home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মিষ্টি কিন্তু মিষ্টি নয়!
২৯ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   243

সাধারণ চিনি হচ্ছে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের একটি যৌগ। চিনিতে এই দুই ধরনেরশর্করা ৫০: ৫০ অনুপাতে থাকে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মিষ্টি, মিষ্টান্ন দ্রব্যবা সোডা ও কোমল পানীয় তৈরিতে সাধারণ চিনির বদলে ব্যবহূত হয় ফ্রুক্টোজকর্ন সিরাপ, যাতে ফ্রুক্টোজের পরিমাণ গ্লুকোজের চেয়ে অনেক বেশি। গ্লুকোজআমাদের শরীরে শক্তির প্রধানতম উৎস। দেহের প্রায় প্রতিটি কোষ গ্লুকোজব্যবহার করে ক্যালরি উৎপন্ন করে। কিন্তু ফ্রুক্টোজ ব্যবহূত হয় কেবল যকৃতে।আর আমাদের যকৃৎও অতিরিক্ত বা অনাবশ্যক ফ্রুক্টোজ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতনয়।

বিষয়টি প্রথম বিজ্ঞানীদের নজরে আসে ২০০৮ সালের দিকে। দেখা যায়, গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ—দুটিই শর্করা হলেও শরীরে দুভাবে এরা কাজ করে। খাদ্যথেকে আহরিত প্রায় সব গ্লুকোজ বিভিন্ন কোষে ব্যবহূত হয়ে যায়, বাকিটাইনসুলিন ভেঙে ফেলে এবং মাত্র ২০ শতাংশ যকৃতে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

কিন্তু ফ্রুক্টোজের ১০০ শতাংশই যকৃতে গিয়ে ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রাইগ্লিসারাইড, ভিএলডিএল ইত্যাদি ক্ষতিকর চর্বিরূপে জমা হতে থাকে। আপনি যদি ১২০ ক্যালরিগ্লুকোজ খান, দিনের শেষে তার মোটে এক ক্যালরি চর্বিরূপে জমা হয়। কিন্তু১২০ ক্যালরি ফ্রুক্টোজের প্রায় ৪০ ক্যালরি শেষ পর্যন্ত চর্বিতে পরিণত হয়।যকৃতে জমা হওয়া অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়েদেয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়, রক্তচাপ ওহূদেরাগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া গ্লুকোজ যদিও তৃপ্তি হরমোনগুলোকেউদ্দীপ্ত করে, ফ্রুক্টোজ করে ঠিক তার উল্টোটা। তাই ফ্রুক্টোজ বেশি খেলেখিদে বা খাওয়ার ইচ্ছা আরও বাড়ে, যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

সত্তরেরদশক থেকে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের মিষ্টিদ্রব্য ও পানীয় তৈরিতে কর্ন সিরাপেরব্যবহার বেড়ে যায় দুটি কারণে। এটি চিনির চেয়ে সস্তা এবং বেশি মিষ্টি।বর্তমানে ইউএসডিএর মতে, গড়পড়তা মার্কিনদের দৈনিক খাবারের এক-চতুর্থাংশক্যালরি আসে এসব ফ্রুক্টোজ-মিশ্রিত খাবার থেকে। সাধারণ ফলমূল ও সবজিতেও আছেফ্রুক্টোজ। কিন্তু এত অল্প পরিমাণে থাকে, যা ক্ষতিকর নয়। যেমন, এক কাপটমেটোতে আছে ২ দশমিক ৫ গ্রাম ফ্রুক্টোজ, কিন্তু এক কাপ সোডা বা কোমলপানীয়তে আছে ২৩ গ্রাম। সমস্যাটা সেখানেই। মিষ্টি, জুস, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদিতে এত বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ আছে, যা প্রতিনিয়তবাড়িয়ে চলেছে ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ, ওজনাধিক্য, হূদেরাগের প্রকোপ। তাই মিষ্টি মানেই কিন্তু মিষ্টি নয়।

সূত্র - প্রথম আলো
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শিশুদের কিছু সাধারন রোগ বালাই
Previous Health Tips: অভ্যাস বনাম বদভ্যাস

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')