বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাবি্লউএইচও) পোলিও নির্মূলের জন্য সারা বিশ্বে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোলিওমুক্ত ভাবা হয়েছিল এমন কয়েকটি দেশে নতুন করে পোলিওর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার কারণেই এই ঘোষণা আসতে পারে। আগামী সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডাবি্লউএইচওর সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ডাবি্লউএইচওর পোলিও নির্মূল কর্মসূচির প্রধান ব্রুস এইলওয়ার্ড জানান, 'ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া_এই তিন মহাদেশে গত দুই বছরে পোলিওর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। পূর্ণ বয়স্ক লোকরাও এর শিকার হচ্ছে এবং কোনো কোনো জায়গায় আক্রান্তদের ৫০ শতাংশই মারা গেছে। এর মানে হচ্ছে, নিবারণ করা না গেলে ব্যাপক মাত্রায় পোলিওর প্রাদুর্ভাব ঘটবে। এর ফলে যে দুর্ভোগ তৈরি হবে তা ধারণা করাও আমাদের জন্য কঠিন হতে পারে।' ডাবি্লউএইচও আশঙ্কা করছে, পোলিও নির্মূল কর্মসূচি ব্যর্থ হলে আগামী এক দশকে বিশ্বের প্রায় দুই লাখ শিশু পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
পোলিও ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংক্রমিত ব্যক্তিকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমিত ব্যক্তির পা অকেজো হয়ে যায়। শ্বাসনালির মাংসপেশি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশই মারা যায়।
ডাবি্লউএইচও ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। এই কর্মসূচিতে তারা উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্যও অর্জন করে। ভারতকে গত ফেব্রুয়ারিতে পোলিওমুক্ত ঘোষণার ঘটনা এর অন্যতম। কিন্তু গত বছর পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নাইজেরিয়ায় পোলিওর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত এক দশকে তাজিকিস্তান ও চীনেও পোলিওর ব্যাপক সংক্রমণ দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, টিকা কর্মসূচির প্রতি বিশ্বাসের অভাব ও যুদ্ধাবস্থার কারণে পোলিও নির্মূল কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।
ডাবি্লউএইচও বলছে, পোলিও নির্মূলের বিষয়টি সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যবর্তী অবস্থানে আছে। ডাবি্লউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান জানান, তাঁরা পোলিও নির্মূলে 'জরুরি পর্যায়ে' কাজ করছেন। তবে রোগটিকে 'বিশ্বের জন্য জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করা হবে কি না, ডাবি্লউএইচওর সদস্যরা জেনেভায় সে ব্যাপারে ভোট দেবেন। দাতা দেশগুলোকে এ ব্যাপারে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন চ্যান। সূত্র : বিবিসি, টেলিগ্রাফ।
Source: The Daily Kaler Kantho

