বগুড়ার ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেছে। এ ছাড়া রোগীর স্বজনরা চিকিৎসককে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানা পুলিশ ও নিহত রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিত্তিপোতা গ্রামের ছমির মণ্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বুকে ব্যথা নিয়ে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেররে জরুরি বিভাগে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মেহেদী হাসান রোগীকে ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে শুভ ক্লিনিক থেকে অসুস্থ ব্যক্তির ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করে তাঁকে পুনরায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এরপর জরুরি বিভাগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা যান।
জাহিদুল মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে তাঁর স্বজনরা চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয় জনগণ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগ হয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট বন্ধ করে চিকিৎসকে অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা দায়িত্বহীন অভিযোগ করে চিকিৎসকের শান্তি দাবি করে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
রোগীর স্ত্রী আন্জুয়ারা খাতুন, ভাতিজা কফিল উদ্দিন ও আবুল হোসেন জানান, ক্লিনিক থেকে ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করে জরুরি বিভাগে ফিরে তাঁরা চিকিৎসককে পাননি। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক মেহেদী হাসান জরুরি বিভাগে আসেন। কিন্ত চিকিৎসক আসার আগেই তাঁদের রোগী মারা যান।
চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, রোগীকে ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পরে জরুরি বিভাগে পেঁৗছে দেখেন রোগী মারা গেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে জানান ডা. মেহেদী।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল হক বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসককে অবরোধ করে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
Source: The Daily Kaler Kantho

