জাহাঙ্গীর হোসেন। বয়স ৪২ বছর। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কোলন ক্যান্সারের রোগী। দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারে ভুগে হোমিও এবং অ্যালোপ্যাথিসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করিয়েছেন। অ্যালোপ্যাথি ডাক্তাররা দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তাকে জানান, তার মলদ্বার অপারেশন করে বাইপাস করানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ওই রোগী আমার বন্ধু হোমিও ডাক্তার ফুয়াদের শরণাপন্ন হন। তিনি আরো দুই বন্ধু ডাক্তার মাসুদ ও ডা. মনিরের শরণাপন্ন হন। তারা তিনজন মিলে রোগীকে দেখে সাময়িক উপশমের জন্য যৎসামান্য ওষুধের ব্যবস্থা করে আমাদের শিক্ষক ও স্বনামধন্য ডাক্তার সাহাবুদ্দিন মিয়ার কাছে তাকে রেফার করেন। ১২ অক্টোবর ২০১২ রোগীকে সাহাবুদ্দিন স্যারের চেম্বারে আনা হয়।
রোগীর যেসব লক্ষণ ছিল
প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জ্বর আসে
শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও ফ্যাকাসে হয়ে গেছে
মলদ্বারে অসহ্য জ্বালা ও অস্বস্তি বোধ
দৈনিক ৫০-৬০ বার বাথরুমে যান কিন্তু পায়খানা হয় না, শুধু রক্ত যায়
যখন পায়খানায় বসেন, তখন মনে হয়, মলদ্বারে টিউমারের মতো কিছু একটা জিনিস আটকে আছে
এ অবস্থা প্রায় ৪-৫ মাস ধরে। দিন দিন তা বাড়ছে
ডাক্তার সাহেব কেইস টেকিং করার ১০ মিনিটের মধ্যে রোগীর মাথা থেকে একটা চুল নিয়ে হোমিও ওষুধের মধ্যে ঞৎধহংসরঃ করলেন। এর ১০ মিনিট পর স্যার রোগীকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার এখন কেমন লাগছে। রোগী বললেন, আমাকে তো কোনো ওষুধ দিলেন না। স্যার রোগীকে বললেন, আপনার মাথা থেকে চুল নেয়ার পর আপনার এখন কেমন লাগছে? রোগী বললেন, কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। এরপর স্যার প্রায় দুই-আড়াই ঘণ্টা রোগীর কেইস টেকিং নিলেন এবং রোগীকে বললেন, ওই সোফায় গিয়ে শুয়ে থাকুন। আপনি ৭টার আগে যেতে পারবেন না। কারণ, আজ ৭টায় যদি আপনার জ্বর না আসে, তবেই আমি আপনাকে ওষুধ দেব, অন্যথায় আমি আরো পরীক্ষা করব।
রাত ৮টা পর্যন্ত রোগীর জ্বর এলো না। এরপর স্যার নিশ্চিত হলেন, ঞৎধহংসরঃ করা ওষুধটি রোগীর জন্য সঠিক নির্বাচিত হয়েছে। তখন রোগীকে প্রশান্তির জন্য কয়েক বোতল পানিতে কী যেন দিয়ে রোগীকে বিদায় করলেন।
তারপর থেকে এখন পর্যন্ত রোগী প্রতি সপ্তাহে ওষুধ নিয়ে যান। বর্তমানে রোগীর বক্তব্য, জ্বর তেমন একটা আসে না। রক্তও তেমন যায় না। বাথরুমেও ৫০-৬০ বার যাওয়া লাগে না। মলদ্বারে প্রচ- ব্যথাও আগের মতো নেই। রোগীর ক্ষুধা ও খাওয়া বেড়েছে। ফ্যাকাসে অবস্থা নেই। মাঝে মাঝে রোগীকে দেখলে কেউ বলবে না, ওই লোক কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী। তার অবস্থা উন্নতির দিকে। একই পদ্ধতিতে আলসার, ক্যান্সার ও ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করা হয়।
এ ব্যাপারে স্যারের বক্তব্য হলো, এ পদ্ধতি হলো মহাত্মা হ্যানিম্যানের ঘ্রাণে ওষুধ প্রয়োগ পদ্ধতিরও এক ধাপ ওপরে, যা আবিষ্কার করেন ভারতের হোমিওবিজ্ঞানী ডা. সোহানী।
সুতরাং আমি হোমিও চিকিৎসকদের অনুরোধ করব, রোগীর মুখে ওষুধ দেয়ার আগে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করার জন্য হেয়ার ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনি সঠিক ওষুধটি রোগীর জন্য নির্বাচন করতে পেরেছেন কিনা। তারপর নিশ্চিত হয়ে রোগীর মুখে ওষুধ দিন। অন্যথায় রোগীর মুখে ভুল ওষুধ ঢেলে দিলে তা আর ফেরত নিতে পারবেন না।
সূত্র - jjdin.com

