শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণত স্বল্পস্থায়ী। পানিশূন্যতা পূরণ, ঘন ঘন বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না। ৭-১০ দিনের মাথায় প্রায় সব বাচ্চা সুস্থ হয়ে ওঠে। তা ছাড়া বেশির ভাগ ডায়রিয়া ভাইরাসজনিত বলে অ্যান্টিবায়োটিকেরও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু দুই সপ্তাহের পরও যদি ডায়রিয়া না সারে এবং শিশু গুরুতর বা মধ্যমমাত্রার পানিস্বল্পতায় ভোগে, তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।
—দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ায় ভোগা শিশুর রোগের কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করতে হবে এবং তার প্রতিকার করতে হবে। শিশুর পানি ও অন্যান্য খাবার বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে প্রস্তুত বা পরিবেশন করা হয় কি না, লক্ষ করুন।
—শিশুর ওজন কমে যাচ্ছে কি না, পানিশূন্যতায় ভুগছে কি না, লক্ষ রাখুন।
—শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনমতো ক্যালরি, আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে কি না, দেখুন। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেলে তার ক্ষতিগ্রস্ত আন্ত্রিক ঝিল্লির পর্দা আবার তৈরি হতে পারে এবং তার হজমশক্তির উন্নতি হয়।
—এমন খাবার বা পানীয় শিশুকে খেতে দেবেন না, যা তার হজম হয় না বা মল নরম করে।
—যেসব শিশু বুকের দুধ পান করে না, তার খাবারে গাভির দুধ বা ল্যাকটোজসমৃদ্ধ উপাদান কমিয়ে আনা দরকার। অনেক সময় শিশুর ল্যাকটোজ অসহনশীলতা থাকে ও বারবার ডায়রিয়া হয়।
—দেড় মাস থেকে ছয় মাস বয়সের মধ্যে এক মাস বিরতিতে দুই ডোজ রোটা ভাইরাস টিকা খাওয়ানো হলে তা ডায়রিয়া থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পারে।
—ডায়রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হলে, মলের সঙ্গে রক্ত গেলে বা ওজন দ্রুত কমতে থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
—ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পর ভিটামিন ও খনিজ পরিপূরক এবং জিংক ট্যাবলেট ১০ দিনের জন্য সেবন করতে হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

