home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শরীর ও মনের ব্যায়াম
৩১ ডিসেম্বর, ১৩
Tagged In:  be fresh  Health Care  
  Viewed#:   286

deep-breathingশ্বাসক্রিয়া জীবন সচল রাখে। যদিও ৯৫ ভাগ মানুষই সঠিক প্রক্রিয়ায় এর ব্যবহার জানেন না। এতে খাবার হজমে সমস্যা ও বিভিন্ন রোগব্যাধির সৃষ্টি হয়। সঠিক নিয়মে গভীর দম চর্চায় শরীর ও মনের ব্যায়াম হয়।

 
যাপিত জীবনে টেনশন বা মানসিক চাপ হয়। এর প্রভাব শুধু মনের উপরই নয়, শরীরে উপরেও পড়ে। ফলে একসময় শরীরের কোষগুলো প্রাণবন্ততা হারিয়ে ফেলে। নিজেকে চাঙ্গা রাখতে প্রাচীনকাল থেকেই গভীর দম চর্চার রীতি চলে আসছে।
 
গভীর দম চর্চা প্রাণায়াম বা প্রাণা নামেও পরিচিত। প্রাণা চর্চা করে দেহকে সহজেই সুস্থ ও প্রাণবন্ত করে তোলা যায়। সঠিক নিয়মে নিয়মিত চর্চা করলে দেহ থাকবে সতেজ, মন হবে প্রফুল্ল।
 
এ সম্পর্কে কোয়ান্টাম হার্টক্লাব ও কোয়ান্টাম ব্যায়ামের মেডিকেল কাউন্সিলর ডা. আতাউর রহমান বলেন, “দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসে গভীর দম চর্চার প্রভাব পড়ে। দম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি থেকে অক্সিজেন বা জীবনীশক্তি ফুসফুসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এ সময় ফুসফুসের প্রসারণ ঘটে, আর দম ছাড়তে ছাড়তে শরীর থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে যায়। এভাবে ফুসফুসের প্রসারণ ও সংকোচন হয়।”
 
“প্রতিটি মানুষের শরীরে ফুসফুস এই কাজটি জন্ম থেকেই করে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে জীবন চলে। শরীরে রক্তসঞ্চালন সবসময় ভালো রাখতে দরকার নিয়মিত সঠিকভাবে দম চর্চা।” বললেন ডা. আতাউর।
 
এ জন্য বুক ভরে দম নেওয়ার চর্চা করতে হবে। এতে পেট ও পাকস্থলির ব্যায়াম হয়। যখন গভীরভাবে দম চর্চা করা হয় তখন ফুসফুস ভালোভাবে কাজ করে। পেট ও পাকস্থলিতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক হয়। খাবার হজমজনিত সমস্যাও দ্রুত কমে আসবে। এর থেকে পেতে পারেন সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায় প্রাকৃতিক নিরাময়।
 
গভীর দম চর্চার উপকারিতা
* শরীর সহজেই রিলাক্সড হয়।
* হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
* মানসিক চাপ ও টেনশন দূর হয়।
* শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে।
* মেজাজ থাকে ফুরফুরে।
* রক্ত দূষণমুক্ত করে ও চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
* ফুসফুসের জটিল ব্যাধির ঝুঁকি কমে।
* দেহের বাড়তি ওজন কমায়। 
 
এছাড়া গভীর দম চর্চা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। অক্সিজেন হচ্ছে প্রাণশক্তির উৎস। যখন বুক ভরে দম নেওয়া হয় তখন প্রাণশক্তিতে দেহ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
নিয়মিত গভীর দম চর্চায় মেধা হয় শাণিত। কেন্দ্রীয় নার্ভাস সিস্টেম হবে আরও সক্রিয়। খাবার হজম হবে স্বাভাবিক।
 
যেভাবে চর্চা করবেন
গভীর দম চর্চার সময় দম নেওয়া আর ছাড়ার দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হয়। এটা করতে নাক দিয়ে গভীরভাবে দম নিয়ে ছাড়তে হয় মুখ দিয়ে। প্রতিটি দম নিতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ সেকেন্ড। ছাড়তে সময় লাগবে কিছুটা বেশি।
 
দম চর্চার মাধ্যমে মাথা, কাঁধ থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত ‘রিল্যাক্স’ করে তোলা যায়। এটি চর্চা করতে পছন্দের আরামদায়ক কোনো জায়গায় বসুন। হাত দুটো রাখুন হাঁটুতে। ঘাঁড় ও মেরুদণ্ড থাকবে সোজা।
 
এবার নাক দিয়ে গভীরভাবে দম নিন। ধীরে ধীরে দম ছাড়ুন। প্রতিবার দম ছাড়ার পর সেকেন্ড দু’এক অপেক্ষা করুন। আবার ধীরে ধীরে গভীরভাবে দম নিন।
 
দম নেওয়ার সময় ১ থেকে ৫ পর্যন্ত গণনা করুন। দম ছাড়ার সময় ১ থেকে ৭ পর্যন্ত গণনা করুন। এভাবে ১০ বার করলে হবে এক রাউন্ড। এতে ফুসফুসের মাধ্যমে প্রকৃতির অফুরন্ত প্রাণশক্তি সারাশরীরে ছড়িয়ে পড়বে।
 
নিয়মিত দম চর্চায় ক্লান্তি ও অবসাদমুক্ত হয়ে উপভোগ্য হয়ে উঠবে জীবন।
 
ঘুমের সমস্যা থাকলে বিছানায় শুয়েও একই নিয়মে দম চর্চার ব্যায়াম করতে পারেন। শরীর রিলাক্স হয়ে কখন যে আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন, তা টেরই পাবেন না।
 
সূত্র - বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ওজন কমবে ৭ দিনে!
Previous Health Tips: স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন সমস্যা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')