home top banner
Please Login or Register

Health Tip

থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ
13 November,13
Tagged In:  Prevention of thalassemia  thalasemia  
  Viewed#:   162

prevention- of- thalassemia

থ্যালাসিমিয়া একটি বংশগত রোগ এবং জিন (Gene) বাহিত। থ্যালাসিমিয়া শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Thalassa থেকে। যার অর্থ সমুদ্র। এ রোগটি খুব বেশি দেখা যায় ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত অঞ্চলে। তাই এর নাম থ্যালাসিমিয়া।থ্যালাসিমিয়া পিতা-মাতার মাধ্যমে সন্তানেরা পেয়ে থাকে। যে বংশে এ রোগ আছে, সেই বংশের লোকজনই বংশানুক্রমে এটা বহন করে। পিতা-মাতা থেকে সন্তানদের মধ্যেযার মাধ্যমে এটা প্রবেশ করে তাকে জিন (Gene) বলে। পিতা ও মাতার কাছ থেকে সন্তানরা এই রোগের একটি করে মোট দুইটি রোগ বাহিত জিন গ্রহণ করে নিজেরা রোগাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় বাবা, মা এই রোগাক্রান্ত না হয়েও রোগ বহন করেন। তাদেরকে বলা হয় রোগবহনকারী বা Carrier । তাদের রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে তারা তাদের সন্তানদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, এটা কোনো ছোঁয়াচ বা সংক্রামক রোগ নয়। একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে খাবার, পানীয়, বাতাস, কাপড়-চোপড় ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায় না।খ্যালাসিমিয়া রোগের প্রধান ঘটনা রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক ভাবে তৈরি না হওয়া। এর ফলে হিমোগ্লোবিনের সাধারণ কাজ অক্সিজেন কোষ গুলোতে পৌঁছে দেয়া এবং কার্বনডাই অক্সাইড কোষ থেকে নিয়ে শরীরের বাইরে বের করে দেয়ার কাজ বিশেষ ভাবে ব্যাহত হয়।

শরীরের রক্ত উৎপাদনের সব ব্যবস্থা এবং উপকরণ ঠিক থাকা সত্ত্বেও হিমোগ্লোবিন ত্রুটির জন্য রক্তের কাজ ব্যাহত হয়। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন সহ লাল কণিকা গুলো তাদের স্বাভাবিক জীবনকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে রক্তাল্পতা, বিশেষ ভাবে রক্তের লাল কণিকার মাত্রাতিরিক্ত ক্ষয়জনিত কারণে রক্তাল্পতার লক্ষণ (HaemolyticAnaemia) এ রোগে দেখা যায়।থ্যালাসিমিয়ার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন-

বিটা থ্যালাসিমিয়া,

আলফাথ্যালাসিমিয়া,

হিমোগ্লোবিন-ই,

হিমোগ্লোবিন-এস,

হিমোগ্লোবিন-সি,

হিমোগ্লোবিন-ডি পাঞ্জাব ইত্যাদি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসিমিয়া বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে বিটা থ্যালাসিমিয়া এবং হিমোগ্লেবিন-ই ডিসঅর্ডার বেশি দেখা যায়।বিটা থ্যালাসিমিয়া তিন প্রকার

(১) বিটা থ্যালাসিমিয়া মেজর

(২) থ্যালাসিমিয়াইন্টারমিডিয়া,

(৩) বিটা থ্যালাসিমিয়া মাইনর।

বিটা থ্যালাসিমিয়া মেজর হয়ে থাকে তাদের, যাদের পিতা-মাতা উভয়েই বিটা থ্যালাসিমিয়ার বাহক। ছোটবেলা থেকেই এরা গুরুতর রক্তাল্পতায় ভুগতে থাকে। এ রোগের লক্ষণ সাধারণত তিন মাস বয়স থেকে আঠারো মাস বয়সের মধ্যে দেখা দেয়।রোগী ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। রোগীর ুধামন্দা দেখা দেয়। খাবার পরে বমি করে।ঘুমোতে পারে না। রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৩-৫ গ্রাম/ ডেসিলিটারে নেমে আসে। জন্ডিস দেখা দিতে পারে। লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যায়। চেহারায় মঙ্গোলীয় পরিবর্তন চোখে পড়ে। এরা প্রায়ই জীবাণু সংক্রমণের জন্য সর্দি, কাশি ও জ্বরেভোগে। সংক্ষেপে বলা যায়, রোগী যদি ফ্যাকাশে এবং হলদে হয়ে পড়ে, বয়সের তুলনায় তাকে ছোট দেখায়, নাক চ্যাপ্টা হয় এবং পেট বড় দেখায় তাহলে এ রোগ সন্দেহ করা হয়। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে পাঁচ-ছয় বছরের মাথায় শিশুর জীবনহানির সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের রোগী রক্ত দেয়ার মাধ্যমে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।বিটা থ্যালাসিমিয়া মাইনর আক্রান্ত হয় তারা, যারা পিতা কিংবা মাতা যেকোনো একজনের কাছ থেকে বিটা থ্যালাসিমিয়া জিন পেয়ে থাকে।

বিটা থ্যালাসিমিয়া মাইনর বা বিটা থ্যালাসিমিয়া ট্রেইট গ্রুপের লোকদের বলা হয়, এরা সুস্থ বহনকারী (Healthy Carrier)। তাদের তেমন কোনো রোগ লক্ষণ দেখা যায় না। তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো অসুবিধা হয় না। তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। তবে তারা সামান্য রক্তাল্পতায় ভুগতে পারেন। তাদের মানসিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক এবং ঠিকসময়ে প্রাপ্তবয়স্ক হন। তারা স্বাভাবিক বিবাহিত জীবনযাপন করতে পারেন। তারা সন্তান উৎপাদন বা ধারণে সক্ষম। তবে তাদের সন্তানদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০ শতাংশ। থ্যালাসিমিয়া মাইনর যারা তারা শুধু বাহক।

থ্যালাসিমিয়াজীনের বাহক বা বাহিকা যদি এমন একজনকে বিয়ে করেন যিনি ওই জীনের বাহক বাবাহিকা নন, তাহলে তাদের মিলনে জন্ম নেয়া সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে জন্মনিতে পারে ৫০ শতাংশ।বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আর যে সব রোগী রক্তসঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৯-১০.৫গ্রাম/ডেসিলিটারের ওপর রাখতে হবে। যে সব রোগী মাঝে মধ্যে রক্ত নেয়ার দরকার হয় তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ সাধারণত ৭ গ্রাম/ডেসিলিটার রাখার চেষ্টা করতে হবে। এসব রোগীর চিকিৎসায় অস্থি-মজ্জা সংযোজনে (Bone Marrow Transplantation) ভালো ফল পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে সম্প্রতি অস্থি-মজ্জাসংযোজন শুরু হয়েছে।খাবারের ক্ষেত্রে যে সব খাবারে অধিক পরিমাণ লৌহ থাকে, সেই সব খাবার পরিহার করতে হবে। কম লৌহযুক্ত খাবারে মাছের তালিকায় রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ, বোয়াল, মাগুর, শোল মাছ ইত্যাদি রয়েছে। শাকসবজির মধ্যে বাঁধাকপি, মিষ্টি আলু, করলা, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, মুলা শালগম, কাঁচাকলা, লাউ, পাকা টমেটো, চাল কুমড়া ইত্যাদি। ফলের মধ্যে পাকা আম, লিচু, পেয়ারা, কলা, পাকা পেঁপে, কমলা লেবু, আপেল, বেল, আমলকি, আঙ্গুর ইত্যাদি। মধু, দুধ, দই ইত্যাদিও নিয়মিত খাওয়া যাবে। চাল, ময়দা, পাউরুটি এ্বং মসুর ডালও খাবারের তালিকায় রাখা যাবে।থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধে বিয়ে-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা জরুরি। প্রি-নেটালডায়াগনোসিসের মাধ্যমেও আগেই রোগ চিহ্নিত করা যায়। যারা বাহক হবে তারা কখনোই অন্য একজন বাহককে বিয়ে করবে না। এর ফলে থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি যদি কেউ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে চায় তাহলে দক্ষ এবং যোগ্য চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে হবে। বাণিজ্যিক প্রচারকদের কাছে না যাওয়াই ভালো।


সূত্র - নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: প্রোস্টেট বড় হওয়া মানেই ক্যানসার নয়
Previous Health Tips: অ্যাজমা প্রতিরোধের উপায়

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')