের ঘুমানোর জায়গাগুলোতে লুকিয়ে থাকে। সাধারনত রাতে রক্তের সন্ধানে বের হয়। এদের নিধন করা কিন্তু খুব সহজ নয়। তবে বিজ্ঞানীরা দাবী করছেন যে, এই শক্ত রক্তচোষাদের আত্মরক্ষার কৌশল তারা জেনে ফেলেছেন।
আর সেটা হল ছারপোকাদের শরীরে একধরনের জিনের উপস্থিতি। এই জিনই কীটনাশককে অকার্যকর করে দেয়। এবং এগুলো ছারপোকাদের শরীরের বাইরের আবরনে বিদ্যমান। ভিতরে ঢোকার আগেই বিষকে শরীরের বাইরে বের করে দেয়ার কাজ করে এই জিন। আবার কিছু জিন আছে যারা পেস্টিসাইডের মলিকিউলার বন্ড ভেঙ্গে দেয়, যাতে ছারপোকার শরীরে কোন ক্ষতি করতে না পারে।
চার বছর ধরে কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায় যে, বিভিন্ন ধরনের পয়জনের বিরুদ্ধে ছারপোকার শরীরে প্রায় ১৪টি জিন সক্রিয় থাকে। এরা সবচেয়ে শক্তিশালী পয়জন পাইরিথ্রয়েড এর বিরুদ্ধেও দারুন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম।
উল্লেখ্য যে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে ছারপোকাই হল একমাত্র কীট, যাদের শরীরের বহিরাবরনে এধরনের জিনের উপস্থিতি সনাক্ত করা গেছে। এ বছরের শুরুতে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’ জার্নাল-এ গবেষনাটি প্রকাশিত হয়।
“তারা রাতের বেলা চলে আসে। মাত্র ৫ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় রক্ত শুষে নেয়। তারপর তারা তাদের ফাঁটলে, ম্যাট, খাটের বিভিন্ন ফাক-ফোঁকর, বালিশ কিংবা মশারীর কোনায় চলে যায়। কাজেই আপনি যখন পেস্টিসাইড কিংবা ইনসেক্টিসাইড ব্যবহার করবেন, তখন তাদের খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে যায়” – কথাগুলি বলছিলেন ফেডলাফার, আমেরিকার একজন এন্টোমোলজিস্ট।
তাহলে যাদের বাড়িতে ছারপোকার উপদ্রব আছে তাদের করনীয় কী? হ্যাঁ, কিছু কমন সেন্স ব্যবহার করে এদের প্রতিরোধ করা সম্ভব যেমন শোবার ঘরের জিনিসপত্র গাঁদাগাঁদি করে না রেখে সাজিয়ে রাখা, প্রায়শঃই ঘরদোর, বিছানাপত্র যথাযথভাবে পরিস্কার করা, চাদর, বালিশের কভার, মশারী ইত্যাদি গরম পানিতে নিয়মিত ধৌত করা, খাটের আনাচে-কানাচে ড্রায়ার দিয়ে হিট দেয়া, ছারপোকার সম্ভাব্য লুকানোর স্থানগুলো ধংস করা ইত্যাদি।
ওয়েবএমডি থেকে সংক্ষেপিত
সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১

