শরীরের ভেতরের কোনো গহ্বর (লুমেন বা কেভিটি) নিজ চোখে দেখার ব্যবস্থাকে এন্ডোস্কোপি বলে। চোখ
দেখার জন্য অপথালমোস্কোপ, গলা দেখার জন্য লেরিঙ্গোস্কোপ, ফুসফুসের নালি দেখার জন্য
ব্রঙ্কোস্কোপ, সাইনাসের ভেতর দেখার জন্য সাইনোস্কোপ, কানের গহ্বর দেখার জন্য অরোস্কোপ,
খাদ্যনালি দেখার জন্য ইসোফেগোস্কোপ, পাকস্থলি দেখার জন্য গ্যাস্ট্রোস্কোপ, ক্ষুদ্রান্ত্র দেখার জন্য
এন্টারোস্কোপ, বৃহদান্ত্র দেখার জন্য কলোনোস্কোপ, পায়ুপথ দেখার জন্য প্রক্টোস্কোপ ইত্যাদি নানা
এন্ডোস্কোপ আজকাল হরহামেশা ব্যবহার হচ্ছে। এক সময় ছিল শরীরের ভেতরের রোগ দেখার জন্য কেটে খুলে
দেখা ও চিকি সা একসঙ্গেই করা হত। পরবর্তী সময়ে শরীরের ভেতর দেখার জন্য মেটালিক রিজিড শক্ত কিছু
স্কোপ তৈরি হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে Fibro optic এন্ডোস্কোপ আবিষ্কৃত হয় এবং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে খাদ্যনালি, পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ভাগ ডিওডিনাম একসঙ্গে দেখার জন্য Upper G ও
endoscopy সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আমাদের দেশে গত শতাব্দীর শেষ দিক থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।
আজকাল মহানগর, মফস্বল শহর, উপশহর প্রায় সব জায়গাতেই Upper G I endoscope ব্যবহার হচ্ছে। সঙ্গে
Video system যোগ হওয়াতে এর ব্যবহার বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। ডাক্তার, রোগী ও রোগীর আপনজন সবাই
স্বচক্ষে পুরো পরীক্ষা অবলোকন করতে পারেন। ভবিষ্যতের জন্য পুরোটা রেকর্ডও করে রাখা যায়। অন্য
বিশেষজ্ঞকে মেইল করে প্রয়োজনে পরামর্শ নেয়া যায়। কিংবা হার্ড কপি হিসেবে এর রঙিন ছবি সারা জীবন
সংরক্ষণ করা যায়। এই পরীক্ষায় রোগ নির্ণয় সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ। এর মাধ্যমে অনেক চিকি সাও বিনা
অপারেশনে করে ফেলা যায়। মাংসের দলা, হাড়, আলগা দাঁত বা পয়সা গিলে যদি খাদ্যনালিতে আটকে যায় তা
এন্ডোস্কোপি দিয়ে সহজেই বের করে দেয়া যায়। খাদ্যনালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ভাগ ডিওডিনাম বা
বৃহান্ত্রের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়। ছোট টিউমার কেটে বাদ দেয়া যায়, বায়োপসি করে যে কোনো টিওমারের
ধরন বা H pylori’র উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। যাদের খাদ্যনালি সরু হয়ে গেছে, তা বেলুন দিয়ে প্রশস্ত করা যায়।
ক্যান্সারে যাদের খাদ্যনালি বন্ধ হয়ে খেতে পারেন না তাদের খাদ্যনালিতে টিউব বসিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা
যায় পেটে ছিদ্র করে টিউব (PEG) বসিয়ে সরাসরি পাকস্থলিতে খাদ্য দেয়া যায়। আজকাল endoscope-এর মাথায়
US probe লাগানো যন্ত্র দিয়ে পেটের ভেতরের অনেক ছোটখাটো টিউমার বা Lymph node-এর অবস্থান
নির্ণয় করে Biopsy নেয়া যায়। endoscope করাটা রোগীর জন্য এক ধরনের অস্বস্তি হতে পারে। ভয়ের কিছু নেই,
রোগীর সামান্য সহযোগিতা সব অস্বস্তির অবসান ঘটাতে পারে। endoscope করার আগে ৭-৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণ
উপোস থাকতে হয়। পরীক্ষা করার সময় মনোযোগ দিয়ে ডাক্তারের কথা মেনে চলতে হয়- ভয়ে শরীরটাকে শক্ত না
করে সাধ্যমতো রিলাক্স থাকুন, নাক দিয়ে নিঃশ্বাস টানুন, mouth মধমটা শক্তভাবে কামড়িয়ে রাখুন পাইপটা গলার
প্রথম অংশ পার হওয়ার সময়ই অস্বস্তিটা সবচেয়ে বেশি হয়, এটা এক ধরনের সুড়সুড়ি। গলার এই অস্বস্তি
লাঘবের জন্য এক ধরনের স্প্রে করে গলা অবশ করে নেয়া যায়। তারপরও সাহস না হলে ঘুমের ইনজেকশন বা
অ্যানেসথেসিয়ার ইনজেকশন দিয়ে অচেতন অবস্থায় ব্যথাবিহীন, অনুভূতিবিহীনভাবে এই পরীক্ষা বা চিকি সা নেয়া
যায়। ভয় পেয়ে এমন অত্যাধুনিক চিকি সা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

