চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। আর রোগীদের কাছে সমস্যাটি পরিচিত ‘হাইপো’ হওয়া বা ‘সুগার নিল হয়ে যাওয়া’।
৪৭ শতাংশ টাইপ-২ ও ৭৩ শতাংশ টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর জীবনে কোনো না কোনো সময় এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বা হতে পারে। এ সময় রক্তে শর্করা কমে যায়। শর্করা হচ্ছে মস্তিষ্কের একমাত্র শক্তি সরবরাহকারী উপাদান। তাই কয়েক মিনিট এই সরবরাহ বন্ধ থাকলে রোগী অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে যেতে পারে, মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি কোমায় চলে যেতে পারে বা মৃত্যু হতে পারে।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগীর কর্মক্ষমতা নষ্ট করে, আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায়, হূদেরাগের ঝুঁকি বাড়ায় ও বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে।
লক্ষণ
বুক ধড়ফড় করা, কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঘাম, বিভ্রান্তি, মনোযোগে ঘাটতি, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, অস্বাভাবিক আচরণ, অচেতন হয়ে পড়া ও খিঁচুনি।
করণীয়
লক্ষণ টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব হলে গ্লুকোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তে শর্করা মেপে নিন। যদি ৩ দশমিক ৯ মিলিমোল বা তার নিচে চলে গিয়ে থাকে, তবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ছাড়া কেবল লক্ষণ বিবেচনা করেই সঙ্গে সঙ্গে চিনির শরবত, জুস, মিষ্টিদ্রব্য, চকলেট ইত্যাদি খেয়ে নিন। এতে রক্তে শর্করা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে। তবে যতক্ষণ ওষুধ বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বারবার শর্করা কমার প্রবণতা থেকে যাবে। তাই একটু পরপর কিছু খান। নতুন করে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে ওপরের এই কাজগুলো আপনি তখনই করতে পারবেন, যদি আপনি পূর্ণমাত্রায় সচেতন থাকেন। তা না হলে রোগীর স্বজন বা পাশের মানুষটিকেই এসব পদক্ষেপ নিতে হবে। রোগী অচেতন হয়ে পড়লে শিরায় গ্লুকোজ দেওয়ার জন্য অতি দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাইপোগ্লাইসেমিয়া অনেক কম হয় এমন ইনসুলিন এখন বাজারে পাওয়া যায়।
প্রতিরোধ
সময়মতো ও পরিমাণমতো খাদ্য গ্রহণ করুন। কখনোই এক বেলার খাবার বাদ দেবেন না। মূল খাবারের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে হালকা খাবার খান।
বাইরে যাওয়ার সময় সঙ্গে কিছু খাবার রাখুন।
নিয়মিত রক্তে শর্করা পরিমাপ করে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করে নিন।
বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা, বমি, ডায়রিয়া, জ্বর, অরুচি বা বয়োবৃদ্ধদের বেলায় বিশেষ সচেতনতা দরকার।
রাতে শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতায় ঘুমানোর আগে হালকা কিছু খাওয়া এবং রাতের ওষুধ ও ইনসুলিনের মাত্রা পুনর্বিবেচনা করুন। খালি পেটে অনেক ব্যায়াম করবেন না।
বারবার এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
সূত্র - প্রথম আলো

