খাবারের সঙ্গে কাঁচা লবণ কম খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যু ঝুঁকি ব্যাপক হারে কমে যায়। এ বিষয়ে গোটা ব্রিটেনজুড়ে এক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৈরিকৃত বা বাসায় রান্না করা খাবারে বেশি পরিমাণে লবণ খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির কারণে জনগণ অনেক সচেতন হয়েছেন। বিগত সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যেসব আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয় তার ফলাফল কী হয়েছে, সে বিষয়ে গবেষণা চালায় লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস।
এর আগে ২০০৩ সালেও একবার ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকে খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা কম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া সাড়ে ৩১ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা পরিচালিত হয়। দেখা যায়, যারা সচেতন হয়েছিলেন তাদের লবণ খাওয়ার মাত্রা ১৫ শতাংশ কমে গেছে। সেইসঙ্গে স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু ৪২ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
ওই সময়ের মধ্যে ধুমপান এবং কোলেস্টরেল গ্রহণের মাত্রাও কমে গেছে মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি রক্তচাপজনিত সমস্যাও বেশ কমেছে।
এই গবেষণায় ব্রিটেনের গবেষকরা আরো দেখেছেন, আমেরিকার চেয়েও তাদের দেশে জনগণের মধ্যে সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা অনেক কমে গেছে।
ইউসি সানফ্রান্সিসকোর পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ড. রবার্ট লাস্টিং লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসকে জানায়, ব্রিটেনে রাজনৈতিক অ্যাকশন গ্রুপ 'অ্যাকশন অন সল্ট' সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং ব্রিটেনের খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খাবারে লবণ ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে আনছে। এতে দারুণ কার্যকর ফলাফল পাওয়া গেছে। আমেরিকাতেও একটি দল দাঁত এবং নখের ওপর এমন কাজ করছে।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

