বায়ুদূষণের সঙ্গে পুরোনো গেঁটেবাতের কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন গবেষকেরা। ‘আরথ্রাইটিস কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণামূলক নিবন্ধের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গবেষকেরা নার্সেস হেলথ স্টাডি থেকে তথ্য নিয়েছেন। এখানে নিবন্ধিত এক লাখ ১১ হাজার ৪২৫ জন সেবিকার তথ্য রয়েছে। ১৯৭৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতি দুই বছর পর পর তথ্যগুলো হালনাগাদ করা হয়। এই তিন দশকে ৮৫৮ জন গেঁটেবাতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন বলে সাময়িকীর নিবন্ধে বলা হয়েছে। অনেকের মধ্যে এ ধারণা প্রচলিত আছে যে, বায়ুদূষণের সঙ্গে গেঁটেবাতের যোগসূত্র রয়েছে।
বোস্টনের ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের মেডিসিন-বিষয়ক প্রশিক্ষক হাইমে হার্টের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। তিনি এক ই-মেইলে রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাইনি, যা প্রমাণ করে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের সঙ্গে বাতরোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে।’
পূর্ববর্তী কিছু ধারণা অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বাতরোগের সৃষ্টি করে। জেনেটিক কিছু কারণ, পরিবেশের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া বা হরমোন পুরুষের তুলনায় নারীর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও ধারণা প্রচলিত আছে।
আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুইডেনের যেসব নারী রাস্তার কাছে বা বায়ুদূষণ হয় এমন এলাকায় বাস করেন, তাঁদের বাতরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এই গবেষক দলটি নিবন্ধিত নার্সদের ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক, জ্বালানি কেন্দ্র বা নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় এমন বায়ুদূষণের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। এ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণা দলের প্রধান হাইমে হার্ট রয়টার্সকে বলেন, এসব বায়ুদূষণের সঙ্গে গেঁটেবাতের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ধূমপানের সঙ্গে এর সামান্য যোগসূত্র আছে।
তবে, এই গবেষণা করা হয়েছে অধিকাংশ শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবয়সী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নারীদের ওপর ভিত্তি করে। তাই এখনই এ বিষয়ে কোনো উপসংহারে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও হাইমে হার্ট মনে করেন।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-15/news/336769

