home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

স্পেশাল শিশুদের সাথে কাজ করার জন্য ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস
২৯ জুলাই, ১৩
View in English

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যেসব শিশুযাদের নিজেরই অন্যদের থেকে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় তাদের সাথে কিভাবে কাজ করতে হবে, কিভাবে তাদেরকে সমাজে বসবাসের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা? পৃথিবীর জনসংখ্যা যত বাড়ছে এই বিশেষ শিশুদের সংখ্যাও বাড়ছে। সমাজের শিক্ষক, খেলাধুলার প্রশিক্ষক, গান অথবা নাচের টিচার সবাইকেই এখন কম বেশি এই সকল শিশুদের সাথে কাজ করতে হচ্ছে। আপনার সামান্য একটু সহযোগিতা হতে পারে তাদের অগ্রগতির জন্য একটি মাইলফলক। নিজের সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থেকে আজই তাদের মানসিক বিকাশের জন্য উঠে পড়ে লাগুন।

হেলথপ্রায়র২১ এনেছে এই বিশেষ শিশুদেরকে সামাজিক করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ  ৮টি টিপস। নিজে জানুন এবং আপনার শিশুর আশেপাশের মানুষদের সাথে এই টিপসগুলি শেয়ার করুন, কথা বলুন। সকলের সামান্য একটু ইচ্ছাশক্তি এসব শিশুদের দিতে পারে নতুন জীবন।   

১) পারস্পরিক ভাব বিনিময়

সমাজের পূর্ণ বয়স্করা এই বিশেষ শিশুদের দেখলেই তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। তাদের নাম, স্কুল ইত্যাদি ব্যাপারে নানা রকম প্রশ্ন করেন। এই সকল শিশুরা সাধারনত প্রশ্ন অপছন্দ করে, অনেক সময়ই তারা প্রশ্নের উত্তর দেয় না অথবা প্রশ্ন এড়াতে পালিয়ে যায়। বিশেষ শিশুদের সাথে  

পরিচিত হওয়ার এই পদ্ধতি একদমই সঠিক নয়। প্রথমত তাদের সাথে আলাপ শুরু করার আগে যথা সম্ভব কোমল ভাষা ব্যবহার করুন। যেকোনো রকমের জোরে কথায় তারা ঘাবড়ে যেতে পারে। তাদের সাথে কথা বলতে প্রথম নিজের পরিচয় দিন। তাকে বলুন আপনি তাকে কিভাবে চিনেন। শিশুদের চাহিদা অনুযায়ী কখনো তার হাত ধরে অথবা তার কাঁধে হাত দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করুন। তারপর তাকে ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করুন আপনি তার সাথে কিভাবে কাজ করবেন। তাকে বুঝিয়ে বলুন একসঙ্গে কাজ করলে কাজটি করা অনেক সহজ হবে। কাজটি করার বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করুন। আর কথা বলার সময় যথাসম্ভব তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন।

২) পর্যবেক্ষণ

কোন কোন বিশেষ শিশুআলোচনায় অস্বস্তিবোধ করে, কিন্তুতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। এটা বুঝার উপায় হচ্ছে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। আচরনে কোন পরিবর্তন আসলে তাকে কিছুটা সময় দিন। যদি নিশ্চিত না হন তাহলে শিশুর বাবা-মা অথবা অন্য অভিভাবকের সাথে আলাপ করুন।

৩) শেখার নিরাপদ পরিবেশ

অনেক সময় বিশেষ শিশুরা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শুধুমাত্র আশেপাশের পরিবেশ এবং মানুষ গুলির ব্যবহারের জন্য। যেমন শিশুরা সুইমিং পুলে সাতার শিখতে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে বিশেষ শিশুদের সাঁতার শিখাতে প্রয়োজন অন্য রকম পন্থা। স্বাভাবিক শিশুরাই যেখানে পানিতে ভয়ে নামতে চায় না, সেখানে বিশেষ শিশুরা অন্য শিশুদের দেখে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই তাদের  সাঁতার শেখাতে হলে তার চারপাশে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাকে বিশ্বাস করাতে হবে তার শেখার পরিবেশ তার জন্য একদমই নিরাপদ।

৪) নিয়মে শিথিলতা

অন্য বাচ্চারা যা অনায়াসে আয়ত্ত করতে পারে, এই শিশুরা হয়ত সেই একই জিনিস অন্য সবার মত আয়ত্ত করতে পারে না। এমন অনেক সময়ই হয় কোন বিষয়ের শিক্ষক তার শিক্ষার পদ্ধতি কখনো পরিবর্তন করেন না। অনেক সময় শিশুরা কোন ক্লাসে বা ট্রেনিং-এ  মা-বাবা ছাড়া যোগদান 

করতে ভয় পায়। এক্ষেত্রে শিশুর বাবা মাকেও দলে নিয়ে আসুন। শিশুর সাথে সাথে তার বাবা অথবা মা কেও কাজে নিন। যখন শিশু নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় আসতে আসতে একবার দুবার করে মা অথবা বাবা ছাড়া তাকে শিক্ষা দিন।

অনেক সময়ই এই সকল শিশুরা কথা বার্তায় শিক্ষা গ্রহন করতে বাধার সম্মুখীন হয়। তাদের জন্য প্রয়োজন হাতে কলমে শিক্ষার। শোনার সাথে সাথে দেখে দেখে শেখা তাদের জন্য বেশি উপযোগী।যদি কোন শিশু খেলাধুলায় ঠিকমত অংশগ্রহন করতে না পারে তার সাথে কাউকে রাখুন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। কোন ধর্মীয় বিষয় অথবা ধর্ম ক্লাসে হয়ত কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মানে সে বুঝতে পারছে না, সেক্ষেত্রে তাকে হাতে কলমে কোন খেলা বা কার্টুন  অথবা প্রোজেক্টের মাধ্যমে বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে।

৫) হতে হবে ধৈর্যশীল

বিশেষ শিশুদের সাথে কাজ করার পূর্ব শর্তই হতে পারে ধৈর্যশীল হওয়া। অধৈর্য হলে কখনই তাদেরকে সমাজের উপযোগী করে তোলা যাবে না। তারা যদি শিক্ষা  যথা সময়ে ধরতে না পারে তাহলে তাদেরকে পুনরায় বিষয়টি শিখাতে হবে। প্রয়োজনে তাদের সাথে কাউকে রাখুন তাদেরকে তাদের মত করে বুঝানোর এবং সহযোগিতা করার জন্য। যেসকল কাজ অন্য শিশুরা একবারেই পেরে যায়, এই সকল শিশুরা হয়ত ২ বা ৩ অথবা ৪ বারে পারতে পারে। কিন্তু অধৈর্য হয়ে হাল ছাড়া যাবে না।

৬) ভিজুয়াল, অডিটরি অথবা ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগ করা

ভিজুয়াল যোগাযোগ হতে পারে বিভিন্ন ছবি, কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে। আপনার সাথে সবসময় ক্যামেরা রাখুন। আপনার শিশুর পছন্দের জায়গা, বিষয় ইত্যাদির ছবি তুলে রাখুন। যেসব বিষয়গুলি সে ভুলে যায় তার ছবি অথবা কার্টুন আকারে বা কথা আকারে কার্ডে লিখে রাখুন। তাকে মনে করাতে এগুলি ব্যবহার করুন। শিশুদের তালি, বাঁশি, গান ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করতে সহায়তা করুন। যেমন - বাঁশির শব্দ শুনলে সে খেলা বন্ধ করবে। এভাবে শব্দের মাধ্যমেও তার কাজ করার পদ্ধতি অনেক সহজ করে তোলা যায়। ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগেও এই সকল শিশুরা সাড়া দেয়। শিশুর কাঁধে হাত রাখা, কোন কিছুতাকে দেয়া, তাকে আঙ্গুল দিয়ে কিছুদেখানো ইত্যাদিও হতে পারে তাকে কাজ কর্মে লিপ্ত করার পদ্ধতি।

৭) রাখুন প্ল্যান এবং ব্যাক-আপ প্ল্যান

সবসময়ই শিশুকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে রাখুন প্ল্যান। আর যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনার শিশুর কাজ ভেস্তে জেতে পারে, সে ভয় পেতে পারে। তাকে শান্ত করতে কাজ পুনরায় শুরুকরতে যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই রাখুন ব্যাক-আপ প্ল্যান। শিশুদের শেখানোর সময় মাথায় রাখুন তারা কতটা শিখতে পারছে নাকি কতটা দিতে পারছে।

৮) বি পজিটিভ

পজিটিভ অথবা সহযোগিতামুলক আচরণ করা এইসকল শিশুদের সাথে কাজ করার পূর্ব শর্ত। এই একটি গুন থাকলেই যেকোনো মানুষই এই শিশুদের নিয়ে অনেক সহজেই কাজ করতে পারেন। অনেক সময় অনেক শিক্ষিত মানুষও এই সকল শিশুদের প্রতি পজিটিভ আচরণ দেখাতে ভুলে যান। তাই মানুষ বুঝে সুস্থ পরিবেশে এই সকল শিশুদের রাখুন যেন তারা আর দশ জন শিশুর মতই বেড়ে উঠতে পারে। 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ১০০ ক্যালরির ১০টি খাবার
Previous Health Tips: Fun With Kids? Don't Let Arthritis Stop You

আরও স্বাস্থ্য টিপ

বাদামের উপকারিতা

আগেকার বেশিরভাগ স্বাস্থ্যসচেতক আখড়ায় হুশ হাশ করে সকাল, বিকেল দু'বেলা মুগুর ভাঁজতেন৷ আর পেটপুরে বাদাম খেতেন৷ তাঁদের মতে, বাদাম অতি পুষ্টিকর খাদ্য৷ এখনকার 'ফিগার' সচেতন মানুষ বাদাম থেকে শতদূরহস্ত৷ বাদাম মানেই ফ্যাট, ক্যালোরি বেশি৷ বাদাম মানেই 'সুস্বাস্থ্য'-র (পড়ুন মোটা) আকর৷ তাহলে বাদাম কি কেবলই... আরও দেখুন

তরমুজে তরতাজা পুরুষ!

রসাল ফল তরমুজের ৯২ ভাগই পানি আর ৮ ভাগ শর্করা। তরমুজ একই সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’রও দারুণ উত্স।বলা হয়ে থাকে, তরমুজ ওজন কমাতে সাহায্য করে, নিম্ন রক্তচাপ থাকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক তরমুজ। তবে, নতুন খবর হলো, তরমুজ পুরুষদের যৌনজীবনকে তরতাজা করে তুলতে পারে! রসাল এই ফলের স্বাদের কথা... আরও দেখুন

কী করে বুঝবেন প্রেমে পড়েছেন

সবার জীবনেই তো প্রেম আসে। কেউ হয়তো ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে জীবন কাটিয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ বাস্তব জীবনেই ভালোবাসার মানুষটির উপস্থিতি উপভোগ করার সৌভাগ্য অর্জন করে। পাশ দিয়ে একটি ছেলে বা একটি মেয়ে হেঁটে গেলে কাউকে প্রথম দর্শনেই ভালোবেসে ফেলা যায়। যাকে বলে প্রথম দেখায় প্রেম! আবার অনেক... আরও দেখুন

জেসমিন চায়ের গুনাগুন

সুস্থ থাকতে আমরা কত কিইনা করছি প্রতিনিয়ত। কখনো ওজন কমান কখনোবা ব্যয়াম করা। কিন্তুএত কষ্ট না করে মাঝে মাঝে হয়তো ছোটখাটো কিছুঅভ্যাস বদলেই আমরা শরীরে অনেক উপকার পেতে পারি। প্রতিদিন চা খাওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। গুঁড়া দুধ মেশানো চা পান না করে কখনো কি জেসমিন চা পান করার কথা ভেবেছেন?... আরও দেখুন

গর্ভাবস্থায় খিঁচুনি: সতর্কতা জরুরি

গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর যদি কোনো নারীর রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা তার বেশি হয় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে আমিষ নির্গত হয়, তবে তাকে প্রি-এক্লাম্পসিয়া বলে। পরে সমস্যাটি গর্ভাবস্থার খিঁচুনি হিসেবেও দেখা দিতে পারে।সমস্যাটি মৃদু বা প্রকট দুই ধরনেরই হতে পারে। রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০-এর বেশি কিন্তু ১৬০/১১০-এর কম হয়,... আরও দেখুন

অসহ্য গরম? কি করবেন তাই ভাবছেন কী?

মার্চের অর্ধেক সময় তো পার হয়েই গেলো। বেড়েই চলছে গরমের মাত্রা। সামনের দিনগুলোতে আরো বেড়ে যাবে গরমের মাত্রা। তাই এখনই সতর্ক হোন। এই গরমে স্বাস্থ্যের দিকটাও মাথায় রাখুন। বাড়িতে গাড়িতে এসি আছে যাদের গ্রীষ্মের এই প্রাক্কালেই এগুলোকে পরিষ্কার করিয়ে নিন। কারণ জমে থাকা ধুলোবালির হাওয়ায় আক্রান্ত হতে... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')