আজ ৮ম বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, `অর্থনৈতিক মন্দায় স্বাস্থ্য সংরক্ষণে সমন্বিত শক্তিতে ব্রতী হউন`। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বংশগত এই রোগ থেকে মুক্তি দিতে, কেবল সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র উপায়। থ্যালাসেমিয়া বিশ্বজুড়েই চরম উদ্বেগের কারণ। মারাত্মক হারে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির হার কমে যাওয়া এই জটিল ব্যাধির ওষুধ বের হয়নি আজো। আক্রান্তের দেহে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ তো কমেই, কমে যায় লোহিত কণিকার আয়ুও। রোগীদের প্রতি মাসে অন্যের রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। উদ্বেগের খবর হচ্ছে, এদেশে ক্রমশ বাড়ছে থাকা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। কেবলমাত্র পাবনাতেই ৫২০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীর সন্ধান পেয়েছে বলে জানিয়েছে একটি বেসরকারী সেবা সংস্থা। আরো ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। সারাদেশে এ রোগে আক্রান্ত সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিশু। দেশে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ এ রোগের জীবাণু বহন করছে। থ্যালাসেমিয়া দিবস পালন উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি এক আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, শিশুদের কান্না আমরা আর শুনতে চাই না। আমাদের আন্দোলন শুরু করতে হবে। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধেই মুক্তি। সচেতনতাই পারে এই রোগ থেকে মুক্ত করতে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, যারা হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডার বাহক তারা যদি অন্য কোন হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডার বহনকারীরা সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে সন্তানদের রোগাক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে। কিছু কিছু দেশে বিয়ের আগেই উভয়েরই রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া বাহক সনাক্ত করা হচ্ছে।
সূত্র -risingbd.com

