home top banner

News

নিশ্চিত শারীরিক ঝুকি নিয়ে, সব জেনেও কি খাবেন কোকা-কোলা ?
08 June,14
Tagged In:  coca cola  coca cola effect   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   162

coca-cola

কোলা জাতীয় পানীয় পান করার পরে আমাদের শরীরে যা ঘটে-

 
১. ১০ মিনিট পর: একগ্লাস কোলাতে প্রায় ১০ চামচ চিনি থাকে, যেটা পান করা মাত্রই অঙ্গসমূহের কাজ থেমে যেতে চায়। আমাদের বমির উদ্রেক হয় না কোলায় ফসফরিক এসিড উপস্থিত থাকার কারনে। ফসফরিক এসিড চিনির কার্যকারিতায় বাধা দান করে।
 
২. ২০ মিনিট পর: রক্তে ইনসুলিনের মাত্রায় হঠাৎ উত্তরণ ঘটে। যকৃৎ সবটুকু চিনিকে চর্বিতে পরিণত করে।
 
৩. ৪০ মিনিট পর: ক্যাফেইনের আত্মীকরণ ঘটে। চোখের মনি বড় হয়ে যায়। প্রেসার বেড়ে যায় কেননা যকৃৎ রক্তপ্রবাহে অধিকতর চিনি সরবরাহ করে। এডেনোসিন রিসেপ্টরগুলো ব্লক হয়ে যায়, ফলস্রুতিতে অনিদ্রা দেখা দেয়।
 
৪. ৪৫ মিনিট পর: ডোপামিন হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যা মস্তিষ্কে আনন্দানুভুতি তৈরি করে। হেরোইনও একই ভাবে কাজ করে।
 
৫. ১ ঘন্টা পর: ফসফরিক এসিড অন্ত্রে গিয়ে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং জিংকের সাথে বন্ড তৈরি করে যেগুলো হাড়ের প্রয়োজনীয় উপদান। এই সময় প্রস্রাবে ক্যালশিয়ামের পরিমানের আধিক্য থাকে।
 
৬. ১ ঘন্টা অধিক সময় পর: প্রস্রাবের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কোলার সাথে গৃহীত সব পানি বেরিয়ে যায় যার সাথে হাড় গঠনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে।
 
এখন দেখা যাক কোলা জাতীয় পানীয় কিভাবে গঠিত হয়। উদাহরণ হিসেবে কোকাকোলা নেওয়া হল। এই পানীয়ে যে উপাদানগুলো থাকে সেগুলো হচ্ছে:
 
কার্বনেটেড ওয়াটার: কোলার ফুঁসে ওঠার জন্য দায়ী। এটা পাকস্থলীতে অম্লত্ব বৃদ্ধি করে এবং এসিডিটির উপসর্গ দেখা যায়।
 
E150D: এক ধরনের রং, যা চিনির প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়াকরণে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ কোকাকোলায় অ্যামোনিয়াম সালফেট ব্যাবহৃত হয়।
 
E952 – সোডিয়াম সাইক্লামেট: চিনির প্রতিস্থাপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খুবই ক্ষতিকর পদার্থ, 1969 সালে Federal Drug Agency কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে অন্য অনেক দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়।
 
E951 – এইসসালফেম পটাশিয়াম: চিনির চেয়ে ২০০ গুণ মিষ্টি, মিথাইল ইথার যুক্ত যা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাছাড়া এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসপারাজিনিক এসিড যা স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নেশা সৃষ্টি করে।
 
E951 – অ্যাসপারটেম: ডায়বেটিসের রোগীদের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। বর্ধিত তাপমাত্রায় এটা ভেঙ্গে মিথানল এবং ফিনাইল এলানিন তৈরি হয়। মিথানল খুবই ভয়ঙ্কর বস্তু। ৫-১০ মিলিলিটার সেবনে স্থায়ী অন্ধত্ব তৈরি হতে পারে। আর উষ্ণ অবস্থায় অ্যাসপাটেম ফরমালডিহাইডে পরিণত হতে পারে যার আরেক নাম ফরমালিন (দ্রবীভূত অবস্থায়)! তাছাড়া এই বস্তুটি ব্রেইন টিউমার, সিরোসিস, এপিলেপ্সি, স্থায়ী ক্ষয়রোগ, আলঝেইমার, মানসিক অবসাদ এবং যক্ষা ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।
 
E338 – অর্থোফসফরিক এসিড: ত্বক ও চোখে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। এটা শরীরে ক্যালসিয়াম এবং আয়রণ আত্মীকরণে বাধা দেয়।
 
E330 – সাইট্রিক এসিড: একটি প্রাকৃতিক উপাদান। লেবু জাতীয় ফলে পাওয়া যায়।
 
E221 – সোডিয়াম বেনজোয়েট: এটা একধরনের প্রিজারভেটিভ। ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে এটা শরীরে প্রবেশ করলে DNA এর ক্ষতিসাধন করে।
 
এতসব তথ্য সত্ত্বেও আপনার যদি মনে হয় কোলা ছাড়া আপনার জীবন অচল তাহলে নিচের বিকল্প ব্যবহারগুলো ভাবতে পারেন।
 
# যুক্তরাস্ট্রের অনেক ডিস্ট্রিবিউট ট্রাকের ইঞ্জিন পরিষ্কার করার জন্য কোকাকোলা ব্যাবহার করে।
# যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ অফিসারেরা গাড়িতে কোকাকোলা রাখেন যেন দুর্ঘটনার পর রক্ত পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
# মরিচারোধে এবং গাড়ির চকচকে ভাব ধরে রাখার জন্য কোকাকোলা বেশ কাজের জিনিস।
# মরিচাযুক্ত স্ক্রু খোলার জন্য একটি কাপড়ে কোক চুবিয়ে স্ক্রুর চারপাশে ভালো করে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর খুলে ফেলুন।
# ইন্ডিয়াতে কয়েকবছর আগে কোলা জাতীয় পণ্যে কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে বেশ হুলস্থুল পড়ে যায়। সেখানে কিছু কিছু চাষী দামে সস্তা হওয়ায় কীটনাশকের পরিবর্তে জমিতে কোকাকোলা ব্যাবহার করেন।
 
নিঃসন্দেহে কোকাকোলা একটি অতি উপকারী বস্তু। তবে এটার অপব্যবহার রোধ করুন। পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন!
 
সূত্র - সময়ের কন্ঠ

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বাগান থেকেই বিষাক্ত!
Previous Health News: চিকিৎসা সেবা দোড়গরায় পৌছাতে শিগগিরই ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')