home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

জেনে নিন প্রাণঘাতী রোগ থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে
১৭ জুলাই, ১৪
Tagged In:  Prevention of thalassemia  disease thalassemia  
  Viewed#:   82

disease-thalassemia

থ্যালাসেমিয়া একটি জীবননাশী ভয়াবহ রোগ। এবং এটি একটি বংশগত রোগ। যদি বাবা মায়ের জীনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক থাকে তবে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার আশংকা থাকে অনেক বেশি। এই রোগে দেহে রক্ত উৎপাদন হয় না। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজীবন শরীরে রক্ত দিয়ে যেতে হয়। যা অনেক বেশি ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি।


থ্যালাসেমিয়া হওয়ার মূল কারণ
রক্তের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। আমরা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন গ্রহন করি তা পুরো দেহে বহন করে নিয়ে যায় রক্তের হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিন তৈরী হয় দুটি প্রোটিন দিয়ে যার নাম আলফা প্রোটিন ও বিটা প্রোটিন। যখন এই প্রোটিন গুলোর উৎপাদন দেহে কমে যায় তখন দেহে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদনও কমে যায়। এবং থ্যালাসেমিয়া রোগটি দেখা দেয়। আলফা ও বিটা প্রোটিন প্রধানত তৈরী হয় মানুষের জীন হতে। যখন বাবা মায়ের জীনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক থাকে তখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানেরা বংশানুক্রমে একই জীন পায়। এবং তখনই মূলত থ্যালাসেমিয়া হতে দেখা দেয়। সুতরাং থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এবং এটি প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে জীনের ত্রুটি খুবই সামান্য থাকে যে থ্যালাসেমিয়ার কোন লক্ষণই দেখা যায় না। তারা থ্যালাসেমিয়ার রোগী নন কিন্তু তাদেরকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বলা হয়। এক্ষেত্রে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু, ভবিষ্যতে বিয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি সাবধান থাকতে হয়। কেননা দুইজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের বিয়ে হলে সন্তানকে এই রোগ নিয়ে জন্মাতে দেখা যায়।

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষন সমূহ
- রোগী অবসাদ অনুভব করে থাকেন।
- রোগী সাধারনত শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগে থাকেন।
- অন্যান্য কোনো কারণ ছাড়াই পেট ফুলে যায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর।
- হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তাভ ভাব কমে যায় এবং মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশ হয়ে যায়।
- ত্বক হলদেটে হয়ে যায় এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব হয়। অর্থাৎ জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়।
- শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমে যেতে থাকে। এবং মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়েন রোগী।
- মুখের হাড়ের বিকৃতি ঘটে। নাকের হাড় বসে যায় ভেতরের দিকে।

বাংলাদেশে এর পরীক্ষা
যদি কারো মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ দেখা দেয় এবং এর সাথে অন্য কোনো রোগের সংযোগ না থাকে তবে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করান। এতে যদি অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন এটি আসলেই থ্যালাসেমিয়া কিনা।

থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণের জন্য যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে তার নাম হচ্ছে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস। ঢাকার বারডেম, পিজি, সি.এম.এইচ, আইসিডিডিআরবি, কেয়ার হাসপাতাল এবং পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই পরীক্ষাটি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে করা হয়।

সূত্র - ওয়েবসাইট 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: রোদ–বৃষ্টির দিনে ত্বক ও চুলের যত্ন
Previous Health Tips: সেহেরির পর কাজগুলো করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর!

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')