home top banner

News

ডিএনএ পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে
25 August,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   15

ডিএনএ পরীক্ষাকে আইনের আওতায় আনতে সরকার ডি-অক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) ২০১৩ আইনের খসড়া তৈরি করেছে। আইনটি কার্যকর হলে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আদালতের কার্যধারায় চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ডিএনএ জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণসহ নানা কাজে ব্যবহার করা হয়।
ডেনমার্ক সরকারের সহায়তায় ২০০৬ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টি সেক্টরাল কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি কাজ শুরু করে। এরপর রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। আইনটি কার্যকর হলে এসব ল্যাবরেটরি আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।
জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যাপক শরীফ আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষ্য আইনসহ বিভিন্ন আইনে ডিএনএ পরীক্ষার কথা উল্লেখ নেই। বিষয়টিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্যই এটা করা হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেইজ প্রস্তুত করা হবে। ডেটাবেইজ প্রস্তুত ও সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে পারবে। আইনের আওতায় পরিচালিত ডিএনএ বিশ্লেষণ ফলাফলসংবলিত কোনো দলিল এবং মতামত প্রদানকারী কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে যেতে হবে না।
শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, বর্তমানে ডিএনএ সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের অভাব আছে। যাঁরা আছেন তাঁদেরও সারা বছর সাক্ষী হিসেবে কোর্টে ঘুরতে হয়। আইনটি কার্যকর হলে সে সমস্যার সমাধান হবে।
সম্মতি নিতে হবে: খসড়ায় বলা হয়েছে, অপরাধের শিকার, সন্দেহভাজন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অথবা অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির ‘দেহগত পদার্থ’ নেওয়ার জন্য পুলিশকে ওই ব্যক্তিকে অনুরোধ করে লিখিত সম্মতি নিতে হবে। রক্ত, লালা, বীর্য, চুল, হাড়, দাঁত, কোষকলার নমুনা অথবা ব্যক্তির দেহের যেকোনো অংশ থেকে গৃহীত দেহরস, যা ডিএনএ বিশ্লেষণের আওতায় আনা হলে প্রয়োজনীয় ডিএনএ উপাত্ত পাওয়া যেতে পারে, খসড়ায় তাকে ‘দেহগত পদার্থ’ বলা হয়েছে।
পুলিশ অনুরোধ করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেহগত পদার্থ দিতে রাজি নন বলে ধরে নিতে হবে। তখন রাষ্ট্র বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁর সম্মতি ছাড়াই দেহগত পদার্থ সংগ্রহ করার লক্ষ্যে আদালতে আবেদন করতে পারবে। কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালত নমুনা সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করতে বা আটক রাখার আদেশ দিতে পারবেন।
শাস্তি: আইনের খসড়ায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ডিএনএ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। পরিষদের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা বা ডিএনএ-সম্পর্কিত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না, করলে সাত বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
অননুমোদিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডিএনএ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, হস্তান্তর বা প্রকাশ করলে শাস্তি পেতে হবে। ডিএনএ বিশ্লেষণের ফলাফল সংরক্ষণ না করে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস, পরিবর্তন, দূষিত বা জাল করলে জড়িত ব্যক্তিরা দণ্ডিত হবেন। আইনে অনুমোদিত নন, এমন কেউ ডিএনএ-সম্পর্কিত ডেটাবেইসে প্রবেশ করলে তিনিও শাস্তি পাবেন।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: হাড়গোড়ের ডিএনএ পরীক্ষার দাবি
Previous Health News: সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র চারটি নিরাময়কেন্দ্রই দুরবস্থায়

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')