ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ রোগীদের রক্তের সুগারের ওঠানামার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তিও পরিবর্তিত
হয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর চশমা নেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি-
* চশমা নেয়ার আগে সুগার বা চিনির মাত্রা নির্ণয় করে নিতে হবে। রক্তে চিনির মাত্রা বেশি হলে সে মুহূর্তে চশমা
বদল করা উচিত হবে না। কারণ সুগার নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পর তা দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে খাপ খাবে না।
* রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে একেবারে স্বাভাবিক পর্যায়ে চিনির মাত্রা থাকতে হবে, এমন
কোনো কথা নেই। তবে তা ১০ মিলিমোল/লিটারের নিচে হতে হবে। খালিপেট ও ভরাপেটে রক্তে চিনির মাত্রার
পার্থক্য চার মিলিমোল/লিটারের মধ্যে থাকা ভালো।
* আপনার বাসায় যদি গ্লুকোমিটার থেকে থাকে তাহলে চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার আগমুহূর্তে রক্তে চিনির
মাত্রা জেনে নিন এবং তা বিশেষজ্ঞ চিকি সককে জানান।
পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে
চোখ ও মাথাব্যথায় আক্রান্ত হলে পরীক্ষার্থী সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অনেক
ক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তানরা স্কুল বা কোচিং সেন্টার থেকে বাসায় ফিরেই মা-বাবার কাছে মাথাব্যথার উপসর্গের
কথা জানায়। ‘দূরে দেখা যায় না’, ‘সামান্যক্ষণ পড়াশোনা করলেই মাথাব্যথা হয়’, ‘মনোযোগ থাকে না’ ইত্যাদি
উপসর্গের কথা তারা বলে থাকে। এক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে মা-বাবা তাদের চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।
কী করবেন
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার থেকে বাসায় ফিরে এসে বা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া শেষ করার পরপরই
চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাবেন না। কেননা এ সময় ছেলেমেয়েদের চোখ ক্লান্ত থাকে। ক্লান্ত চোখের
অন্তঃস্থিত পেশি স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকায় সে সময় চোখে এক ধরনের দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ
সময় চশমা নেয়া হলে তা সঠিক মাত্রার হবে না।
* বিশেষজ্ঞ চিকি সকের কাছে পরামর্শ নেয়ার আগে আপনার সন্তানকে চোখের বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ দিন।
প্রয়োজনে যেদিন তাকে চিকি সকের কাছে নিয়ে যাবেন, সেদিন ঘণ্টা দুয়েকের জন্য পড়াশোনা থেকে বিরত রাখুন।
প্রয়োজনে তাকে ঘুমাতে দিন।
* বিশেষজ্ঞ চিকি সককে প্রথম দিকে যাতে দেখাতে পারেন সে জন্য আগেই নাম তালিকাভুক্ত করুন। অর্থা
পরীক্ষার্থী নিয়ে দীর্ঘ ‘সিরিয়ালের’ পরিবর্তে প্রথম দিকেই পরামর্শ নিন। এতে আপনার সন্তানের চোখের
পরীক্ষাটাও ভালো হবে।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

