home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

পেট কমাতে ১০ পরামর্শ
১৩ মে, ১৪
Tagged In:  reduce belly fat  Obesity  
  Viewed#:   1250

মেদবহুল পেট, পেট ফাঁপা নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। যারা একটু স্থূলকায়, তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটাও বাড়তে থাকে সমানুপাতিক হারে। আপনার মনে হতে পারে, পরিশ্রম তো কম করছি না, তারপরও পেট নিজের ইচ্ছেমতোই বাড়ছে। আসলে আপনার পেট আপনারই নিয়ন্ত্রণে। আপনার শুধু প্রয়োজন একটি সুষম খাদ্য-তালিকা তৈরি করা এবং সেটা সুশৃঙ্খলভাবে অনুসরণ করা। হাঁটা, সাইক্লিং ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে ও পটাসিয়ামসমৃদ্ধ আঁশ জাতীয় খাবার আপনাকে দিতে পারে মেদহীন পেট।

নিচে পেট কমাতে যা খাবেন ও যা খাবেন না, সে সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হলো:

লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন: খাবারে লবণের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে দিন। তবে প্রয়োজনীয় আয়োডিনটাও শরীরকে দিতে হবে। তাই লবণ খাওয়াটা একটি পরিমিত মাত্রায় নিয়ে আসুন। কাঁচা লবণ খাবেন না। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ রান্না করা খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণ খেতে পারেন।

ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড বাদ দিন: কখনোই ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার খাবেন না। কারণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনার শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনার শরীরটাকে স্থূলকায় করতেও ভূমিকা রাখে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া নানাবিধ ও ভয়াবহ সব স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণও প্রক্রিয়াজাত এসব খাবার।

তেলে ভাজা খাবার পরিহার করুন: বাইরের তেলে ভাজা খাবার তো নয়ই, বাড়িতেও যথাসম্ভব তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। রমজান মাসে খাবার তালিকায় ১ বা ২ দিন তেলে ভাজা খাবার রাখতে পারেন।

কোমল পানীয় রাখুন বাদের তালিকায়: যে কোন কোমল পানীয় আপনার স্বাস্থ্যের ওপর নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। হাড়ের ক্যালসিয়াম, দাঁতের এনামেল ক্ষয় থেকে শুরু করে ক্যান্সারের কোষ পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে কোমল পানীয়। আর একই সঙ্গে আপনার মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণও কোমল পানীয়। তাই কোমল পানীয় চিরতরে পরিত্যাগ করুন। এর পরিবর্তে পান করুন বাড়ির ফিল্টারের সুপেয় পানি, ডাবের পানি ও ফলের জ্যুস।

আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান: দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি পেট ফাঁপার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। তাই প্রথমেই জেনে নিন কোন খাবারগুলোতে বেশি আঁশ থাকে।
 

পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান: সোডিয়াম যেমন শরীরের পানিকে ধরে রাখে, পটাসিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে কলা, মিষ্টি আলু ইত্যাদি। অবশ্য, একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। কারণ, মিষ্টি আলু জাতীয় খাবারে মুটিয়ে যাওয়ার কিছুটা ঝুঁকিও রয়েছে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: নিজেকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পানের কোন বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত পানি না করলে শরীরে সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়।

সাধারণ খাবার খান: যেসব খাবারে চর্বি বা চিনির পরিমাণ বেশি, সেসব খাবার খাওয়ার সময় পরিমাণের দিকটা লক্ষ রাখুন। প্রয়োজনে কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন। সহজে হজম হয়, এ ধরনের সাধারণ খাবার খাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিন।

কৃত্রিম মিষ্টি খাবেন না: খাবারকে বেশি মিষ্টি করার জন্য বাজার থেকে কেনা কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করবেন না। এতে শরীরে নানা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
 

বাড়িতে তৈরি খাবার খান: অনেক সময় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ হোটেলে হয়তো দুপুর বা রাতের খাবারটা সেরে নেন। একটু কষ্ট করে হলেও, বাড়ি থেকে অফিস বা কর্মস্থলে খাবার নিয়ে যাওয়াটাই সমীচীন। কারণ, হোটেলের বাবুর্চি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ির গৃহিণী বা মায়ের মতো স্বাস্থ্য-সচেতন হবেন না। তাই এক্ষেত্রে নিজে সচেতন হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য আপনার নিয়ন্ত্রণে, আপনি স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণে নন।

সূত্র - দৈনিক মানবজমিন
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: বাদাম নিয়ে সাতটি অজানা তথ্য
Previous Health Tips: যে খাবারগুলো ভুল করেও ফ্রিজে রাখা উচিত নয় ....

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')