home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

বাতজ্বরে করণীয়
২৫ মার্চ, ১৪
Tagged In:   arthritis fever  rheumatic fever  
  Viewed#:   106

Arthritis-feverবাতজ্বর হয়েছে শুনলে অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এই আতঙ্ক বেশির ভাগক্ষেত্রেই অহেতুক। এ নিয়ে ভ্রান্তি রয়েছে জনমনে, এমনকি কিছু চিকিৎসকেরমধ্যেও। বাতজ্বর থেকে বাঁচার অনেক পথ রয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে বাতজ্বরথেকে বাঁচার উপায়গুলো জেনে নিন।

 
বাতজ্বর কেন হয়?
বাতজ্বর এক প্রকারজীবাণু দ্বারা হয়ে থাকে। জীবাণুটির নাম স্ট্রেপ্টোকক্কাস। সংক্ষেপে এটিকেস্ট্রেপ বলা হয়। এই জীবাণু অতি ুদ্র। একে খালি চোখে দেখা যায় না। এটিনিঃশ্বাসের সাথে আপনার গলায় প্রবেশ করে বাসা বাঁধতে পারে। এভাবেই আপনিআক্রান্ত হবেন। এটি আপনার অলক্ষেই ঘটবে। আক্রান্ত হলে আপনি জ্বরসহগলাব্যথায় ভুগবেন। এই গলাব্যথার তীব্রতা কম হলে আপনি চিকিৎসা না-ও গ্রহণকরতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ পর আপনি অসুস্থ বোধ করবেন, আপনার জ্বর হবে, গিঁটে (বিশেষত বড় গিঁটে) ব্যথা অনুভব করবেন। এই ব্যথা বেশি দিন থাকবে না, এমনকিচিকিৎসা না নিলেও। কখনো কখনো আপনি হাত ও পায়ের ঝাঁকুনিপূর্ণ নড়াচড়া লক্ষকরতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলেও এই নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এইক্ষেত্রে আপনার মুখের অভিব্যক্তি বদলে যেতে পারে। এগুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘কোরিয়া’ বলা হয়। এটি মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে হয়েথাকে। এটিও এমনিতেই সেরে যাবে। তবে বাতজ্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়হচ্ছে হৃদযন্ত্রের প্রদাহ। এর কারণে হৃদযন্ত্রের বাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতেপারে। তবে আতঙ্কিত হবেন না। এটি খুব কম রোগীর বেলায়ই ঘটে থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর হৃদ-প্রদাহের কোনো উপসর্গ বোধ করেন না। কারো কারো ক্ষেত্রেবুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ডাক্তার স্ট্রেথোস্কোপ দিয়ে রোগীরহৃৎপিণ্ডের শব্দ শোনার সময় এটি ধরতে পারবেন এবং প্রয়োজনে হার্টের ‘ইকো’ পরীক্ষার সাহায্য নেবেন।

বাতজ্বরের জন্য রক্তপরীক্ষা
বাতজ্বরের জন্যআজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট রক্তপরীক্ষা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। রোগীরউপসর্গ ও লক্ষণ থাকলে রক্তের এএসও (ইও) নামে একটি পরীক্ষা করা হয়। উল্লিখিতউপসর্গ না থাকলে ইও পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। করলেও এর ফলাফল কোনোগুরুত্ব বহন করবে না। রক্তে ইও বেড়ে গেলেই বাতজ্বর হয়েছে বলার কোনো যুক্তিনেই। বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশী শিশুদের স্বাভাবিক অবস্থাতেই ৩৯০ পর্যন্তইও থাকতে পারে। এ দেশের ল্যাবরেটরিগুলোর রিপোর্টে ইও-এর স্বাভাবিক মাত্রা২০০ বলে উল্লেখ থাকে। এটি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য তথ্যনির্ভর নয়। শুধু দুইশতাধিক থাকার কারণে অনেকে বছরের পর বছর পেনিসিলিন ব্যবহার করে আসছেন, এটিদুঃখজনক।

কাদের বাতজ্বর বেশি হয়?
বাংলাদেশের সাধারণত পাঁচ থেকে ২২বছর বয়সীদের মধ্যে বাতজ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যদি কারো একবার বাতজ্বরহয়ে থাকে তবে অন্যদের চেয়ে আপনার আবার বাতজ্বর হওয়ায় সম্ভাবনা ১০ গুণবেশি। যদি কেউ অপুষ্টিতে ভুগে থাকেন তাহলে তার বাতজ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

বাতজ্বর থেকে বেঁচে থাকার জন্য কী করতে হবে?
সাধারণ ব্যবস্থা কী কী?
সাধারণব্যবস্থাবলির মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক পুষ্টি। শরীরেরপুষ্টিমান সঠিক হলে গলায় জীবাণু ঢুকলেও বাতজ্বর হওয়ার সম্ভাবনাপুষ্টিস্বল্পতায় ভুগছেন এমন লোকের তুলনায় অনেক কম। রান্নায় সয়াবিন তেলব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ডিম খাওয়া যেতে পারে। শরীরে যাতে লৌহের ঘাটতি নাহয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এগুলো শিশুদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রেপ জীবাণুর আক্রমণ কিভাবে কমানো যায়?
স্ট্রেপজীবাণু মানুষের গলা ও চামড়ায় বাস করে। একজন থেকে আরেকজনে সঞ্চারিত হয়। তাইঅনেক লোক একসাথে গাদাগাদি হয়ে থাকলে স্ট্রেপের জন্ম বেশি হয়। বিশেষত তারাযদি অপরিষ্কার থাকে। এটা সবার অলক্ষেই ঘটাতে থাকে। ঘর ও আসবাবপত্রঅপরিচ্ছন্ন থাকলেও স্ট্রেপ বাড়তে থাকবে। পরিবারের সদস্যরা যদি প্রতিদিনসাবান দিয়ে গোসল করেন এবং হাত ও নাক পরিষ্কার করেন তবে আপনার ঘরে স্টেপজীবাণুর পরিমাণ কমে যাবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, সকালে ঘুম থেকেওঠার পরে এবং দুপুরে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে। দৈনিক অন্তত একবারগড়গড়া করে গলা পরিষ্কার করতে হবে।

স্ট্রেপ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে কী করতে হবে?
যদিগলায় ব্যথা হয় সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন। ডাক্তার যদি মনে করেন যে, গলাব্যথা স্ট্রেপের কারণে হয়েছে, তাহলে পেনিসিলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।গলা ব্যথার ব্যাপারে পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করতে হবে।প্রয়োজনে তাদেরও এ ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। একবার বাতজ্বর আক্রান্তহলে আপনাকে দীর্ঘ দিন পেনিসিলিন ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখবেন, এই ওষুধনিয়মিত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে আপনি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিতজাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

সুত্র -dailynayadiganta.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: নাস্তায় যে খাবারগুলো খেলে দীর্ঘসময় ক্ষুধা লাগবে না
Previous Health Tips: জমকালো পার্টি সাজেও ফুটিয়ে তুলুন ন্যাচারাল লুকস্‌

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')