সুগঠিত স্লিম শরীরের অধিকারীদের জন্য ১৩টি 'গোপন' অভ্যাস
১২ এপ্রিল, ১৪
Viewed#: 235
বহু মানুষ মনে করেন সুন্দর, সুগঠিত ও স্লিম শরীরের কোনো গোপন রহস্য আছে। এ কারণে বহু সুগঠিত শরীরের মানুষকে এর ‘গোপন রহস্য’ সম্পর্কে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এ নিয়মগুলো এতো সহজ ও স্বাভাবিক যে শোনার পর এগুলো অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। এখানে এমন ধরনেরই কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যা অন্যরা গোপন তথ্য বলে মনে করে। এ বিষয়ে এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার।
এসব বিষয় মেনে চললে শরীরের যেমন একটি নির্দিষ্ট ওজন ধরে রাখা সম্ভব হয় তেমনি দূরে রাখা যায় বহু রোগ-ব্যাধিকে।
১. সকালে ‘স্মার্ট’ নাস্তা
যারা সকালে উন্নতমানের একটি নাস্তা খেয়ে দিন শুরু করেন তাদের ওজন বাড়ার ঝুঁকি কম। মধ্যবয়স্ক ২০ হাজার মানুষকে নিয়ে করা এক গবেষণায় জানা গেছে, সকালের নাস্তা গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
তবে সকালের নাস্তায় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত নয়। আর ‘স্মার্ট’ নাস্তা বলতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সমন্বয়ই বোঝানো হয়। এতে যেমন থাকতে পারে ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার, তেমনি তাজা পালং শাকের মতো ভিটামিনসমৃদ্ধ শাক।
২. শরীরের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রাখা
সামাজিক বিভিন্ন বিষয় আপনার খাওয়ার চাহিদা ও ধরনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। সকালে আপনার সামনে আসে নাস্তার বিষয়টি। সিনেমা হলে গেলে অনেকেই পপকর্ন খাওয়ার চিন্তা করেন। তবে যারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তারা এসব সামাজিক বিষয় বিবেচনা করেন না। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী তারা খাওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন।
৩. প্রত্যেক বেলা খাবার খাওয়া
সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যেক বেলায় খাবার খাওয়া যেমন জরুরি, তেমন কোনো বেলার খাবার বাদ না দেওয়াটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্য খাওয়া পিছিয়ে গেলে তা মানুষকে অস্বাস্থ্যকর ও উচ্চ ক্যালরির খাবার খেতে উৎসাহিত করে।
৪. অধিকাংশ খাবার বাড়ি থেকে খাওয়া
সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষেরা অধিকাংশ খাবার তাদের বাড়িতেই খান। বাড়ির বাইরে খাবার খেলে তার ক্যালরি ও উপাদান সম্বন্ধে সচেতনতা তৈরি হয় না। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
রেস্টুরেন্টে খাবার খেলে মানুষ তার গুনাগুণ সম্বন্দে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। তবে বাড়িতে খাবার খেলে তার গুনাগুণ নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেন।
৫. উদ্ভিদজাত প্রোটিন গ্রহণ
স্বাস্থ্যকর শরীরের অধিকারী বহু মানুষ যারা দীর্ঘদিন ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছেন, তারা মাংসকে খাবারের তালিকা থেকে বাদ রেখেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষ ভোজীরা দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ফ্যাটের মাত্রা নিম্নপর্যায়ে রাখতে পারেন। এতে মাংসভোজীদের তুলনায় দেহে নিম্নমাত্রার ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ ও কোলেস্টেরল বজায় রাখা সম্ভব হয়।
৬. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বাদ
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার মানুষের দেহের ক্যালরি ও ওজন বাড়িয়ে দেয়। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় ব্রেড, কেক, জ্যাম ও আইস ক্রিমের মতো খাবারে চিনি বা কৃত্রিম চিনি ব্যবহৃত হয়। এসব কাজে সাদা চিনি, বাদামি চিনি, র চিনি, কর্ন সিরাপ, মধু ও নানা মিষ্টি দ্রব্য ব্যবহৃত হয়।
এসব মিষ্টি পদার্থ শরীরের ওজন বাড়িয়ে দিতে খুবই পারদর্শী। এসবের বদলে মিষ্টি তাজা ফল ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করা স্বাস্থ্যসম্মত।
৭. খাবারে শাক-সব্জি যোগ
শাক-সব্জিতে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকলেও খুব কম ক্যালরি থাকে। এতে স্বাস্থসম্মতভাবে শরীরের ওজন রক্ষা করার নানা উপাদান থাকে। নাস্তায় শাক-সব্জির সমাহার আাঁশযুক্ত খাবারের চাহিদাও পূরণ করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপাদান।
৮. দানাযুক্ত খাবার খাওয়া
বাদামি পাউরুটির মতো দানাযুক্ত খাবার ওজন কমানোর জন্য কার্যকর। দেখা গেছে, পরিশোধিত বা মিহি দানার ধবধবে আটা ও চিনির খাবার গ্রহণ করলে তা দেহের ওজন বাড়িয়ে দেয়।
৯. খাওয়ার জন্য ছোট পাত্রের ব্যবহার
যারা খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে সতর্ক, তারা অনেকেই ছোট খাবারের পাত্র ব্যবহার করে। ২০১২ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ছাত্রদের মধ্যে বড় পাত্রে ক্যান্ডি পরিবেশন করলে তারা ছোট পাত্রের তুলনায় দ্বীগুণ খেতে পারে। এ গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, ছোট পাত্রে খাওয়ার ফলে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
১০. খাবারের উপাদান পড়ে দেখা
প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার আগে তার উপাদানগুলো পড়ে দেখা একটি ভালো অভ্যাস। প্যাকেটের হেডলাইনে লেখা উপাদান ভেতরে কতোখানি আছে, সেটা জেনে নেওয়া জরুরি।
১১. ক্যালরি পান না করা
সোডা বা সফট ড্রিংক্স, চিনিযুক্ত ফলের রস, অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত কফি ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি। চিনি ও ক্যালরিযুক্ত খাবারে পুষ্টিগত উপাদান তেমন না থাকলেও ক্ষতিকর উপাদান প্রচুর রয়েছে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে আপনার ধারণার চেয়েও দ্রুত চর্বি জমবে আপনার দেহে। এসব পদার্থ যতোটা সম্ভব কম পান করে তার বদলে পরিষ্কার পানি পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
১২. উপযুক্ত ঘুম
ঘুমের ওপর মানু্ষের খাদ্যাভ্যাস অনেকখানি নির্ভর করে। এক গবেষণায় ছয় বছরব্যাপী বহু মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে এ বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১১ সালে প্রকাশিত সে গবেষণায় দেখা যায়, প্রত্যেকটি অতিরিক্ত ঘণ্টার ঘুম ৩০ ভাগ স্থূলতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে প্রতি রাতে সাত বা আট ঘণ্টা ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন।
১৩. শারীরিক পরিশ্রম
আধ ঘণ্টা ব্যায়াম নয়, উপযুক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা সুগঠিত শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এ পরিশ্রম হতে পারে সারা দিনই কিছু কিছু করে পরিশ্রম করা। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রতিদিন ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটা যেতে পারে শরীর ঠিক রাখার জন্য। এজন্য পেডোমিটার নামে একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার হাঁটার হিসাব রাখতে পারে।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ