home top banner

News

সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র চারটি নিরাময়কেন্দ্রই দুরবস্থায়
25 August,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   17

দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়লেও সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রগুলো রয়েছে দুরবস্থায়। সরকারি চারটি কেন্দ্রের মধ্যে খুলনার কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা কার্যক্রমই বন্ধ ১০ বছর ধরে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কেন্দ্রের জরুরি বিভাগ বন্ধ দীর্ঘদিন ধরে।প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, চিকিৎসকসহ জনবলসংকটে কেন্দ্রগুলো মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। এ ছাড়া এসব কেন্দ্রে নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের সমস্যা নিরাময়ই জরুরি হয়ে পড়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, শূন্যপদে জনবল চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেখান থেকে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় ২৫০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করাসহ চারটি নিরাময়কেন্দ্রের সমস্যার সমাধান করা যাবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০০৮ সালে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিল, বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী সে সময় দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ৪৬ লাখ। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গত পাঁচ বছরে মাদকাসক্তদের সংখ্যা আরও কয়েক লাখ বেড়েছে। কিন্তু মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সরকারি পর্যায়ে চারটি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নিবন্ধিত ৭৬টির মতো মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র রয়েছে। বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা ব্যয়বহুল। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই হেরোইনে আসক্ত। এরপর রয়েছে মরফিন, ফেনসিডিল, পেথিডিন, বুপ্রেনরফাইন, গাঁজা ও ইয়াবা বড়িতে আসক্ত ব্যক্তিরা।
কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের চিকিৎসকেরাই প্রেষণে: সরকারি কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র রাজধানীর ৪৪১ তেজগাঁও শিল্প এলাকায়। কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসক, নার্স দিয়ে এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রধান কনসালট্যান্ট, দুজন আবাসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও দুজন পুনর্বাসন কর্মকর্তা। তবে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ও একজন রাঁধুনির পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জরুরি বিভাগ নেই, বহির্বিভাগ খোলা থাকে বেলা তিনটা পর্যন্ত। ৪০ শয্যায় সব সময়ই রোগী থাকে। শয্যা খালি হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে রোগী ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হূদেরাগসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কি না, তা নির্ণয়ে এক্স-রে, ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার দরকার হলেও এখানে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই। ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করাতে বাইরে পাঠাতে হয়।

২০০৭ সালে এখানে নিরাময়কেন্দ্রে ১০০ শয্যার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে ১৫০ শয্যার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনো চালু হয়নি।

কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের পরিচালক ও প্রধান কনসালট্যান্ট সৈয়দ ইমামুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই কেন্দ্রে গত বছর ৭৪৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগ চালু করতে আরও চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। তিনি বলেন, ভর্তি হওয়া মাদকাসক্তকে ২৮ দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিরাময়ের জন্য এরপর তাঁদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া জরুরি। কিন্তু পুনর্বাসনকেন্দ্র চালু না হওয়ায় তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়। কিন্তু কাউকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে তিন মাস পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা জরুরি।

পরিচালক বলেন, বাড়ি ফেরার পর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কারও কারও দ্বিতীয় দফায় ভর্তি হওয়ার ঘটনাও আছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের নিরাময় ও সুস্থ করে তুলতে প্রশিক্ষিত জনবল ও মানসম্মত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।

ভাড়াবাড়িতে নিরাময়কেন্দ্র: চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি দোতলা বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে চলছে সরকারি পাঁচ শয্যার আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের পাঁচটি শয্যা আছে যে ঘরে সেটি স্যাঁতসেঁতে। কোনো রোগী নেই। অবশ্য নথিতে দেখা যায়, গত এক বছরে সেখানে ৬৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিরাময়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক শফিউল হাসান বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই কেন্দ্রে পানি ঢোকে। এ কারণে রোগী থাকতে চান না। চিকিৎসা কর্মকর্তা আছেন মাত্র একজন। জরুরি বিভাগ চালু করতে হলে অন্তত ছয়জন চিকিৎসক দরকার।

১০ বছর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ: খুলনার ময়লাপোতায় পাঁচ শয্যার সরকারি আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে মেডিকেল তত্ত্বাবধায়কসহ চিকিৎসকের পদ দুটি। কিন্তু এই দুটি পদই শূন্য থাকায় এই কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিঠি অনুযায়ী, চিকিৎসা কার্যক্রম না থাকলেও ওই কেন্দ্রের অন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা খাতে বছরে ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫০১ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

চিকিৎসক আছেন একজন: রাজশাহীর আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রটি অবস্থিত উপশহরের একটি ভাড়াবাড়ির নিচতলায়। পাঁচ শয্যার এই কেন্দ্রে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্স। একজন চিকিৎসক ও রাঁধুনির পদ শূন্য। রাঁধুনি না থাকায় কেন্দ্রে রোগীদের জন্য রান্নাও হয় না।

চিকিৎসা কর্মকর্তা রবিউল শেখ বলেন, রোগীরা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসেন।

সরকারি কেন্দ্রগুলোতে জনবলসংকটের বিষয়ে নাজমুল আহসান মজুমদার বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পদ শূন্য থাকলেও চিকিৎসকেরা এখানে আসতে চান না। বারবার আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব শূন্যপদ পূরণ করেনি।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ডিএনএ পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে
Previous Health News: চিকিৎসকেরা নৈতিকভাবে দৃঢ় হলে রোগীর ব্যয় ৩০ শতাংশ কমবে

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')