home top banner

News

বাংলাদেশে আত্মহত্যা
23 November,13
Tagged In:  suicide and mental illness   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   129

বিশ্বের গড় আত্মহত্যা লাখে ১৪.৫, অথচ আমাদের দেশে তা লাখে ৮-১০ জন। ২০০২ সালের জরিপ অনুযায়ী আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কায় আত্মহত্যার হার লাখে ৫৫ জন, ভারতে ১০.৫ জন। জাপানে এ সংখ্যা লাখে ২৫.২ জন, তাইওয়ানে ১৩.৫ জন এবং আমেরিকায় ১০.৭ জন। কে কী কারণে আত্মহত্যা করে তা আত্মহত্যাকারী যেমন সব সময় বলে যায় না, তদ্রƒপ অন্যান্য তথ্য থেকেও উদঘাটন করা কঠিন। আত্মহত্যাকারীদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন তথ্য, নমুনা, নথি কিংবা আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে যেসব কারণ জানা যায়, তা হচ্ছে পারিবারিক ও বৈবাহিক সমস্যা, শারীরিক ও মানসিক রোগ, প্রেমে বিফলতা, যৌতুক যন্ত্রণা, পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বেকারত্ব, অবৈধ যৌনকর্ম, অবৈধ সন্তানধারণ ও সঠিক শিক্ষা বা মূল্যবোধের অভাব। সাধারণত আমাদের দেশে এসব কারণেই লোকজন আত্মহত্যার মাধ্যমে বিভিন্ন জ্বালা বা যন্ত্রণা থেকে নিজেকে মুক্ত করে চিরদিনের জন্য। মানসিক রোগীর মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। বিষণœ রোগীর ৪৬.২ শতাংশ, ব্যক্তিত্বে সমস্যার রোগীদের ৭.৭ শতাংশ, নেশাকারীদের ৩.৮ শতাংশ, সিজোফ্রেনিয়ার ২.৮ শতাংশ লোক আত্মহত্যা করে। এসব রোগীর সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে আত্মহত্যার হার অনেক কমে যায়। শারীরিক রোগীর মধ্যে মৃগী রোগীরা ৩.৮ শতাংশ, গ্যাস্ট্রিক রোগীরা ২.৯ শতাংশ, প্রস্রাবে যন্ত্রণা, কোমরে ব্যথার রোগীরা ২.৯ শতাংশ, যৌন সমস্যা ও মাথা ব্যথার রোগীরা ১.৮ শতাংশ আত্মহত্যা করে। এসব শারীরিক রোগীদেরও সঠিক চিকিৎসা হলে আত্মহত্যার হার কমে আসবে। আমাদের দেশে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার হার খুব বেশি। লাখে ২৯ জন; যা আমাদের দেশের গড় আত্মহত্যার প্রায় তিন গুণ। এর কারণ খুব স্পষ্ট নয়। তবে ওই এলাকায় আত্মহত্যার জরিপকারীরা আত্মহত্যার এ ব্যাপক পার্থক্যের কারণ হিসেবে যা বলেন তা হচ্ছেÑ সীমান্ত এলাকা হিসেবে এক ধরনের অস্থিরতা এলাকায় সর্বদাই বিরাজমান, চোরাচালান ও চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বিরোধ এখানে লেগেই থাকে, আত্মহত্যার সঠিক রিপোর্ট আগ থেকেই হয়ে আসছে; যা অন্যান্য এলাকায় হয় না, একজনের আত্মহননের ঘটনা অন্যকে এ কাজে উৎসাহিত করে এবং সহজেই এ পথটাকে আত্মহননের পথ হিসেবে বেছে নেয় যাকে ‘সোস্যাল ইমিটেশন’ বলে। যশোর-ঝিনাইদহে এখনো আত্মহত্যার হার অন্যান্য জেলার দ্বিগুণেরও বেশি। আত্মহত্যা পরিকল্পিত ও অপরিকল্পিত দুই ভাবেই হয়ে থাকে। আত্মহত্যার আগে অনেকেই পরিচিত জন অথবা আশপাশের লোকদের তার ইচ্ছার কথা জানায়। কেউ মাসাধিক ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এ কাজ করে। কেউ আত্মহত্যা করার পাঁচ মিনিট আগেও জানে না যে সে এ কাজ করবে। কোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথে হঠাৎ করে রাগের মাথায় সে এ কাজ করে ফেলে। এটিকে অপরিকল্পিত ও ‘ইমপালসিভ সুইসাইড’ বলে। অনেকে মরার ইচ্ছা নিয়েই এ কাজে ঝাঁপ দেয়। হয় কেউ দেখে ফেলার কারণে অথবা দুর্বল কোনো মাধ্যম অবলম্বনের কারণে এরা বেঁচে যায়। আবার বিপরীতও হয়। বাবা-মা বা পরিবারের কারো সাতে রাগ করে ঘুমের বড়ি কিংবা অন্য কোনো দুর্বল মাধ্যম বেছে নিয়ে আত্মহত্যার জন্য ঝাঁপ দেয় অনেকেই। এরা আসলে মরতে চায় না। এমন একটা ঘটনার মাধ্যমে তার দাবিদাওয়া আদায় করতে চায়, সবার নজর কাড়তে চায়। দেখা গেল সত্যি সত্যি এদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করছে। আমাদের দেশে ১১-২৫ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৭৪.৬১ শতাংশ। এ ছাড়াও চল্লিশ পঞ্চাশের লোকজন, বৃদ্ধ এরাও আত্মহত্যা করে। আমাদের দেশে মহিলারা (৭৩.৪৫ শতাংশ) এবং গৃহিণীরা (৬২.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যা করে, অথচ অন্যান্য দেশে পুরুষেরা বেশি আত্মহত্যা করে এবং তালাকপ্রাপ্ত বা প্রাপ্তরা, বিচ্ছেদপূর্ণ জীবনযাপনকারীরা, বেকারেরা বেশি আত্মহত্যা করে। আমাদের দেশে বিবাহিতদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি হলেও অন্যান্য দেশে অবিবাহিত বা সিঙ্গেল যারা তারা বেশি আত্মহত্যা করে। আমাদের দেশে অশিক্ষিতরা (৬৯.৫৬ শতাংশ) আত্মহত্যা করে বেশি অন্যান্য দেশে পেশাজীবী (চিকিৎসক, আইনজীবী, নির্বাহীরা) বেশি আত্মহত্যা করেন। আমাদের দেশে বিষপানে আত্মহত্যা করে বেশির ভাগ লোক (৫৮.৪৬ শতাংশ)। বিষের মধ্যে পোকামাকড় মারার ওষুধ, ধুতুরা, মদ, ঘুমের বড়ি সবই আছে। আছে স্পিরিট, বাংলা মদ। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যাও আমাদের দেশে কম নয় (৪০.৯০ শতাংশ)। গুলি করে আত্মহত্যা করে আমাদের দেশে খুব কম, যা পাশ্চাত্যে অনেক বেশি। উঁচু থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করার ঘটনা আমাদের দেশে বিরল নয়। গ্রামগঞ্জ এমনকি শহরেও উল্লিখিত ‘বিষ’ সহজেই পাওয়া যায় হাতের কাছে; তাই এ মাধ্যমই আমাদের দেশে জনপ্রিয়। আত্মহত্যা হোক কি না হোক, কেউ আত্মহত্যার জন্য চেষ্টা করলেই এটি আইনের চোখে দণ্ডনীয়।

সূত্র - dailynayadiganta.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ADHD diagnoses rise to 11% of kids
Previous Health News: হোমিও চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')