home top banner

Health Tip

জীবন যখন সোশ্যাল ফোবিয়ার ঝুঁকিতে .
20 July,13
View in English

সোশ্যাল ফোবিয়া - নারী পুরুষ নির্বিশেষে যে কারোরই হতে পারে। এই মানসিক অস্থিরতা সাধারণত শিশুকাল অথবা কৈশোর কাল থেকে শুরু হয়। কখনও জেনেটিক্যাল ব্যাপারও এর কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।  সোশ্যাল ফোবিয়ার সাথে সাথে অনেক সময় অন্যান্য এঙজাইটি ডিজঅর্ডার অথবা হতাশা দেখা দিতে পারে।

রোগ নির্ণয়
সোশ্যাল ফোবিয়া সাধারণত অল্প বয়স থেকেই শুরু হতে পারে। ডাক্তারের মতে, সোশ্যাল ফোবিয়ার চিহ্নগুলো যদি কারো মাঝে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে প্রকাশ পায় তাহলে তার সোশ্যাল ফোবিয়া আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেয়া হয় তাহলে এই রোগ অনেক বছর এমনকি সারা জীবনও স্থায়ী হতে পারে।

সোশ্যাল ফোবিয়া অনেক সময় অল্প কয়টি ঘটনার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন - মানুষের সাথে কথা বলা, খাওয়া দাওয়া করা অথবা সবার সামনে ব্ল্যাক বোর্ডে লেখা ইত্যাদি।

আবার অনেক সময় সোশ্যাল ফোবিয়া ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। যেমন - পরিবারের সদস্য ব্যতিত অন্য যে কারো সাথে পরিচিত হতে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করা।

প্রথমে ডাক্তারের সাথে রোগের লক্ষন গুলি নিয়ে কথা বলা উচিৎ। অন্য কোন শারীরিক কারণে এরকম হচ্ছে কিনা নিশ্চিত হতে অনেক সময় ডাক্তাররা কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারেন। অনেক সময় তারা মেন্টাল হেলথ সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেয়ার জন্যও পরামর্শ দিতে পারেন।

চিকিৎসা
সোশ্যাল ফোবিয়ার চিকিৎসা সাইকোথেরাপি বা মেডিকেশান/ ওষুধ অথবা দুটোর সমন্বয়ে করা হয়।

সাইকোথেরাপি - এই থেরাপিকে বলা হয় কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি সংক্ষেপে - সি, বি, টি । এটি সোশ্যাল ফোবিয়ার চিকিতসায় অনেক কাজে দেয়। এই থেরাপি একজন মানুষকে নতুন করে চিন্তা করতে, ব্যবহার করতে এবং পরিস্থিতি বুঝে সঠিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে সাহায্য করে।  ফলে একজন মানুষ নতুন পরিস্থিতিতে তুলনামুলকভাবে কিছুটা কম আতঙ্কিত হয়। এই থেরাপির মাধ্যমে মানুষ নানা সামাজিক গুনাবলীও শিখতে পারে।  

ওষুধ/ মেডিকেশান - ডাক্তাররা রোগের মাত্রা বুঝে ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। সোশ্যাল ফোবিয়ার চিকিতসায় সবথেকে বেশি যে ওষুধ দেয়া হয় তাহল - অ্যান্টি-এংজাইটি এবং অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ। অ্যান্টি-এংজাইটির নানা রকম ওষুধ রয়েছে। বেশির ভাগ ওষুধই গ্রহণের পর পরই কাজ করা শুরু করে। তবে এসব ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ করা উচিৎ নয়।

অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ ডিপ্রেসান দূর করতে গ্রহণ করা হয়। তবে এগুলি সোশ্যাল ফোবিয়ার চিকিৎসায়ও কার্যকর।  অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ কাজ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। কিছু ওষুধের পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়া থাকে যেমন -  মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা ঘুম না হওয়া। এসব ওষুধ সাধারণত অল্প ডোজ থেকে ধীরে ধীরে বেশি ডোজে গ্রহণ করা হয়। উপরোক্ত কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া উচিৎ।

এক ধরণের অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট -মনোঅ্যামিন অক্সিডেইজ ইনহিবিটর , এগুলি সোশ্যাল ফোবিয়ার চিকিতসায় অনেক উপকারী। কিন্তু মারাত্মক পার্শ্ব - প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় এই ওষুধটি প্রথমে চিকিতসায় ব্যবহার করা হয়না। 

যদিও অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ অনেকের ক্ষেত্রেই কাজ করে কিন্তু শিশু, কিশোর অথবা অল্প বয়সী তরুনদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। "ব্ল্যাক বক্স" নামক ওয়ার্নিং অধিকাংশ অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধের গায়ে লেখা থাকে। এই কথাটির অর্থ হল -  অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ গ্রহণের ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করার আশঙ্কা থাকতে পারে।

যারাই অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করে তাদের আশে পাশে সবসময় মানুষ থাকা উচিৎ। বিশেষ করে চিকিতসার শুরুর দিকে।

সোশ্যাল ফোবিয়া দূর করার আরেক ধরণের ওষুধ হল - বিটা ব্লকার। এই ওষুধ গুলি সোশ্যাল ফোবিয়ার শারীরিক লক্ষণগুলি যেমন  - শরীর ঘেমে যাওয়া, কেঁপে উঠা বা বুক কাঁপা ইত্যাদি দূর করে। এই ওষুধ গুলি বিশেষ ক্ষেত্রে গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয় যেমন - স্টেজ ফ্রাইট , স্টেজে উঠে সবার সামনে কথা বলতে ভয় পাওয়া।

কেউ কেউ শুধু থেরাপিতে খুব ভাল ফল পায়। আবার কেউ কেউ ওষুধ গ্রহণ অথবা দুটোর সমন্বয়ে ভাল ফল পান।  ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে জেনে নিন কোন চিকিৎসা আপনার জন্য উপযোগী।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: বাড়ছে বয়স, অসুখী কি তাই!
Previous Health Tips: What is Social Phobia (Social Anxiety Disorder)

More in Health Tip

প্রশ্ন: চোখে ছানি পাকার পর যথা সময়ে অস্ত্রোপচার না করলে কী ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: ছানি বা ক্যাটার‌্যাক্ট ম্যাচিউর হওয়ার পর বা পাকার পর অস্ত্রোপচার না করলে চোখের অন্তর্বর্তী চাপ বেড়ে গিয়ে গ্লুকোমা হতে পারে। গ্লুকোমার কারণে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী সময়ে ছানি কেটেও ভালো দৃষ্টিশক্তি ফিরে না-ও আসতে পারে। এ ছাড়া চোখের প্রদাহ, লেন্সের স্থানচ্যুতি... See details

How to Reduce Your Back Pain

Most people of lower back pain or lumbago now there most likely are not almost any essential reasons behind the rear problem. Backside pain can certainly happen on account of ruin, stress or perhaps infection with just about any portion of it is complex composition in the coccyx (tailbone)... See details

দূর হবে ডার্ক সার্কেল

আমরা কোনো উৎসব সামনে রেখে পছন্দের পোশাক পরি, সুন্দর করে মেকআপ করি। কিন্তু আমাদের চোখর চারপাশে কালো দাগ থাকলে সব প্রস্তুতির পরও আমাদের চেহারা অনেক খানি মলিন করে দেয়। সত্যি এর একটি সমাধান হতে হবে। তাইতো আজ আমরা চোখের ডার্ক সার্কেল দূর করার উপায় খুঁজে বের করতে চেষ্টা করব: ডার্ক সার্কেল কেন... See details

হার্ট অ্যাটাকের সংকেত

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত বা রক্তরস নিয়ে কিছু পরীক্ষা করলে জানা যায় একজন লোকের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশংকা আছে কিনা। যেমন- রক্তে এপো-লাইপোপ্রোটিন-বি (এপো-বি) কতটুকু আছে, তা জেনে বলে দেয়া যায়, রক্তে কতটুকু মন্দ চর্বি এলডিএল আছে। এ মন্দ চর্বি বেশি থাকা মানেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশংকা... See details

প্রাকৃতিক বাইপাস

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগে মারা যাচ্ছেন। একদিকে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা, অন্যদিকে কমছে এতে আক্রান্তদের বয়স। পরিসংখ্যানটি রীতিমতো আতঙ্কজনক। করোনারি আর্টারি ডিজিজ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত... See details

নিয়ম মেনে খুশকিনাশক শ্যাম্পু

পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ খুশকির যন্ত্রণায় জর্জরিত। বাজারের বাবিজ্ঞাপনের খুশকিনাশক সব ধরনের শ্যাম্পু বা দাওয়াই ব্যবহার করেও ফল হয়না। বাইরে গেলে বিব্রত হতে হয়, বিশেষ করে অফিসে-মিটিংয়ে-পার্টিতেসাজপোশাকের বারোটা বাজিয়ে দেয় মাথায় ভাসতে থাকা সাদা সাদা খুশকি। খুশকিবা ড্যানড্রাফ আসলে... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')