গরম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে৷ আর এসমেয়ই বাজার ভরে উেঠছে হরেক রকম ফলে৷ ফলগুলো শুধু রসনা বিলাসের অনুষঙ্গ নয়, পুষ্টির চাহিদা পূরণেও রাখে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা৷ এই যেমন কাঁচা আম; বাজারে এখন এই ফলের ছড়াছড়ি৷
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেয়া মাওলার কাছ থেকে জেনে নেওয়া যাক কাঁচা আমের পুষ্টিকথা:
কাঁচা আম যেমন স্বাদের, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী৷ তবে উপকারের আশায় কাঁচা আম বেশি খেলে কিন্তু ডায়রিয়া হতে পারে৷ আর ডায়রিয়া চলাকালে কাঁচা আম খাবেন না৷ এ ছাড়া কাঁচা আম সব সময়, সবার জন্যই ভালো৷
আম উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ থাকে আমে৷ ভিটামিন এ চোখের জন্য খুব দরকাির৷ চোখের স্নায়ু ও মাংসপেশির ক্ষয় পূরণে কাঁচা আমের ভূমিকা
ভিটামিন সি শরীরকে বাঁচিয়ে দেয় ছোঁয়াচে রোগ থেকে৷ এ ছাড়া দাঁত, চুল ও নখ ভালো রাখার জন্য আমে থাকা ভিটামিন সি যথেষ্ট জরুরি৷
মুখের স্বাস্থ্য আর ঠোঁটের কোনায় ঘায়ের মতো অসুখগুলো এড়ানো যাবে শুধু কাঁচা আম খেলেই৷
স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের অন্যান্য জটলি রোগের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা আছে কাঁচা আমের৷
কাঁচা আমে কপার নামে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে, যা দেহে রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে৷
এতে থাকা ডায়াটরি ফাইবার পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে৷
গর্ভবতী নারীরা কাঁচা আম খেতে পারেন, এতে অনাগত শিশুর সংক্রামক রোগগুলো তুলনামূলকভাবে কম হবে৷
চর্বি কমাতে, ওজন কমাতে সাহায্য করে কাঁচা আম৷
যেকোনো ক্ষত বা অস্ত্রোপচারের পরে এই ফল কাটা স্থান দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে৷
আমে থাকা উচ্চমাত্রার পটািশয়াম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে৷
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ আর ডায়াবেটিক রোগীরা কাঁচা আম লবণ বা চিনি দিয়ে খাবেন না৷ লবণ রক্তচাপ বাড়ায় আর চিনি রক্তে সুগার বাড়ায়৷
মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোয় অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেহকে সতেজ রাখে আম৷
কাঁচা আমে চর্বি বা কোলেস্টেরল থাকে না৷ এই ফল খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার বা ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই৷
এই ফল রাতে না খাওয়াই ভালো৷ এতে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস হওয়ার আশঙ্কা আছে৷
তারুণ্য ধরে রাখতে আম খান নিয়মিত৷ আম হতে পারে ওষুধের বিকল্প৷
সূত্র - প্রথম আলো

