যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ বিমলাংশু দে বলেছেন, ঠিক সময়ে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা গেলে ৮০ শতাংশ থ্যালাসেমিয়া রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রবাসী চিকিৎসক বিমলাংশু দে এই কথা বলেন। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
বিমলাংশু দে বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসায় মূল সমস্যা হচ্ছে দাতার স্বল্পতা। প্রতিস্থাপনের জন্য যাদের শরীর থেকে অস্থিমজ্জা নেওয়া হবে, তাদের তালিকা বা নিবন্ধন দেশে নেই। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্রে রক্ত ক্যানসার শনাক্ত করা এবং এর চিকিৎসায় এমন একটা মান দাঁড় করাতে হবে, যেন অন্যরা তা অনুসরণ করে।
সেমিনারে মূল উপস্থাপনায় নিপসমের সহযোগী অধ্যাপক বায়েজিদ খুরশিদ রিয়াজ বলেন, দেশের ক্যানসার রোগীর ১১ শতাংশ রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত। দেশের ছয়টি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক হাজার ৬৫৮ জন ক্যানসার রোগীর ওপর সমীক্ষার ভিত্তিতে তিনি এই তথ্য দেন।
সেমিনারের আগে গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক। হাসপাতালের নবনির্মিত দ্বিতীয় ভবনের দশম তলায় এই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্র। কেন্দ্র স্থাপনকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা উল্লেখ করে রুহুল হক বলেন, দেশের মানুষ কম খরচে যেন যুক্তরাষ্ট্রের মানের সেবা পায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। মান ও পরিবেশের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও পাঁচজন যন্ত্রকারিগরের একটি দল এই কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত থাকবে। এই কেন্দ্র স্থাপনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এ কে খান ফাউন্ডেশন। কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল।
স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কাজী দীন মোহাম্মদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ।
সূত্র - প্রথম আলো

