'চিকিৎসক-ক্লিনিক মালিকদের স্বার্থে' শিশু জন্মদানে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের হার দিন দিন বেড়ে চললেও এর ক্ষতিকর দিকটিতে নজর এড়ানো উচিত হবে না অভিভাবক বা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের। এ বিষয়ে সতর্ক করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সাধারণ শিশুদের তুলনায় অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান সেকশন) মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে প্রসবের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে মুটিয়ে যাওয়া রোগটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন চিলড্রেনস হসপিটালের একদল গবেষক এক হাজার ২২৫ জন মা ও তাঁদের তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর একটি গবেষণা চালিয়ে এ কথা জানান। এসব শিশুর মধ্যে প্রতি চারজনের একজন হলো সিজারিয়ান সেকশনে জন্ম নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের তিন বছরব্যাপী এ গবেষনায় মা ও শিশুদের ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে এসব শিশুর শরীরে ফ্যাটের (চর্বি) পরিমাণ কেমন, তাও পরিমাপ করে রাখেন বিশেষজ্ঞরা। এতে দেখা যায়, সিজারিয়ানে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ১৬ শতাংশ শিশুই তিন বছর বয়সে এসে মুটিয়ে গেছে। আর সাধারণভাবে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুদের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ মুটিয়ে গেছে।
এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধটি সম্প্রতি 'আর্কাইভস অব ডিজিজ ইন চাইলহুড' সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধটিতে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারে জন্ম নেওয়া শিশুরা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শ পায় না। এ কারণে তাদের শরীর এমন কিছু জীবাণু গ্রহণ করে, যা তাদের শরীরের বিপাকক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকলে তা খুবই ভালো হতো। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এত বেশি পরিমাণে থাকে যে এর ফলে তাদের শরীর গৃহীত ক্যালরি শুষে নিতে পারে না। ফলে শরীরে অধিক পরিমাণে ফ্যাট জমা হয়। আর এর অনিবার্য পরিণতি হলো মুটিয়ে যাওয়া।
গবেষকরা তাঁদের গবেষণায় উপসংহার টেনেছেন এই বলে যে গর্ভবতী মায়েদের তাঁদের অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আর যদি প্রয়োজন না হয়, এর পরও তাঁরা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি বেছে নেবেন কি না, সেটা তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ দিক বিবেচনা করেই নেবেন।
Source: The Daily Kaler Kantho

